প্রথম আলো
‘রাষ্ট্রপতি পদে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বেছে নিতে আপাতত তাড়াহুড়ো করছে না সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তার আগে দলীয় নাকি বাইরের কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। এখন পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মুখে অনেকের নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সরকার ও বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিছুটা সময় নিয়ে করার পেছনে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ জুলাই জাতীয় সনদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব যুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, সেটি স্পষ্ট হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যুক্তিযুক্ত হবে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন—দলের এমন চিন্তাশীল নেতারা মনে করছেন, সংবিধানের সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতির বিদ্যমান আলংকারিক পদের তুলনায় তাঁর ক্ষমতা ও দায়িত্ব বাড়লে প্রার্থী বাছাইয়ের বিবেচনাও বদলে যাবে।
তবে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যে আলোচনা চলছে, তাতে দলীয় প্রার্থী হলে এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই বেশি আলোচিত হচ্ছে। তাঁকে রাষ্ট্রপতি করার ব্যাপারে দলের ভেতরের একটি অংশ তৎপর বলেও জানা গেছে। তবে দল ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বিকল্প কয়েকটি নামও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়াই প্রায় নিশ্চিত।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে গতকাল শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপির দলীয় নাকি বাইরের কাউকে প্রার্থী করা হবে, তা দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংবিধান ও আইন মেনে ঠিক করবে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলোর ভাষ্য, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতই প্রধান হবে। তবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের সিদ্ধান্তটি স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করেই আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হবে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে এখনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না।
দলীয় প্রার্থী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের পক্ষে কয়েকটি বিষয় যুক্তি হিসেবে আসছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের কঠিন সময়ে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং দলের বাইরেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ইতিমধ্যে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে ‘সেরা প্রার্থী’ বলে প্রকাশ্যে মত দিয়েছেন।
তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দল ও সরকারে একসঙ্গে কয়েকটি পরিবর্তন আনতে হবে। তাঁকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে এবং বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন কাউকে আনতে হবে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে সংবিধান অনুযায়ী তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য হবে। সরকারের মেয়াদের শুরুর দিকেই দল, মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় আসনে এই পুনর্বিন্যাস করা হবে কি না, সেটিও বিএনপির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং দল ও সরকারে কার ভূমিকা কোথায় বেশি প্রয়োজন—এসব বিবেচনায় সম্ভাব্যদের তালিকা আগের চেয়ে ছোট হয়ে এসেছে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও বিএনপির কোনো কোনো পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।
দলের বাইরে থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি করার বিকল্পও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নাম এসেছে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও আলোচনায় আসে। তবে সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্রের ভাষ্য, নাসিমুল গণির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। ফলে শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত শুক্রবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হবে না। ১৫ জুলাই সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসবে। সরকার আশা করছে, সেই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট হবে। একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি। তবে দলীয় প্রার্থীর সিদ্ধান্ত হলে এখন পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলামের নামই আলোচনায় এগিয়ে। আর দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে কাউকে নেওয়া হলে সাবেক প্রধান বিচারপতিসহ গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন সবার দৃষ্টি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের দিকে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের দায়মুক্তি নিয়ে আলোচনা: অপরাধের বিচারে বাধা নেই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ করে থাকলে সে বিষয়ে মামলা দায়ের, অনুসন্ধান, তদন্ত ও বিচারে কোনো বাধা দেখছেন না দেশের বিশিষ্ট কয়েকজন আইনজীবী। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ও পরে তার যে কোনো ফৌজদারি ও দেওয়ানি অপরাধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। তাদের মতে, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার মেয়াদকালের কর্মকাণ্ডকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এ পদে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের বাইরে যদি তিনি ব্যক্তিগত অপরাধ করে থাকেন, তাহলে সেই অপরাধের বিচার হতে পারে। তারা উদাহরণ হিসাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জেল খাটার প্রসঙ্গ সামনে আনেন।
আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পদত্যাগের পর তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডও হয়। দেশের প্রখ্যাত কয়েকজন আইনজীবী শনিবার যুগান্তরের কাছে এভাবে তাদের অভিমত দেন।
এদিকে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলছেন ভিন্নকথা। সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি। শনিবার যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘কিসের বিচার করবে? আমি কি অপরাধ করেছি। আমাকে হেয় করার জন্য এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।’
গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার বিকাল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনারসহ বিভিন্ন দায়িত্বে থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারকে রক্ষার চেষ্টা, ব্যাংক খাতের লুটপাট ও দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তার বিচারের দাবি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।
এদিকে সদ্য পদত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মামলা থাকলে সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা সেটাও দেখা হবে বলে জানান তিনি। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকারবিষয়ক পরামর্শ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
কালের কণ্ঠ
‘গ্যাসসংকটে বন্ধ হচ্ছে কারখানা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চরম গ্যাসসংকটে দেশ। সংকটের তীব্রতায় অন্তত ৪০ শতাংশ শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
আরো বন্ধের পথে। স্থানীয় শিল্পের পাশাপাশি তৈরি পোশাকসহ বস্ত্র খাতের কারখানাগুলো চালু রাখাই এখন উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। সময়মতো ক্রয়াদেশ পৌঁছানো নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রপ্তানি খাতের শিল্পোদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন থেকেই দেশে গ্যাসসংকট চলছে।
তবে এক সপ্তাহ ধরে এই সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। ফলে সক্ষমতার অর্ধেকও কারখানা চালানো যাচ্ছে না। অনেকে বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন, যাঁরা উৎপাদনে আছেন তাঁরা পুরো সময় কারখানা চালু রাখতে পারছেন না। এতে একদিকে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে রপ্তানি আয়।
শিল্প খাত না বাঁচলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি থেমে যাবে। তাই শিল্পের গ্যাস-বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো না গেলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমার পাশাপাশি রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশে তীব্র গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশজুড়ে আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি এখনো পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দল ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাঁরা আমাদের এখনো কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি। তবে কাজ চলছে, সমস্যাটি সমাধান হতে আরো কিছুটা সময় লাগতে পারে।’
পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস সরবরাহের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা দৈনিক প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র দুই হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। ফলে দৈনিক ঘাটতি থাকছে প্রায় এক হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। স্বাভাবিক সময়ে আমদানীকৃত এলএনজি থেকে ৯৫০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে একটি টার্মিনাল কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। এতে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। গত ছয় বছরে দেশীয় গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে। দেশীয় কূপগুলো থেকে গ্যাসের সরবরাহ কমে প্রায় এক হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে, যা ২০২০ সালের দিকে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ ছিল প্রায় দুই হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে এই ঘাটতি পূরণে নিয়মিতভাবে স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করে সামাল দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যাপকহারে সরকারের ভর্তুকি বাড়লেও গ্যাসসংকট কাটছে না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান গ্যাসসংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার মতো পরিস্থিতি দেখছি না। আগের সরকার শিল্প-কারখানার গ্যাস কমিয়ে সার উৎপাদনে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব এখন শিল্প খাতকে বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারও আবাসিক ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, ফলে শিল্প খাত আবারও উপেক্ষিত হচ্ছে। অথচ শিল্প-কারখানা সচল না থাকলে সরকারের ভ্যাট ও কর আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘শিল্পমালিকরা নিয়মিত সরকারের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গেও শিগগিরই আলোচনা করবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাসের সীমিত সরবরাহের কথাই জানানো হচ্ছে। গ্যাসসংকটে আমার নিজের শিল্পগ্রুপের প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা বন্ধ রয়েছে। টেক্সটাইল মিল আগেই বন্ধ করতে হয়েছে। এখন কাগজ, বোর্ড, প্যালেটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারখানাও বন্ধ রয়েছে।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ব্যাংকে খেলাপি ঋণ না কমলে মালিকানা হারাবেন পরিচালক’। খবরে বলা হয়, খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বে এখন শীর্ষে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় বর্তমানের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ কমিয়ে চলতি বছর শেষে ২০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর আগামী বছর শেষে ১০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এর অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে শুরুতে সুদ মওকুফসহ নানা শিথিলতার মাধ্যমে ঋণ আদায়ে জোর দেওয়া হয়েছে। তবে ধাপে ধাপে কঠোর হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক পর্যায়ে মূলধন ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ ব্যাংকের পরিচালকরা মালিকানা হারাবেন। এর পর ব্যাংক রেজল্যুশনের আওতায় এনে বিক্রি, একীভূতকরণ বা অবসায়নের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে মোট ২১টি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। এসব নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক বৈঠক করেছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন করে ঋণ পুনঃতপশিলে আর বিশেষ কোনো নীতিমালা হবে না। গত ২৯ জুন জারি করা 'এক্সিট পলিসি'-এর আওতায় অন্তত মূল ঋণ আদায় করতে হবে। যে কারণে আয় খাতে নেওয়া সুদ এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত শিথিল নিয়মে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। আগামী বছর থেকে কঠোরতার অংশ হিসেবে দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন করে ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান যুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, যেসব খেলাপি গ্রহীতা নমনীয় নীতিতে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করবেন না, তাদের নাম, ছবিসহ তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ তালিকা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন- বিমানবন্দর, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখার সামনে টানিয়ে রাখা হবে।
ব্যাংকগুলোর প্রকৃত খেলাপি ঋণের আলোকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতি বের করা হবে। খেলাপি ঋণ কমানোর মাধ্যমে প্রভিশন ঘাটতি পুরণ করে প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিচালনায় যুক্তদের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূলধন পূরণ করতে না পারলে পরিচালকরা মালিকানা হারাবেন। এভাবে একবার কারও মালিকানা গেলে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য তিনি আর কোনো ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার যোগ্য হবেন না।
ইত্তেফাক
‘নতুন রাষ্ট্রপতি সেপ্টেম্বরে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় দেশের ২৩তম নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে আগস্টের শেষার্ধে। নির্বাচন কমিশন ঐ সময়ে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করলে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া চলতি ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন চলাকালেই নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।
ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট অধিবেশন) অধিবেশন শেষ হয়েছে গত ১৫ জুলাই। সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের কারণে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই অধিবেশন বসতে পারে। আর সংবিধান অনুযায়ী এই অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। শুক্রবার ছিল ২৪ জুলাই। সে হিসাবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে। সুতরাং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। আশা করি, সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনেই এটা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। তবে, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নজির একবারই রয়েছে। ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
জানা গেছে, আগস্টের শেষার্ধে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
সংবিধানে ৯০ দিনের মধ্যে বলা হলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নজিরও রয়েছে। ২০১৩ সালের ১১ মার্চ তত্কালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। ৯ এপ্রিল তপশিল ঘোষণার পর ২১ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ তপশিল ঘোষণা করা হয়, ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২২ এপ্রিল দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। সবশেষ ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির গেজেট প্রকাশ করা হয়। বিনা ভোটে নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের কারণে শূন্য হলো পদ, সেক্ষেত্রে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন এখন ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি শুরু করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন সংসদ সদস্যরা। এলক্ষ্যে ভোটার তালিকা তৈরিসহ সার্বিক বিষয়ে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সিইসি থাকেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’।
