ফের খবরের শিরোনামে করোনা সংক্রমণ। ভারতে ১ জুলাইয়ের পর থেকে ৩৪৪ জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যেসব রাজ্যগুলো থেকে করোনা সংক্রমনের খবর পাওয়া গেছে সেগুলো হলো, কেরল, মহারাষ্ট্র , অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাডু, কর্ণাটক ও বিহার।
পশ্চিমবঙ্গেও ৪ জনের করোনা সংক্রমণের খবর জানা গেছে। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে তিন করোনা আক্রান্ত। অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে আরও এক কিশোর। দক্ষিণ কলকাতার গাড়িয়া এলাকার ১০ বছর বয়সী এক কিশোরের শরীরে করোনা সংক্রমণের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিন ধরে তার জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলো দেখে চিকিৎসকদের কোভিড-১৯ এর সন্দেহ হয়। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা সংক্রমণ হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়। তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
বিহারের ভাগলপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৬৬ বছর বয়সী এক রোগী করোনা সংক্রমিত হয়েছেন বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গেছে। করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পর হাসপাতাল প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি বাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত কেরলে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণের খবর জানা গেছে। সেখানে ১১৫টি সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছে। করণাটকে ৬৪, মহারাষ্ট্রে ৪৩, তামিলনাডুতে ৩৯টি করোনা সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছে। অন্ধ্র প্রদেশে ১৬টি কোভিড-১৯ শনাক্ত এবং চারটি মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ১৬টি শনাক্তের মধ্যে ১২টি ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট করা হয়েছিল। চারটি পজিটিভ নমুনায় ওমিক্রন আরএফ ৫ ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত করা হয়েছে। তারপরেই স্বাস্থ্য দপ্তর নজরদারি বাড়িয়েছে। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে কাডাপা জেলার কোভিড-১৯ আক্রান্ত নমুনা থেকে এই ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কাডাপা জেলায় শনাক্ত হওয়া কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চারটি নমুনা পরীক্ষার জন্য পুনের একটি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। নমুনাগুলোতে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের আরএফ ৫ সাবলাইনএজের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্য কুমার যাদব জানিয়েছেন, পুনের একটি ল্যাবে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে চারটি নমুনায় ওমিক্রন আরআর ৫ ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আরএফ ৫ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টগুলোর চেয়ে বেশি গুরুতর রোগ, মৃত্যু বা হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি বাড়ায় এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই ভ্যারিয়েন্টটির ওপর নজর রাখছে। এই ভ্যারিয়েন্টটি এর আগে সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, আরএফ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের অনুরূপ। তাই, মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। কারও সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে, দেরি না করে পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
