জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ৪,২০০ জনেরও বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর সদস্য প্রবেশ করেছেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, এটি চলতি বছরের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশের ঘটনা। ইহুদিদের শোকের দিন ‘তিশা বাব’ উপলক্ষে পুলিশি সুরক্ষায় ইসরাইলের চরম ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।
জেরুজালেম গভর্নরশিপের ফিলিস্তিনি প্রশাসন জানিয়েছে, ৪,২৮৮ জন ইসরাইলি মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন। সূর্যাস্তের মধ্যে এই সংখ্যা ৫,০০০ ছুঁতে পারে, যা বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে দেবে। এই সময় ইসরাইলি বাহিনী মসজিদের ফটকগুলোতে চরম কড়াকড়ি আরোপ করে এবং অনেক ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও শিক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়। আল-আকসার ভেতরে বসতি স্থাপনকারীরা সেজদা করা, গান গাওয়া ও প্রার্থনাসহ তালমুডিক আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। ১৯৬৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী অমুসলিমরা এই স্থান পরিদর্শন করতে পারলেও সেখানে প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে যে, পুলিশ ১,০০০-এরও বেশি ইসরাইলিকে মসাজদ প্রাঙ্গণে প্রার্থনার অনুমতি দিয়েছে। এই ঘটনাকে একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বর্ণনা করেছে জেরুজালেম গভর্নর।
তারা বলেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আগে যারা সেখানে ইহুদি মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি জানাত, তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থনের প্রতিফলন ঘটেছে। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় একে স্থানটিকে কালানুক্রমিক ও স্থানিকভাবে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। হামাস সতর্ক করে বলেছে যে, এ ধরনের আগ্রাসন উল্টো দখলদার ও তাদের বসতি স্থাপনকারীদের জন্যই বিপদের কারণ হবে। জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘মসজিদের পবিত্রতার অবমাননা ও একটি বর্বর উসকানি’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থা রক্ষা করার জোর দাবি জানিয়েছে। এছাড়াও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে তুরষ্ক সহ মুসলিম বিশ্বের আটটি দেশ।