রেওয়াজ অনুযায়ী, স্পিকারের সাক্ষাত্ চেয়ে কমিশন থেকে সংসদ সচিবালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এরপর জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের বিভক্তি সংখ্যা, নাম ও নির্বাচনি এলাকাগুলো তুলে ধরে চিঠিটি পাঠানো হয়। স্পিকার ও সিইসির বৈঠকের পর তপশিল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা সারে নির্বাচন কমিশন।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বিতর্কিত অধ্যায় সাহাবুদ্দিনের’। খবরে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো: সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)। সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদের হিসাব ধরে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থাকার কথা ছিল। তবে তার নিয়োগের সূচনালগ্ন থেকেই দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের ঝড় ওঠে।
বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪’। আইনটির ৯ ধারা অনুযায়ী, কমিশনের কোনো চেয়ারম্যান বা কমিশনার পরবর্তীতে প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের জন্য যোগ্য হবেন না। যেহেতু মো: সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুদক কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাই দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজ্ঞ এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ তোলে যে, তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন ও নির্বাচিত করার মাধ্যমে সরাসরি সুনির্দিষ্ট আইনি বিধানকে তোয়াক্কা করা হয়নি।
তবে এই আইনি বিতর্কের মেঘ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটে যায় এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ১৬ মাসের মাথায় ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সরকার পরিবর্তনের পরপরই মো: সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকা নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন ওঠে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং ‘সেইফ এক্সিট’ (নিরাপদ প্রস্থান) নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন ও আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করার পর এ আলোচনা নতুন মাত্রায় পৌঁছায়। তবে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে নতুন সরকার শুরুতে তাকে অপসারণের কোনো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকে।
দুদক কমিশনার হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির ছায়া : সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো: সাহাবুদ্দিন যখন ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুদক কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন, তখন থেকেই সংস্থাটির নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল-তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আমলাদের দুর্নীতির ফাইল চাপা দেয়া, গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান ও তদন্তকে নিজস্ব ক্ষমতাবলে প্রভাবিত করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের অনৈতিকভাবে দায়মুক্তি বা ‘ক্লিনচিট’ দেয়া।
মো: সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগটি উঠে আসে খাদ্য অধিদফতরের একটি নিয়োগ দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে। ২০১৩ সালে খাদ্য অধিদফতরে ৪৪ জন পরিদর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে ভয়াবহ জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়। পরীক্ষার নম্বরপত্র কারচুপি করে অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের অর্থের বিনিময়ে উত্তীর্ণ দেখানো হয়, ফলে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা তাদের প্রাপ্য চাকরি থেকে বঞ্চিত হন। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মেলায় ২০১৪ সালের ৭ অক্টোবর দুদক শাহবাগ থানায় একটি মামলা করে।
কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলার পর আসল অপরাধীদের আড়াল করতে শুরু হয় এক বিশাল দর-কষাকষি। ভুয়া উপায়ে চাকরি পাওয়া ব্যক্তি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চার্জশিট (অভিযোগপত্র) থেকে মুক্ত করতে দুদকের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়া হয়। পরবর্তীতে ফাঁস হওয়া টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ড এবং তদন্ত নথির বিবরণ থেকে জানা যায়, এই ঘুষের অর্থ থেকে তৎকালীন কমিশনার মো: সাহাবুদ্দিনের হাতে পৌঁছেছিল ৩০ লাখ টাকা।
প্রাপ্ত তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, পাবনা জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল রহিম লালের মধ্যস্থতায় এই ঘুষের টাকা সাহাবুদ্দিনের দুদক কার্যালয়ে পৌঁছানো হয়। তিনি নিজ কক্ষে বসেই এই অর্থ নিয়েছিলেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এর বিনিময়ে সাহাবুদ্দিন তদন্ত কর্মকর্তাদের ওপর প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন, যাতে নিয়োগ দুর্নীতির সুবিধাভোগীদের চাকরি বহাল রাখা হয় এবং তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়।
মামলার মূল তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তীতে প্রকাশ করেন যে, অবৈধভাবে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হলে সাহাবুদ্দিন তীব্র আপত্তি তোলেন এবং লিখিত প্রমাণের অভাব দেখিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন ও প্রতিবেদন পুনর্বিন্যাসের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে এ সংক্রান্ত একটি ফাঁস হওয়া অডিও সিডি দুদকের হাতে আসলেও সাহাবুদ্দিনের প্রভাবেই তা এক কর্মকর্তার ড্রয়ারে দুই বছর ফেলে রাখা হয়। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে তদন্ত ঝুলিয়ে রাখার পর, অবশেষে প্রভাবশালীদের বাদ দিয়ে কেবল সীমিত কয়েকজন সদস্যকে আসামি করে দায়সারা চার্জশিট দাখিল করা হয়।
বণিক বার্তা
‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘মাল্টিমিলিয়নেয়ার’ ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার!’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের ব্যাংকগুলোয় ব্যক্তি শ্রেণীর কোটি টাকার বেশি বা মাল্টিমিলিয়নেয়ার হিসাবের সংখ্যা (অ্যাকাউন্ট) অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এ সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় ব্যাংকগুলোয় কোটি টাকার বেশি আমানত জমা থাকা ব্যক্তিগত হিসাব সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজারের ঘরে। কিন্তু মাত্র দেড় বছর পর এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা সাড়ে ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সে হিসাবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অল্প সময়ের শাসনামলে দেশে মাল্টিমিলিয়নেয়ার ব্যাংক হিসাব সাত হাজারের বেশি বেড়েছে। অর্থাৎ এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধির হার ২১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশ করা ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের ব্যাংকগুলোতে ১ কোটি বা তার বেশি পরিমাণ টাকা জমা থাকা ব্যক্তি শ্রেণীর হিসাব সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৬২৯। কিন্তু মাত্র দেড় বছর পর চলতি বছরের মার্চে এসে এ ধরনের হিসাব সংখ্যা ৪০ হাজার ৬৪৫-এ উন্নীত হয়।
আর্থিক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনামলে গড়ে ওঠা অলিগার্ক, লুটেরা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা দেশ থেকে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছিল চোখে পড়ার মতো স্থবিরতা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মন্দার প্রভাবে এ সময়ে দেশে দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। তার পরও মাত্র দেড় বছরে কোটি টাকার বেশি থাকা ব্যক্তি শ্রেণীর ব্যাংক হিসাব এক-পঞ্চমাংশ বেড়ে যাওয়া অর্থনীতির নিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে অস্বাভাবিক ঘটনা।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের হাট-মাঠ, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির কর্তৃত্ব নতুন এক শ্রেণীর হাতে চলে যায়। রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ব্যবস্থায়ও নতুন নিয়ন্ত্রক তৈরি হয়। সেই সময় ব্যাংকগুলোয় এত পরিমাণ নতুন কোটি টাকার হিসাব তৈরি হওয়ার পেছনে এসবের প্রভাব থাকতে পারে।’
গত বছরের সেপ্টেম্বরে পুলিশের এক প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার উপরোক্ত মূল্যায়নের সমর্থন মেলে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চাঁদাবাজি-দখলবাজির ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের ৫৭ শতাংশই ছিল একেবারে নতুন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অতীতে এ ধরনের অপরাধের কোনো রেকর্ড ছিল না। অর্থাৎ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অপরাধ ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনকারী অনেক নতুন চেহারা উঠে এসেছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কোটি টাকার বেশি থাকা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ সময় দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রবৃদ্ধির চেয়েও মাল্টিমিলিয়নেয়ার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেশি হারে বেড়েছে। দেশে কোটি বা তার বেশি টাকার মোট ব্যাংক হিসাবের এক-পঞ্চমাংশই বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সৃষ্টি হয়েছে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ওই সময়ে কোটি টাকার বেশি আমানতের ব্যাংক হিসাব এত বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘কোটি টাকার হিসাব বেড়ে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে থাকে। সুশাসনের ঘাটতি থাকায় অনেকগুলো ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়। এ ব্যাংকগুলো থেকে মানুষ গণহারে টাকা তুলে নিয়েছিল। একসঙ্গে অনেক এফডিআর ভেঙে ভালো ব্যাংকে নিয়ে জমা করেছে। এতে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লেনদেন কমে যাওয়ার প্রভাবও থাকতে পারে। এনবিআর, দুদকসহ অন্যান্য সংস্থার তৎপরতার কারণে মানুষ নগদ টাকা বাসায় না রেখে ব্যাংকে রেখেছে, এমনও হতে পারে।’
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘গ্যাস-সংকট দ্রুত কাটছে না’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত না হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস-সংকটের সুরাহা হয়নি। মেরামতকাজ শুরু হলেও টার্মিনালটি কবে চালু হবে, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পেট্রোবাংলা বা জ্বালানি মন্ত্রণালয়। ফলে গ্যাসের এই তীব্র সংকট শিগগির কাটছে না। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এফএসআরইউ দ্রুত সচল করা না গেলে গ্যাসের এই সংকট আরও কয়েক দিন চলবে।
