বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে একের পর এক আলোচনা-সমালোচনায় জর্জরিত আর্জেন্টিনা। সম্প্রতি দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘টোদো নোতিসিয়াস’-এর একটি বিশেষ অনুষ্ঠান তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্পেনের কাছে ফাইনালে ১-০ গোলে হারের পর আলবিসেলেস্তে শিবিরের ব্যর্থতার জন্য একটি আন্তর্জাতিক ‘ষড়যন্ত্রকে’ দায়ী করেছে ওই চ্যানেলটি। এই অভিযোগে বিশ্বজুড়ে ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সবার ওপরে নাম রয়েছে মিশরীয় কোচ হোসাম হাসানের।
বিশ্বকাপের শেষ ১৬তে মিশরের বিদায়ের পর ফিফা এবং লিওনেল মেসির প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন হোসাম হাসান। ‘বিইন স্পোর্টস’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তীব্র ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘আমরাই ভালো খেলেছিলাম, কিন্তু যা ঘটেছে তা একেবারেই অন্যায়। আমরা একটি পেনাল্টি ও একটি বৈধ গোল থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এটা কি কেবল মার্কেটিংয়ের জন্য? তারা কি শুধু মেসিকে টিকিয়ে রাখতে চায়?’ এই মন্তব্যের জেরে তাকেই আর্জেন্টিনার মূল সমালোচকদের তালিকায় শীর্ষে রাখা হয়েছে।
তালিকার অন্যান্য আলোচিত মুখের মধ্যে রয়েছেন বৃটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগান। ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘হিংসাত্মক’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তালিকায় নাম রয়েছে হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল জ্যাকসনেরও, যিনি আর্জেন্টিনাকে ‘সবচেয়ে বর্ণবাদী দেশ’ বলে আখ্যায়িত করেন।
এছাড়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কট্টর সমর্থক ও জনপ্রিয় ইউটিউবার ‘আইশোস্পিড’-এর নামও রয়েছে এই তালিকায়। স্পেনের জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন এই তারকা স্ট্রিমার।
রাজনীতি ও সংস্কৃতির জগতের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকেও এই ‘ষড়যন্ত্রকারী’ তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লউদিয়া শেইনবাউম, স্প্যানিশ গায়িকা রোজালিয়া এবং চিলিয়ান অভিনেতা পেড্রো প্যাসকেল।
আর্জেন্টাইন চ্যানেলের এই প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দর্শকদের একাংশ এটিকে জাতীয় দলের যৌক্তিক প্রতিরক্ষা হিসেবে দেখলেও, অনেকেই এটিকে চরম বাড়াবাড়ি বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, সাধারণ সমালোচনা ও ভিন্নমতকে একটি সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরা স্রেফ হাস্যকর।
