জামায়াতে ইসলামী: একলা চলো নীতিতে শরিকরা নাখোশ

সহযোগীদের খবর

জামায়াতে ইসলামী: একলা চলো নীতিতে শরিকরা নাখোশ

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

‘জামায়াতে ইসলামী: একলা চলো নীতিতে শরিকরা নাখোশ’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী গত নির্বাচনের আগে থেকে আলাদা মেরুতে অবস্থান করছে। দুই দলের নেতৃত্বে আলাদা জোটও রয়েছে। তবে ভোটের পর ধীরে ধীরে দুই জোটেই প্রকাশ পাচ্ছে নানা সংকট। দুই জোটেই প্রধান শরিকের বিরুদ্ধে অন্য দলগুলোর নানা ধরনের অভিযোগ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে উভয় জোটে জটিলতা আরও বেড়েছে

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে আসতে কওমি ধারার দলগুলোর ওপর রয়েছে হেফাজতে ইসলামের চাপ। হেফাজতের এই অবস্থানকে জোট ভাঙতে বিএনপির ‘চাল’ হিসেবে দেখছে জামায়াত। যদিও আসছে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে একলা চলো নীতিতে জামায়াতের ওপর বেজার শরিক নেতারা।

তাদের ভাষ্য, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আন্দোলনে শরিকদের সামনে রাখা হলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে তা করছে না জামায়াত। ত্রয়োদশ সংসদে আসন না পাওয়া খেলাফত আন্দোলন এরই মধ্যে জোট ছেড়েছে। গতকাল শনিবার বরিশালে জোটের বিভাগীয় সমাবেশে যায়নি খেলাফত মজলিস।

মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ১১ দলের অতিসক্রিয়তায় নাখোশ। জামায়াতের সঙ্গে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল এনসিপির বাদানুবাদ রয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ক্যাম্পাসগুলোতে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির বিরোধ রয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে। সংসদে ভূমিকা, সরকারের সমালোচনায় কঠোর না হওয়া এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের নীতিতে ক্ষুব্ধ দলটি। একই দৃষ্টিভঙ্গি এবি পার্টিরও।

তবে বাকি পাঁচ শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) এবং লেবার পার্টির আপত্তি নেই জামায়াতের অবস্থান নিয়ে। এ দলগুলোর সংসদে প্রতিনিধিত্বও নেই।

১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে এনসিপিকে ৩০, বাংলাদেশ খেলাফতকে ২৪, খেলাফত মজলিসকে ১৪, এলডিপিকে ৭, এবি পার্টি ও নেজামে ইসলামকে ৩টি করে এবং বিডিপিকে দুটি আসন ছেড়েছিল জামায়াত। আসন পায়নি খেলাফত আন্দোলন, লেবার পার্টি ও জাপগা।

তবে কিছু আসনে জোটের একাধিক দলের প্রার্থী ছিল। আবার ছেড়ে দেওয়া কিছু আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা থেকে যান। যেমন এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া দুটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী থেকে যান। নেজামে ইসলাম, এলডিপি ও খেলাফত মজলিসের সঙ্গে একই ঘটনা ঘটে। জামায়াত ৬৮, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত ২ এবং খেলাফত ১টি আসনে জয়ী হয়।

খেলাফত আন্দোলনকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সংসদের উচ্চকক্ষে আসন দেওয়া হবে। উচ্চকক্ষ হবে কিনা– এ নিশ্চয়তা না থাকায় দলটি জোট ছেড়ে চলে গেছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে। খেলাফত মজলিসও ১১ দলের কর্মসূচিতে থাকছে না। দলটির মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের সমকালকে বলেন, সংসদে একসঙ্গে থাকলেও আপাতত জোটের কর্মসূচিতে থাকছি না।

কেন থাকছেন না প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনও বলার সময় আসেনি। সময় হলে সব খোলাসা করা হবে। খেলাফত মজলিস গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষেই আছে। তবে জোটের কর্মসূচিতে থাকছে না।

জোট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ খেলাফত ও এনসিপি বাদে অন্য দলগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়ার ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জোটের কর্মসূচিতে এই দুই দলের নেতাদের সভাপতি, প্রধান অতিথি হিসেবে রাখা হয়। কিন্তু খেলাফত মজলিসসহ বাকি দলগুলোকে একই রকম গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শীর্ষ নেতা ছাড়া অন্য কাউকে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয় না।

১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের অবশ্য দাবি জোটে ক্ষোভ নেই। তিনি বলেন, সামান্য মান-অভিমান আছে। এগুলো সব জোটেই থাকে। যা কিছু ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে, তা একসঙ্গে বসলে ঠিক হয়ে যাবে।

হেফাজতের চাপে কওমি ধারার দল, জামায়াতের সন্দেহ

এখনও জামায়াত জোটে থাকা খেলাফত মজলিসের দুই অংশ এবং নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা একাধারে হেফাজতেরও নেতা। হেফাজত এবং দলগুলোর নেতারা সমকালকে বলেছেন, জমিয়ত বিএনপির সঙ্গে থাকায় এবং কয়েকটি দল জামায়াতের সঙ্গে থাকায় আলেম-ওলামাদের মধ্যে প্রকাশ্যে বাহাস হচ্ছে।

চরমোনাই ইসলামী আন্দোলন আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতায় জামায়াত ছাড়ার পর তাদের সঙ্গে বিরোধ হচ্ছে অন্যদের। ঐক্যের জন্য চলতি মাসের শুরুতে রাবেয়াতুল ওয়াজিনের ব্যানারে রাজধানীতে সম্মেলন হলেও মঞ্চেই বিরোধ তৈরি হয় বিএনপি ও জামায়াত প্রশ্নে। এতে প্রভাব পড়ছে কওমি মাদ্রাসা পরিচালায়।

জামায়াতকে কওমি মাদ্রাসা বিরোধী হিসেবে দেখা হয়। সংসদে দলটির এমপিরা কওমি মাদ্রাসায় সরকারি বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। হেফাজত-সংশ্লিষ্টদের সন্দেহ এর মাধ্যমে জামায়াত কওমি মাদ্রাসাকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কওমি আলেমরা চান না, আলিয়ার মাদ্রাসার মতো কওমিতেও সরকারি নিয়ন্ত্রণ আসুক। আলিয়া মাদ্রাসা ‘জামায়াত নিয়ন্ত্রিত’ হিসেবে পরিচিত।

দেওবন্দের অনুসারী কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক হেফাজতের জামায়াতের অনুসরণ করা মওদুদীবাদের ঘোরবিরোধী। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজত-সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান। ওই বৈঠকে বলা হয়, জামায়াতের আকিদা ঢুকে যাচ্ছে মাদ্রাসায়। এরপর নিয়ন্ত্রণও চলে যাবে। তাই আকিদা ও কওমি মাদ্রাসা রক্ষায় দেওবন্দের অনুসারী দলগুলোকে জামায়াত ছাড়তে হবে।

খেলাফত মজলিসের দুই অংশ, নেজামে ইসলাম নেতারা এই বৈঠকে হেফাজত আমিরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কওমি ধারার দলগুলোর ঐক্যে তারাও থাকবে। দেওবন্দের উসুলের বাইরে তারা যাবেন না।

হেফাজতের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কওমি মাদ্রাসার মুরব্বি হিসেবে পরিচিত আলেমরা দশকের পর দশক মওদুদীবাদের সমালোচনা করেছেন। সেই ঘরানার দলগুলোর জামায়াতের জোটে থাকা তাদের আদর্শিক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে হেফাজতের আমির ও মহাসচিব জামায়াতকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। হেফাজত আমির জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম বলেও ফতোয়া দেন। যদিও সংগঠনটির নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী সমকালকে বলেছেন, হেফাজত তার অরাজনৈতিক চরিত্র থেকে কওমি ধারার দলগুলোকে একসঙ্গে থাকার নসিহত দিয়েছে।

তবে হেফাজতের এই অবস্থানকে সরকারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে জামায়াত। দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেন, হেফাজতের আমিরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা সবাই বিএনপির ঘনিষ্ঠ। বিএনপির এক প্রার্থী ঋণখেলাপি হয়ে আদালতের রায়ের শপথ নিতে না পারায় তাঁর জন্য প্রকাশ্যেই দোয়া করেন হেফাজত নেতারা। জামায়াতকে অনৈসলামিক দল বলে আখ্যা দেন। আবার গুলশানে এসে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে কওমি ধারার দলগুলোকে জামায়াতের জোট থেকে বের করে নেওয়ার প্রচেষ্টায় সরকারের মদদ রয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিকে দুর্বল করতেই সরকার তা করছে।

স্থানীয় সরকার নিয়ে শরিকদের ক্ষোভ

দেশের সব সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে দল সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থী ঠিক করেছে জামায়াত। প্রার্থীরা মাঠে কাজ শুরু করেছেন আগে থেকেই। আগস্টে ইউনিয়ন পরিষদের তপশিল ঘোষণা হতে পারে। অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছর ধরে ধাপে স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ে ভোট হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।

সব জায়গায় জামায়াত এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করায় নাখোশ শরিকরা। তারা স্থানীয় নির্বাচনেও জোট চান। বাংলাদেশ খেলাফতের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন সমকালকে বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য জুলাই সনদের পক্ষে সক্রিয় রয়েছে।

একাধিক দলের নেতা সমকালকে বলেন, জামায়াত শরিকদের জুলাই সনদ ইস্যুতে পাশে রেখে যদি স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করে, তাহলে শরিকদের কী লাভ?
এনসিপি ছয়টি সিটি করপোরেশনের জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ১০০ উপজেলা এবং পৌরসভাতে সম্ভাব্য প্রার্থীর নামও তালিকা করে রেখেছে। এ দলটি এককভাবে নির্বাচনের কথা বলছে, তবে তারাও চায় স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোট থাকুক।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করবেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অন্তর্বর্তী সরকারের এই সাবেক উপদেষ্টাকে সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী করা হয়নি।

জামায়াত দক্ষিণ সিটিতে গণঅভ্যুত্থানের আরেক ছাত্রনেতা আবু সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা না দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম সম্প্রতি ছাত্রজীবনের ইতি টেনে শিবির থেকে বিদায় নিয়েছেন। ভিপি পদের মেয়াদ শেষে যোগ দেবেন জামায়াতে। তাই দক্ষিণ সিটি অন্য কাউকে দিতে রাজি নয় জামায়াত।

দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমকালকে বলেন, জামায়াত যখন বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল, তখনও স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করেছে। জাতীয় নির্বাচনে জোট কাজ করলেও স্থানীয় নির্বাচনে তা হয় না।

জামায়াত অতীতে একবার সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী দেওয়া ছাড়া সবসময় বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে– এ তথ্য দেওয়ার পর আবদুল্লাহ তাহের বলেন, তখনও দেখা গেছে জোট খুব একটা কার্যকর হয় না। তার পরও স্থানীয় নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে জোট হতে পারে, যা জেলা বা মহানগর পর্যায়ে ঠিক হবে।

প্রথম আলো

দৈনিক প্রথম আলোর খবর ‘যুদ্ধ আবার পুরোদমে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবার পুরোদমে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তগুলো ওয়াশিংটন আর মানবে না। গতকাল শনিবার ইরানও এমওইউ সম্পর্কে একই অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এভাবে আর দু-তিন দিন হামলা চালালে তেহরান ‘সর্বাত্মক অভিযান’ শুরু করবে।

যুক্তরাষ্ট্র গতকাল টানা সপ্তম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে পারস্য উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট দেশের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইরান।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে এমওইউ সই করে। এতে সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা, ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নেতা ও কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। এ বৈঠকের পরপর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। থেমে থেমে তা অব্যাহত ছিল। কিন্তু গতকাল টানা সপ্তম দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকেও নিশানা করছে। নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে জর্ডানে গত শুক্রবার ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। এর পর থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে মার্কিন বাহিনী।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গতকাল লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করছে। এতেই প্রমাণ হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন ও অকার্যকর’।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলা আরও দু–তিন দিন অব্যাহত থাকলে তেহরান সর্বাত্মক অভিযান আবার শুরু করবে।

পাল্টাপাল্টি হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে টানা সপ্তম দিনের হামলায় তারা ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার ও নৌবাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশে সর্বশেষ মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। দুটি সেতু, একটি সড়ক সুড়ঙ্গ, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার অচল হয়ে পড়েছে।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশ কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) গতকাল জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েতের একটি তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার কারণে কয়েকটি উৎপাদন ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত শেখ ইসা বিমানঘাঁটির বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও সংযোগকারী কয়েকটি সেতু লক্ষ্য করে হামলা চালনো হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে দেশটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় তিন মাস পর শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে ইরান। রাজধানী রিয়াদের কাছে আল-খারজে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু এলাকায় সতর্কসংকেত বেজেছে।
ঘটনার বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, আল-খারজের ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা ইরান হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং অপর এক সেনা নিখোঁজ হয়েছেন।
সেন্টকম জানায়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকানোর অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে। আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর প্রথম পর্যায়ে ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। এরপর এক বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু হয়। এখন জর্ডানে নিহত ২ জনসহ নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬।

যুগান্তর

‘গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগে হোঁচট’-এটি দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে আরও একটি নতুন ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বসিয়ে দৈনিক কমপক্ষে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগে হোঁচট খেয়েছে সরকার। জি-টু-জি নীতির আওতায় দ্রুত তৃতীয় এফএসআরইউ বসানোর সব কার্যক্রম গত সপ্তাহে বাতিল করে জ্বালানি বিভাগ। প্রায় ১৮টি দেশ এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাছে ওই প্রকল্পের ডকুমেন্ট পাঠানো হয়েছিল। অনেক দেশ ও কোম্পানি এ ব্যাপারে সাড়াও দেয়। কিন্তু হুট করে সব কার্যক্রম বাতিল হওয়ায় দেশে চলমান গ্যাস সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, জি-টু-জির আওতায় বিভিন্ন দূতাবাস এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে পাঠানো ডকুমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের এক নীতিনির্ধারক। শুধু তাই নয়, ওই নীতিনির্ধারক এ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বকাঝকা করেন। এমনকি দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন। পরবর্তী সময়ে তার নির্দেশে গত সপ্তাহে ওই এফএসআরইউ বসানোর সব প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্রুত নতুন আরও একটি এফএসআরইউ বসানোর কাজ করছে সরকার। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নতুন একটি এফএসআরইউ বসিয়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো অনেক আগেই দরকার ছিল। ধারণা করা হয়েছিল, বিএনপি সরকার সবার আগে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে। দেশকে বাঁচাবে। কিন্তু নতুন এফএসআরইউ নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত বদল দেশের জন্য ক্ষতিকর। এভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করলে দেশের কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান জীবিত থাকবে না।
দেশে বর্তমানে দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুটের বেশি চাহিদা থাকলেও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ১১০ কোটি ঘনফুটের মতো। মহেশখালীতে বসানো দুটি এফএসআরইউ-এর মাধ্যমে এই এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হয়। দেশের গ্যাস সংকট কাটাতে তৃতীয় এফএসআরইউ বসালে প্রাথমিকভাবে আরও ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুই বছর ধরে এ ব্যাপারে ঘনঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কেবল সিদ্ধান্তের পরিবর্তন : জি-টু-জির আওতায় তৃতীয় এফএসআরইউ বাসানোর জন্য গত মাসে ১২টি কোম্পানির কাছে আরএফপির (রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজল) ডকুমেন্ট এবং ঢাকায় মার্কিন ও চীনসহ বিভিন্ন দূতাবাসে চিঠি দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। ওই ১২টি কোম্পানি হচ্ছে-ওমানের ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড, সৌদি আরবের আরামকো, আজারবাইজানের সকার ট্রেডিং, যুক্তরাষ্ট্রের গানবোর ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি, আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর, ইউএই এর আইআরএইচ গ্লোবাল, চীনের সিএমসি, চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, কাজাগ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট, ইউএইএ-এর গ্রুপ অব কোম্পানিজ অব শেখ আহমেদ ফায়সাল আল কাশেমী এবং বিজি ইনার এক্স লিমিটেড।
জানা যায়, এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো ডকুমেন্ট নিয়ে তারা বেশ ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র এফএসআরইউ বসানোর ব্যাপারে পাঠানো ডকুমেন্টের কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাও করেছে। এর মধ্যে হুট করে সব প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন নতুন এফএসআরইউ বসানোর ডকুমেন্টে আরও কিছু শর্ত বা তথ্য সংযোজন করা হচ্ছে। যাতে নতুন নতুন কোম্পানি এখানে এসে বিনিয়োগ করতে পারে।

কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘ডিজিটাল সেবায় প্রতারণার ফাঁদ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে সাইবার অপরাধ বাড়ছে। বিস্তৃত হচ্ছে প্রতারণার ফাঁদ।
এসব ঘটনার ৯৭ শতাংশ শিকার নারী ও শিশু। এ ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্যবস্তু কিশোরী-তরুণীরা। ব্যাংকসংক্রান্ত আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নিতেও এসব অপরাধী ব্যাপকভাবে সক্রিয়, যার ফলে অর্থ চুরির মতো ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এদের জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোর মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর ও গোয়েন্দো সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, দেশে প্রতি পাঁচজন কিশোরী ও তরুণীর মধ্যে তিনজন সাইবার বুলিংয়ের শিকার। তবে সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে দেশে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন না। অভিযোগ করলেও প্রায় ৭২ শতাংশ মামলা পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে নিষ্পত্তিহীন থাকে বা খারিজ হয়ে যায়।

গত বছরের প্রথম ছয় মাসে সাইবার সহিংসতার শিকারহওয়াদের মধ্যে ৯৭ শতাংশ নারী ও শিশু জানিয়ে সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন প্ল্যাটফর্ম নামে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি থেকে দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ২৯টি তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

পুলিশের গত পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী, তথ্য ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর অধীনে মোট চার হাজার ৭৯৪টি মামলা হয়েছে। কিন্তু পৃথক সাইবার অপরাধ ইউনিট না থাকায় এসব মামলার সঠিক তদন্ত ও নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রের তথ্য মতে, সারা দেশে চার বছরে ৯৪৩টি সাইবার মামলা তদন্ত করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ২১০টি মামলা হয়েছে।

সংঘবদ্ধ একটি সাইবার প্রতারকচক্র সম্পর্কে তদন্তে নেমে সম্প্রতি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলেছে, এই চক্রের সদস্যরা সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম, পরিচয় ও পদবি ব্যবহার করে, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাঁর বন্ধু, সহকর্মী ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে এক স্বজনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সাইবার জালিয়াতচক্র।
গত ২৫ মে জিয়ারত ইসলাম নামের এক চিকিৎসকের মোবাইল ফোনে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের মেসেজ আসে, বেপরোয়া গতির কারণে তাঁর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সড়ক ট্রাফিক আইনের ১৪ ও ২৩ ধারার সবশেষ সংশোধনী অনুযায়ী জরিমানা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না করা হলে এবং কোনো আপিল দায়ের করা না হলে, তা বকেয়া হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে বিলম্ব ফি যুক্ত করা হবে। মেসেজে নিবন্ধন বাতিলসহ আরো কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
মেসেজে জিয়ারতকে সমস্যা সমাধানে এমন এক ওয়েবসাইটে ঢোকার লিংক দেওয়া হয়, ওই ওয়েবসাইটে ঢুকে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিলে নিমেষে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে দুই বাংলাদেশি নম্বরে এক লাখ টাকা ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়। শুধু জিয়ারত ইসলামই নয়, সড়কে এআই মামলা শুরুর পর এমন সাইবার প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন অনেকে।

সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে একাধিক জুয়ার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ শনাক্ত করার কথা জানিয়ে ডিবি সূত্র বলছে, এসব জুয়ার প্ল্যাটফর্মে লেনদেন পরিচালনার জন্য মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তারা বলেন, মোবাইল আর্থিক সেবার দ্রুত সম্প্রসারণ তথ্য, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করেছে। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ছড়ানো, অনলাইন বুলিং, ওয়েবসাইট হ্যাক করে তথ্য চুরি, হুমকি দেওয়া এবং মানহানিকর বা মিথ্যা তথ্য প্রচারও বড় ধরনের সাইবার অপরাধ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘প্রাথমিক শিক্ষক বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়নের নতুন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে বদলি ও পদায়ন কমিটি থেকে অস্পষ্ট ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে এখন থেকে কমিটিতে স্থান পাবেন বিদ্যোত্সাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট করতে সাতটি নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে থেমেছে বড় ‘বদলি বাণিজ্য’। গত মার্চ থেকে জুন-এই চার মাসে সহস্রাধিক বদলি বাণিজ্যের ঘটনা ঘটে। প্রেষণ বা সংযুক্তির মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগরের নামি স্কুলগুলোয় পদায়ন করা হয় বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি অবহিত হয়ে গত ১৫ জুন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলনকে বদলি বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২১ জুন বদলিকে কেন্দ্রীয়ভাবে না রেখে চার স্তরের (উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়) কমিটি গঠন করে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। ঐ দিন এ সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। তবে অনলাইনের পরিবর্তে সনাতন (ম্যানুয়াল) ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন করে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বলতে আসলে কাদের বোঝানো হচ্ছে, তা নীতিমালায় স্পষ্ট ছিল না। ফলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সরকারি শিক্ষকদের বদলির মতো একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বহিরাগত বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যুক্ত করা হলে স্বচ্ছতা নষ্ট হবে এবং তদবির ও অনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। এই সমালোচনার মুখেই নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশোধিত নীতিমালা জারি করে, যা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। পরিবর্তিত নীতিমালা অনুযায়ী, চার স্তরের কমিটির কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র স্থলে এখন থেকে দুজন করে বিদ্যোত্সাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হবেন। নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা কিংবা থানা কমিটি সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও); জেলা কমিটি সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভাগীয় কমিটি সভাপতি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার।

এদিকে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বেও বড় রদবদল করা হয়েছে। আগের নীতিমালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে এই কমিটির সভাপতি করা হলেও, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় কমিটির সভাপতি হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি)। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) এবং সদস্যসচিব হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) দায়িত্ব পালন করবেন।
বদলিতে যুক্ত হলো যে সাতটি নতুন শর্ত: আগের নীতিমালায় বদলির প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। নতুন সংশোধিত নীতিমালায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এক. চাকরির মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলিযোগ্য হবেন না। যে ক্ষেত্রে বদলির পর তিন বছর অতিক্রম না হলে কোনো শিক্ষক পুনর্বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না। দুই. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কেবল শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা যাবে। তিন. কোনো শিক্ষকের আবেদন ছাড়া নিজ বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক কারণে জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি করা যাবে। চার. যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচ জন বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত আছেন কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে বদলি করা যাবে না। পাঁচ. একই বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে যথাক্রমে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা অগ্রাধিকার পাবেন। ছয়. একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিন জন শিক্ষককে ‘সংযুক্তি’ পদায়ন করা যাবে। সাত. বদলির ক্ষেত্রে সব শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষিকারা স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

নয়া দিগন্ত

‘অর্ধলাখ বাংলাদেশী ঘরছাড়া কুয়েতে’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কুয়েতে চার দিন ধরে প্রায় অর্ধলাখ বাংলাদেশীসহ লাখো বিদেশী নাগরিক ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুয়েত সরকারের পূর্বঘোষিত নির্দেশনা না মানার কারণেই এসব বিদেশীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশানে যেতে বাধ্য হয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমে রাস্তায় রাত কাটানো প্রবাসী বাংলাদেশীরা বলছেন, বিদ্যুৎ-পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করার আগে তাদেরকে যদি আর একটু সময় দেয়া হতো তাহলে তারা অন্তত প্রয়োজনীয় মালামালগুলো সরিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু সেই সুযোগটিও তারা অল্প সময়ের জন্য না পাওয়ায় অনেক বাংলাদেশী তাদের পরিবার নিয়ে রাস্তায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এখন তারা কোথায়, কিভাবে নতুন করে বাসা ভাড়া নেবেন তা নিয়েই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গতকাল শনিবার কুয়েত সিটি থেকে একজন বাংলাদেশী নয়া দিগন্তকে জানান, চার দিন আগে কুয়েত সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাসাবিয়া আব্বাসিয়া এলাকা ঘিরে ফেলেন। তার আগে বিশাল ওই এলাকার প্রতিটি বাড়ির বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এরপর তারা ওই এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। যারা সুযোগ পেয়েছেন তারা তাদের মালপত্র বের করে রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে রেখেছেন। আর যারা বের করতে পারেননি তাদের মালামাল নিরাপত্তা বাহিনীই বের করে রাস্তায় রেখে দেন। এভাবে চার দিন ধরে ওই এলাকায় চলছে কুয়েত সরকারের বিরতিহীন অভিযান।

গতকাল সন্ধ্যার আগে খোলা রাস্তায় অবস্থান করা একজন প্রবাসী বাংলাদেশী নয়া দিগন্তকে তার সর্বশেষ অবস্থান জানিয়ে বলেন, কুয়েত সরকার গত ১২ বছর ধরেই হাসাবিয়া এলাকা খালি করার নির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন। তবে সেটি বাড়ির মালিকদের দিচ্ছিলেন। আমরা যারা ভাড়াটিয়া আছি তাদেরকে কখনো কুয়েত সরকার অথবা বাড়িওয়ালারা গুরুত্ব দিয়ে বলেননি। কেন এই এলাকা থেকে সরে যেতে বলছিল কুয়েত সরকার- এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই প্রবাসী বলেন, হাসাবিয়া এলাকার কাছেই এয়ারপোর্ট। এই এলাকাটি ডেভেলপ করবে বলে তারা জানিয়ে আসছিল। কিন্তু গত ১৬ জুলাই হঠাৎ করেই কুয়েতের পুলিশ ও আর্মি এসে আমাদের প্রত্যেক বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে বিদ্যুৎ লাইন এরপর পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন। যখন এটি করা হয় তখন বাইরে তীব্র গরম। মানে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এই অবস্থায় এসি ছাড়া স্ত্রী সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকাটা কতটা যন্ত্রণার তা বলে বোঝাতে পারব না। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কুয়েত সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে এভাবে আমাদেরকে ঘরছাড়া করা হবে তা কল্পনাও করতে পারছি না। এক কথায় অমানবিক। এই মুহূর্তের পরিস্থিতি কেমন জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রায় অর্ধলাখ বাংলাদেশী ছাড়াও লাখেরও বেশি বিদেশী নাগরিক খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছিল। তাদের অনেকেই এখন পুরো কুয়েতে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি ফ্যামিলি অন্য এলাকায় রেখে এখন এসেছি রাস্তায় থাকা মালপত্র নিতে। গাড়ি পেতেও কষ্ট হচ্ছে। যারা খোলা আকাশের নিচে রয়েছে তাদের অনেকেই বাসা খুঁজছে। কেউ এখানে-সেখানে বাড়ির ছাদে ও রাস্তায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্য থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় অনেককে একটি স্কুলে রাখার জন্য শেল্টার হোম খোলা হয়েছে- এমন তথ্যের জবাবে প্রবাসীরা নয়া দিগন্তকে বলেন, বিদেশী লোক হবে কমপক্ষে এক লাখ। আর ওই স্কুলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে ১-২ হাজারের মতো। দূতাবাস থেকে এ বিষয়ে কুয়েত সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাংলাদেশীরা বলেন, এই দেশের সরকারের আইনের বিরুদ্ধে দূতাবাসের যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। তাই তারা কিছু বলছেন না।