এদিকে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নেমে এসেছে ২ হাজার ২৬৫ মিলিয়ন ঘনফুটে। সরবরাহের এই সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আবাসিক গ্রাহক, সিএনজিচালিত যানবাহনের মালিক-চালকেরা এবং শিল্পকারখানার মালিকেরা। গতকাল শনিবারও দিনের বেশির ভাগ সময় বাসায় চুলা জ্বলেনি। সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের জন্য দিনরাত যানবাহনের দীর্ঘ অপেক্ষা দেখা গেছে। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে শিল্পকারখানায়।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, এফএসআরইউ (সাগরে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) পুরোপুরি মেরামত হতে আর কত সময় লাগবে, সেটি বলার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বিদেশি প্রকৌশলীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান তীব্র গ্যাস-সংকট তৈরি হয়েছে মূলত গত মঙ্গলবার সাগরে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ছোট একটি অগ্নিকাণ্ডের কারণে। অগ্নিকাণ্ডের পর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ওই টার্মিনালের কার্যক্রম নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করে দেন। ওই সময় টার্মিনালে নোঙর করার অপেক্ষমাণ একটি এলএনজিবাহী জাহাজ নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
টার্মিনালটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা গতকাল জানান, টার্মিনাল অপারেটর এক্সিলারেট এনার্জি ইতিমধ্যে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের বাংলাদেশে এনেছে। শুক্রবার বিকেল থেকে তাঁরা টার্মিনালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। তবে কবে নাগাদ টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।
দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই চাহিদার বিপরীতে এত দিন বিভিন্ন গ্যাসকূপ থেকে উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে পাওয়া যাচ্ছিল দৈনিক ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে সাগরে দুটি ভাসমান টার্মিনাল হয়ে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসও ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার একটি টার্মিনাল অগ্নিকাণ্ডের পর বন্ধ করে দেওয়ায় এই সক্ষমতা অর্ধেকে নেমেছে।
পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই টার্মিনাল বন্ধের কারণে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে। ওই টার্মিনালে এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ২ হাজার ২৬৫ মিলিয়ন ঘনফুটে।
দেশ রূপান্তর
‘সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দুই মাস আগে ফলোআপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফেরেন সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপরই হঠাৎ করে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে থেকে তার সরে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অসুস্থতা নাকি সরকারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির কারণে এমন আকস্মিক বিদায় তা নিয়ে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির শীতল সম্পর্কের কথা সর্বমহলে আলোচিত ছিল। এমনকি জাতীয় বিদসে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানেও রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে একসঙ্গে দেখা যায়নি। অধ্যাপক ইউনূস বিদেশ সফর শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী কখনো বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সফরের বিষয়বস্তু অবহিত করেননি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ার পর বদলে যায় চিত্র।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ ভবনে মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে থাকবেন কি না সে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে বিএনপি সরকারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক তৈরির আবহ গোপন থাকেনি। এমনকি বিএনপি নির্বাচিত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন ‘সপ্তাহখানেক ধরে ভালো আছি বেশ।’ সেই সাক্ষাৎকারে কঠিন সময়েও বিএনপি ও দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব তার পাশে ছিলেন বলে জানান তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবকও অর্পণ করেছেন। এর আগে ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ ও ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। তবে সরকারি দলের এমপিরা ছিলেন রাষ্ট্রপতির পাশে। এরপর যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলো-আপ চিকিৎসা শেষে গত ১৮ মে দেশে ফেরেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর এক মাসের মধ্যে মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর শেষে গত ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সফর শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী বঙ্গভবনে যাননি। তখন থেকেই মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক শীতল হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
সহযোগীদের খবর
রাষ্ট্রপতি পদে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
২৬ জুলাই (রবিবার), ২০২৬, ৯ঃ১৩ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
