গত এক সপ্তাহ ধরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা চলছে। এই আন্দোলনে প্রতিদিনই অংশ নিচ্ছেন বহু শিক্ষার্থী। তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। তবে সেই সমর্থনের একদিন পরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সালমান লেখেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই তাদের আর উদ্বিগ্ন হওয়ার বা বাবা-মাকে উদ্বেগে রাখার দরকার নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই টুইট করেছেন। আমার বিশ্বাস, প্রশ্নফাঁসের জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। তাই পড়ুয়াদের বলছি, বাড়ি ফিরে যাও, বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাও।
পোস্টে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককেও অনশন ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান অভিনেতা। তিনি লেখেন, সোনম, যথেষ্ট হয়েছে। আর অনশন বাড়াবে না। ভবিষ্যতে যদি আবার প্রয়োজন পড়ে, সে লড়াইয়ের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখো। যদিও আমার মনে হয়, আর সেই প্রয়োজন হবে না। কিছু খেয়ে নাও। চাইলে বাড়ি থেকে তোমার জন্য খাবার পাঠিয়ে দেবো।
সালমানের এই অবস্থান অনেক ভক্তকেই বিস্মিত করেছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন তিনি। এ কারণে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, চলমান আন্দোলন নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করবেন না। কিন্তু বুধবার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি সবাইকে চমকে দেন। এ বিষয়ে মুখ খোলা প্রথম খান অভিনেতা হিসেবেও সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা পান তিনি।
বুধবারের পোস্টে সালমান লিখেছিলেন, এটি খুবই শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সহিংস মোড় নেওয়ায় খুব খারাপ লাগছে। আহত ছাত্রছাত্রী এবং তাদের পরিবারের জন্য আমার সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তবে দেশের পড়ুয়ারা যে আরও ভালো শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে একজোট হয়েছেন এবং তাদের অভিভাবকেরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা দেখে ভালো লাগছে। ভারতে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন তিনি।