কুয়েত সিটি থেকে অন্য এক বাংলাদেশী নয়া দিগন্তকে বলেন, ওই এলাকাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তাদেরকে সরে যেতে কুয়েত সরকার অনেক আগে থেকেই নোটিশ দিয়েছিল। কিন্তু তারা কেউ সরকারের নোটিশকে আমলে নেননি। যার কারণে দেশটির সরকার তাদেরকে উচ্ছেদে কঠোর অ্যাকশানে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে গত ১৬ জুলাই কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে জানানো হয়, কুয়েত কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা এড়াতে দেশটির হাসাবিয়া, আব্বাসিয়া এলাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওই সব ভবন থেকে উচ্ছেদ করে হাসাবিয়ার একটি সরকারি স্কুলে অস্থায়ী শেল্টার হাউজে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশীদের সার্বিক অবস্থা দেখতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। উল্লেখ্য, শেল্টার হাউজে কুয়েত কর্তৃপক্ষ খাদ্য ও পানির ব্যবস্থাসহ এয়ার কন্ডিশনিংয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর ‘রেড লাইন পেরিয়েছে ইরান যুদ্ধ, আঞ্চলিক সংঘাতের মুখে মধ্যপ্রাচ্য’। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল। কাগজে-কলমে সেই সমঝোতা যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনার পথ তৈরির কথা বলেছিল।

কিন্তু নতুন করে শুরু হওয়া হামলা-পাল্টাহামলা দুই দেশকে আবার সর্বাত্মক যুদ্ধের কিনারায় নিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েকদিনে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল করেছে, ওমান উপসাগরে জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে এবং অবরোধ ভাঙার অভিযোগে ট্যাংকার অচল করেছে। ইরানও হরমুজে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান ও ওমান পর্যন্ত। সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পানি শোধনাগার, বন্দর, সেতু, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত-পাল্টা আঘাত হানা হচ্ছে। নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। আবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন একজন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত মার্চের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ প্রথম কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, জর্ডানে ১৭ জুলাই ইরান ও তার মিত্র বাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় আরো একজন সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। হামলায় আহত অন্য চার মার্কিন সেনাকে জর্ডানের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আঘাত পাওয়া অন্য কয়েকজন সেনাকে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা।
অন্যদিকে হুথিরা বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের জ্বালানি পথ বন্ধের হুমকি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ও লোহিত সাগরের পরিবহন রুট একসঙ্গে বিপর্যস্ত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার দ্বিমুখী অবরোধের মুখে পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তখন ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে সরাসরি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিনের রেড লাইনগুলো ভেঙে পড়ায় প্রতিটি নতুন হামলা-পাল্টাহামলায় মধ্যপ্রাচ্যকে বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান কর্মসূচির পরিচালক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার শুরুর জায়গায় ফিরে গেছে। এখন দুই পক্ষকে হয় পিছু হটতে হবে, নয়তো সংঘাত আরো বাড়ানোর পথ বেছে নিতে হবে। হামলার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলও বৃহত্তর সংঘাতের অংশ হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, এমনকি ওমানের মতো ওয়াশিংটনের সহযোগী দেশকে সংঘাতে টেনে আনার ঝুঁকি বিবেচনায় অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধটি পাঁচ কিংবা ১০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বারবার ইরানে বোমাবর্ষণ করতে দেখা যেতে পারে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে আমি বুঝতে পারছি না, ট্রাম্প কীভাবে সামরিকভাবে ইরানের শাসন ব্যবস্থাকে পরাজিত করবেন।’
চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আঘাত করছে, ইরানও পাল্টা আঘাত করছে। এ পরিস্থিতি দেখে আমার ধারণা, সংঘাতটি কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। এমনকি এটি আরো বিস্তৃত হতে পারে। এর সঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকিও জড়িয়ে আছে।’

যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের বাণিজ্যিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধবিরতি সমঝোতায় প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেয়ার কথা থাকলেও উল্লেখ করা হয়েছিল এটি মূলত ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বলছে, হরমুজ আন্তর্জাতিক জলপথ; যুদ্ধের আগের মতোই এটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং টোলমুক্ত থাকতে হবে। এ দ্বৈত ব্যাখ্যাই সাময়িক যুদ্ধবিরতির ভিত দুর্বল করে দেয়।

