আগামীকাল অস্ট্রেলিয়া মোবাইলে একযোগে জরুরি পরীক্ষামূলক সতর্কতা সাইরেন

ফন্ট সাইজ:

আগামীকাল সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় অস্ট্রেলিয়াজুড়ে লাখো মোবাইল ফোনে একযোগে বেজে উঠবে উচ্চস্বরের জরুরি সতর্কতা সাইরেন। প্রথমবারের মতো দেশের নতুন জাতীয় জরুরি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা AusAlert-এর পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চালাবে কর্তৃপক্ষ। সামঞ্জস্যপূর্ণ মোবাইল ফোনে ১০ সেকেন্ডের সাইরেন বাজবে, ডিভাইস ভাইব্রেট করবে এবং একটি ফুল-স্ক্রিনবার্তা প্রদর্শিত হবে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে এটি কেবল একটি পরীক্ষামূলক সতর্কতা, তাই কোনো পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন নেই।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থা প্রচলিত এসএমএস-ভিত্তিক সতর্কতার পরিবর্তে সেল ব্রডকাস্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত মানুষের কাছে আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ভাবে জীবন রক্ষাকারী সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। দাবানল, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জননিরাপত্তা সংকট কিংবা জৈব-নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে দেশব্যাপী এই পরীক্ষাকে ঘিরে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন পারিবারিক ও গার্হস্থ্য সহিংসতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। তাদের আশঙ্কা, বাধ্যতামূলক এই উচ্চস্বরের সতর্কতা অনেক নির্যাতিত নারীর গোপন জরুরি ফোনের অস্তিত্ব প্রকাশ করে দিতে পারে, যা তাদের জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।

পশ্চিম সিডনিভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট উইমেন'স স্পিকআউট অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রধান নির্বাহী মারিয়া কিসৌরি এসবিএসকে বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সেইসব নারীকে নিয়ে, যারা নির্যাতনের ঝুঁকিতে থেকে সহায়তা চাওয়ার জন্য গোপনে একটি জরুরি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। জীবন হানির আশঙ্কা দেখা দিলে ওই ফোনের মাধ্যমেই তারাট্রিপল জিরো (০০০)-তে যোগাযোগ করেন। কিন্তু AusAlert-এর পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের সময় বাধ্যতামূলক সাইরেন ও সতর্ক বার্তা তাদের গোপন ফোনের অস্তিত্ব প্রকাশ করে দিতে পারে, যা তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গার্হস্থ্য ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার অভিবাসী নারীদের সহায়তা দিয়ে আসা এই সংস্থার প্রধান বলেন, অনেক নারী অস্ট্রেলিয়ায় আসার পরই তাদের বাগদত্তা, সঙ্গী বা সদ্য বিবাহিত স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন। মারিয়া কিসৌরি আরও বলেন, যেখানে এটি নিরাপদ সেখানে আমরা আমাদের পরিচিত প্রত্যেক নারীকে যাদের কাছে একটি নিরাপদ ফোন রয়েছে। আগে ভাগেই যোগাযোগ করে অনুরোধ করছি যেন নির্ধারিত পরীক্ষার অনেক আগে ফোনটি বন্ধ করে দেন অথবা সম্ভব হলে সাময়িকভাবে বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তির কাছে রেখে দেন।

অস্ট্রেলিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ক্রিস্টি ম্যাকবেইন বলেছেন, ২০১৯-২০ সালের ভয়াবহ ব্ল্যাক সামার দাবানলের পর গঠিত রয়্যাল কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে AusAlert ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। অতীতের দাবানল এসএমএস-নির্ভর সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। তাই নতুন ব্যবস্থায় আরও কার্যকর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ ওই ব্যবস্থা মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং পৃথক বার্তা পাঠানোর ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আরও দ্রুত ও কার্যকর প্রযুক্তিনির্ভর AusAlert চালু করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, AusAlert-এর অধীনে দুই ধরনের সতর্কতা থাকবে—প্রায়োরিটি (Priority) এবং ক্রিটিক্যাল (Critical)। প্রায়োরিটি অ্যালার্ট গুরুতর কিন্তু পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হবে। এই অ্যালার্ট ফোনের সাইলেন্ট বা ডু নট ডিস্টার্ব সেটিংস অতিক্রম করবে না এবং ব্যবহারকারীরা চাইলে এটি বন্ধ রাখতে পারবেন।

কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, পরীক্ষামূলক সতর্কতার শব্দে কেউ যাতে অস্বস্তিতে না পড়েন বা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে না পড়েন, সেজন্য প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখা অথবা এয়ারপ্লেন মোড চালু করে রাখা যেতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন