জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব চলাকালে ভিড়ের ওপর দ্রুতগতির একটি গাড়ি উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিবছর এলজিবিটিকিউ+ কমিউনিটি ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ নামে এই উৎসব পালন করে। এটি ইউরোপের অন্যতম একটি বড় উৎসব। হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
শনিবার রাতে ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের কাছে টিয়ারগার্টেন পার্কে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ধরতে পুলিশ বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যেভাবে হয়েছিলো হামলা: পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে একটি সাদা রঙের ভ্যান বা মিনিবাস দ্রুতগতিতে পার্কের ভেতরে ঢুকে মানুষের ওপর গাড়ি চাপিয়ে দেয়। কিছুদূর যাওয়ার পর গাড়িটি একটি গাছের সাথে ধাক্কা লেগে থেমে যায়। এর পরপরই চালক গাড়ি ফেলে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি খালি অবস্থায় জব্দ করা হয়েছে। অপরাধীকে ধরতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বার্লিন পুলিশের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, তারা একজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বার্লিনের ‘ইসলামপন্থী গোষ্ঠী’র সাথে যুক্ত হিসেবে পুলিশের কাছে পরিচিত। তবে তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পণ্ড প্যারেড: দমকল বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ৮ জনের আঘাত বেশ গুরুতর এবং ৩ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। হাজার হাজার মানুষ যখন আনন্দ আয়োজনে মেতে উঠেছিলেন, ঠিক তখনই এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর পুরো উৎসব স্থগিত ঘোষণা করে প্রাঙ্গণ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার এই ঘটনাকে মুক্ত ও পরমতসহিষ্ণু সমাজের ওপর ‘বর্বর হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি জার্মানিতে যানবাহন ও ছুরি দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ধারাবাহিকতায় এই সাম্প্রতিক হামলাটি দেশে নতুন করে নিরাপত্তার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিল।
