এবার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা, অন্যের পোস্টে মন্তব্য করা বা প্রতিক্রিয়া (রিঅ্যাক্ট) জানানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে ভিয়েতনাম। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি খসড়া ডিক্রি তৈরি করেছে দেশটির সরকার। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ভিয়েতনামের ওই খসড়া ডিক্রি পর্যালোচনা করেছে।
দেশটির সরকারের প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অবশ্যই তাদের বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের তথ্য ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। ওই অভিভাবকই সন্তানের দেখা কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটানো সময়ের তদারকির দায়িত্বে থাকবেন।
খসড়া ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করে শিশু ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে হবে এবং তাদের বয়স উপযোগী কনটেন্ট প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নতুন বিধিমালা নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে ভিয়েতনামের উপ-সংস্কৃতিমন্ত্রী ফান তাম বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা বা অতিরিক্ত সীমাবদ্ধ করা নয়। বরং তারা যখন এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবে, তখন যেন বয়স উপযোগী পরিবেশে থাকে এবং অনুপযুক্ত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকে, সেটিই নিশ্চিত করা।
প্রস্তাবিত ডিক্রিতে দেশটির শিশুদের অ্যাকাউন্টের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রার গোপনীয়তা সুরক্ষা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি সহিংসতা, পর্নোগ্রাফি, জুয়া, মাদক, আত্মহত্যা এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে সতর্কবার্তা দেয়া ও সেসব কনটেন্টে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার ব্যবস্থা রাখতে হবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্ষতিকর কনটেন্টের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে সরকারগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ভিয়েতনামের এই উদ্যোগ সামনে এলো।
এদিকে গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার একটি আইন অনুমোদন করেছেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা প্রথম দেশ হয়।
এছাড়া আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার পথে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন গেমিং নিয়েও নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব করেছে ভিয়েতনাম সরকার। খসড়া ডিক্রি অনুযায়ী, গেম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে।
১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট অভিভাবকের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে এবং একই প্রতিষ্ঠানের গেমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৬০ মিনিট খেলার সুযোগ দেয়া যাবে।
তবে খসড়া ডিক্রিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনুমোদনের আগে এতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
