বিশ্ব ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটতে চলেছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপকে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে নিশ্চিত করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার বিরল রেকর্ড গড়া এই মহাতারকা এখনো পুরোপুরি বুটজোড়া তুলে রাখার ঘোষণা না দিলেও, তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নিয়ে চারদিকে জোর আলোচনা চলছে। খেলার মাঠের পারফরম্যান্স ছাড়িয়ে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) এখন বড় এক অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি- এমনটাই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্তুগালের জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাঠ মাতাচ্ছেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। ২৩৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৪৬ গোল করে পুরুষ ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই আল-নাসর ফরোয়ার্ড। তবে রোনালদোর এই অবিরাম যাত্রার অবসান কেবল একজন ফুটবলারের প্রস্থান নয়, বরং এটি পর্তুগিজ ফুটবলের বাণিজ্যিক কাঠামোর জন্য বড় একটি ধাক্কা হতে পারে।
পর্তুগিজ ইনস্টিটিউট অফ মার্কেটিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইপিএএম)-এর মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল সা সংবাদ সংস্থা ‘লুসা’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘ব্র্যান্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে বললে কথাটা একটু কঠিন শোনাতে পারে। তবে রোনালদো একা পুরো পর্তুগিজ জাতীয় দল এবং এমন অজস্র দলের মিলিত রূপের চেয়েও অনেক বড়। মাঠের পারফরম্যান্স বাদ দিয়ে কেবল ব্র্যান্ড ভ্যালুর কথা চিন্তা করলে তার চলে যাওয়া এক ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনবে। কারণ মানুষ এখনো বুঝতে পারছে না ঠিক কী পরিমাণ মিডিয়া কভারেজ ও মনোযোগ আমরা হারাতে যাচ্ছি।’
ড্যানিয়েল সায়ের মতে, গত ২০ বছর ধরে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন যত লাভজনক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং যত অর্থ উপার্জন করেছে, তার সিংহভাগ কৃতিত্বের দাবিদার এই রোনালদো। সিআরসেভেনের বৈশ্বিক আবেদন ও বিশাল ভক্তকুলই বিশ্বজুড়ে পর্তুগাল দলকে স্পনসরদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে। তাই তার বিদায়ের পর এই আর্থিক শূন্যতা পূরণ করা ফরেডারেশনের জন্য রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং হবে।
এদিকে পর্তুগালের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেয়া হোর্হে জেসুস জানান, রোনালদো এখনো তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উয়েফা ন্যাশনস লীগের ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো পর্তুগালের একটি জীবন্ত প্রতীক। সে নিজেই ইতিহাস। সে যতদিন ফিট এবং খেলতে ইচ্ছুক থাকবে, আমি তাকে দলে ডাকব। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমি তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলবো।’
যদিও দলে ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস ও রাফায়েল লিয়াওর মতো বিশ্বমানের উদীয়মান তারকারা পর্তুগালের হাল ধরতে প্রস্তুত। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, রোনালদোর মাপের কোনো একক বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ভ্যালু বা তারকাখ্যাতি তাদের কারোরই নেই। একমাত্র খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ পরিচয় গড়ে তোলাই এখন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সামনে একমাত্র পথ।
রোনালদো হয়তো ক্লাব ফুটবলে নিজের ১০০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে আল নাসরের জার্সিতে খেলা চালিয়ে যাবেন। বর্তমানে তার নামের পাশে রয়েছে ৯৭৬টি গোল। তবে আন্তর্জাতিক আঙিনায় অধিনায়কের চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার পর পর্তুগাল ফুটবল যে এক অভূতপূর্ব বাণিজ্যিক সংকটের মুখোমুখি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
