তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ

আরব বসন্তের আঁতুরঘর

তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে ব্যাপক সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট কায়েস সায়েদের পাঁচ বছর পূর্বে জরুরি শাসন জারি করে। এখনো জরুরি অবস্থার অবসান না হওয়ায় হাজার হাজার তিউনিসীয় নাগরিক পদযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট সায়েদের পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি তারা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০১১ সালে তিউনিসিয়ায় শুরু হয় আরব বসন্ত। এরপর কয়েকবার ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সর্বশেষ মসনদে বসেন কায়েস সায়েদ। তিনি জরুরি অবস্থা জারি করে দেশ পরিচালনা করছিলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

শনিবার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের হাবিব বোর্গুইবা এভিনিউতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। ২০২১ সালের ২৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট সায়েদ পার্লামেন্ট স্থগিত করে অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার জন্য যে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই নাগরিকেরা রাস্তায় নেমে আসেন। আন্দোলনকারীরা রিপাবলিক স্কয়ার থেকে শুরু করে মিউনিসিপ্যাল থিয়েটারের দিকে পদযাত্রা করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘সায়েদ দূর হটো’, ‘স্বাধীনতা, কাজ ও জাতীয় মর্যাদা’ এবং ২০১১ সালের গণবিপ্লবের বিখ্যাত স্লোগান ‘জনগণ সরকারের পতন চায়’ নতুন করে উচ্চারণ করেন। আন্দোলনকারীরা রাজনৈতিক বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানান। বিরোধী জোমহৌরি পার্টির মুখপাত্র উইসাম সঘায়ার জানান, রাজনৈতিক ও নাগরিক শক্তি হিসেবে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা তুলে ধরতেই তারা রাজপথে নেমেছেন।

এননাহধা পার্টির মুখপাত্র ইমেদ আল-খামিরি জানান, সাধারণ নাগরিকরা সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও সরকারি পরিষেবার অবনতিতে চরম ক্ষুব্ধ হওয়ায় আন্দোলন এখন শুধু বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০১১ সালে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক জিন এল আবিদিন বিন আলির পতনের মধ্য দিয়ে তিউনিসিয়ায় যে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, সায়েদের একচ্ছত্র শাসনের ফলে তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। অধ্যাদেশের মাধ্যমে শাসন শুরুর পর থেকে সায়েদ বহু বিচারককে বরখাস্ত করেন। তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপান এবং বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করেন। যার মধ্যে অন্যতম ৮৫ বছর বয়সী সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার রাশেদ ঘানুচি, যাকে সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রেসিডেন্ট কায়েস সায়েদ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি নির্মূল ও বিশৃঙ্খলা রোধেই তিনি এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং দেশের কোনো নাগরিক অধিকার খর্ব করা হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন