সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর আওতাধীন মিলিয়ে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার সড়ক ও ৮টি ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৭টি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ১টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কে। শীলক্ষ্যা খালের উপর নির্মিত সেতু ভেঙে যাওয়ায় গত ৬ই জুলাই থেকে টানা ১৫ দিন ধরে এ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, থানচি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বান্দরবান সদর-থানচি সড়কেও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
জানা গেছে, বন্যায় জেলার ১১টি সড়কের প্রায় ৬৩ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক স্থায়ীভাবে সংস্কারে প্রায় ৭৩ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের প্রকৌশলীরা মাঠপর্যায়ে জরিপ শেষ করে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া মাত্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। ইতিমধ্যে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজনঘাটা এলাকায় শীলক্ষ্যা খালের উপর ভেঙে যাওয়া সেতুর পুনর্নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে আগামী দু’দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে এ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বান্দরবান জেলার ৫১টি সড়কের মধ্যে প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়ক ও একটি সেতু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক সংস্কারে আনুমানিক ২১ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রোয়াংছড়ি ও বান্দরবান সদর উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি সড়ক।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত সোমবার সকালে বলেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি সড়কে ভাঙন, ভূমিধস এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। অনেক এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি সড়কের তালিকা প্রস্তুত করেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। জেলার বিভিন্ন স্থানে এখনো সড়ক ভাঙন ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
