বৃটেনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্স’ প্রকাশিত বিশ্ব পাসপোর্ট সূচক ২০২৬-এ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্টগুলোর তালিকায় এখনও নিচের দিকেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। তবে নতুন এই র্যাংকিং অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা পূর্বামতি বা ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণ করতে পারবেন। তথ্যটি প্রকাশ করেছে বৃটেনভিত্তিক বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্স।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই সূচকে বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে ৯৭তম স্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে মালদ্বীপ ৫২তম, ভারত ৮০তম এবং ভূটান ৮৫তম স্থানে থেকে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের নিচে রয়েছে নেপাল (৯৮তম), পাকিস্তান (১০১তম) এবং তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থানকারী আফগানিস্তান (১০৪তম)। সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকরা মূলত এশিয়া ও আফ্রিকার ৩৫টি দেশে ভিসা ছাড়া অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাতায়াত করতে পারবেন। পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় র্যাংকিংয়ে সামান্য পরিবর্তন এলেও বৈশ্বিক চলাচলের স্বাধীনতার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও তলানিতেই রয়ে গেছে।
শীর্ষে যেসব দেশ: হ্যানলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের গৌরব ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারেন। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, যাদের নাগরিকরা ১৮৮টি দেশে বিনামূল্যে বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা পান। এছাড়া সুইডেন রয়েছে তৃতীয় স্থানে। হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানিয়েছে, গত দুই দশকে বৈশ্বিক চলাচলের সুবিধা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৬ সালে যেখানে একটি পাসপোর্টে গড়ে ৫৮টি দেশে ভিসা ছাড়া যাওয়া যেত, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮টি দেশে। তবে এই বৈশ্বিক সুবিধার যুগেও বাংলাদেশি পাসপোর্টের দুর্বল অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ভিসা মুক্ত বাণিজ্য প্রসারের ঘাটতিকেই নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