আজকের পত্রিকা

‘উদ্ধার না হওয়া ১১২ চায়না রাইফেল নিয়ে উদ্বেগ’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩১৮টি প্রায় দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্রের মধ্যে ১১২টি চায়না রাইফেলও রয়েছে। এগুলো কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে গিয়ে থাকলে তা উদ্বেগের বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উদ্ধার না হওয়া গোলাবারুদের সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৯টি। পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, লুণ্ঠিত ৮০ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, বাকি ২০ শতাংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। কিছু অস্ত্র বেচাকেনা হয়েছে, আবার কিছু অস্ত্র সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশের অন্যান্য স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুট, অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব স্থান থেকে ১১ ধরনের ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৩২টি গোলাবারুদ লুট হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৪৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার না হওয়া ১ হাজার ৩১৮টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১১২টি চায়না রাইফেল, ৩৮৪টি শটগান, ৪৪৫টি ৯ মিমি পিস্তল, ২০৫টি ৭.৬২ পিস্তল, ১২৮টি ৩৮ মিমি গ্যাসগান, ৩১টি এসএমজি (টি-৫৬ চায়না), ৭টি টিয়ার গ্যাস লাঞ্চার, ৩টি এলএমজি, ২টি ২৬ মিমি পিস্তল এবং একটি টি-০৮ রাইফেল।

পুলিশের লুট হওয়া অনেক অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছ থেকেও উদ্ধার হয়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডেও লুণ্ঠিত অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। তাই পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রগুলোর একটি অংশ সন্ত্রাসীদের কাছে আছে।
রাজধানীর গেন্ডারিয়া থেকে পুলিশের লুট হওয়া একটি পিস্তল ও আটটি গুলিসহ রনি নামে এক সন্ত্রাসীকে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এর আগে গত বছরের ২১ জুলাই চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পো এবং শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইসার গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির পর পুলিশ বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় শহিদুল ইসলামের একটি আস্তানা পায়। সেখানে থানা থেকে লুট হওয়া দুটি গুলি ও গুলির খোসা পাওয়া যায়। এরপর ২৯ আগস্ট চট্টগ্রামের কুয়াইশ এলাকায় মাসুদ কায়সার ও মো. আনিস হত্যার ঘটনাস্থল থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার পুলিশ পাঁচটি গুলির খোসা (শটগানের কার্তুজ) উদ্ধার করে। যেগুলো থানা থেকে লুট হয়েছিল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। একই বছরের ৩ মার্চ সাতকানিয়ায় পিটুনিতে দুজনের মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ যে পিস্তল উদ্ধার করে, সেটিও নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া। পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তিদের একজন নেজাম উদ্দিন পিস্তলটি সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন।
খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেটেও বিভিন্ন সন্ত্রাসীর কাছ থেকে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা বলেন, থানা থেকে পুলিশের লুট করা অস্ত্র কোনো ভালো মানুষ নেয়নি। নিয়েছে অপরাধীরাই। ওই অস্ত্র দিয়ে তারা যেকোনো অপরাধ করতে পারে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময় তা দেখাও গেছে। লুট হওয়া অস্ত্রের বেশির ভাগ উদ্ধার করায় উদ্বেগ কিছু কমেছে। তবে চায়না রাইফেলের মতো শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য উদ্বেগের। এগুলো কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে থাকলে, তা যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য যথেষ্ট।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে গেছে। এই অস্ত্র বেচাকেনা হয়েছে, কখনো কখনো সন্ত্রাসীরা ভাড়ায় খাটিয়েছে বলেও তাঁদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চালিয়ে এবং পুরস্কার ঘোষণা করেও তেমন সাফল্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে অপারেশন ডেভিল হান্টের দ্বিতীয় পর্ব চলছে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘মেসি রূপকথা নাকি ইয়ামাল ছন্দ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুটবল গোত্র ও দর্শনের এক চূড়ান্ত মহাযুদ্ধের অপেক্ষায় বিশ্ব। একদিকে লাতিন ফুটবলের চিরচেনা ছন্দ, সৃজনশীলতা ও লড়াকু মানসিকতার প্রতিচ্ছবি আর্জেন্টিনা; অন্যদিকে ইউরোপীয় আধুনিক ট্যাকটিকস আর নিখুঁত শৈল্পিক ফুটবলের ঝান্ডাধারী অপ্রতিরোধ্য স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে, তখন মাঠে মুখোমুখি হবে ফুটবলের দুই ভিন্ন প্রজন্ম, দুই ভিন্ন জাদুকর।

৩৯ বছর বয়সী ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসির সামনে সুযোগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনালি ট্রফিতে চুমু খেয়ে বিশ্বমঞ্চকে বিদায় জানানোর। আর ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের সামনে সুযোগ ১৬ বছর পর স্পেনের ফুটবল সাম্রাজ্যকে আবারও বিশ্বের সিংহাসনে বসানোর। শতাব্দীর অন্যতম সেরা এই ফাইনালটি কেবল একটি ট্রফির লড়াই নয়, এটি বার্সেলোনার এক রাজকীয় ব্যাটন বদলের মঞ্চও বটে।

দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বৃত্তটা যেন এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই পূর্ণতা পাওয়ার অপেক্ষায়। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে এই মাঠেই ট্রফি হারানোর বেদনায় কেঁদে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। আজ এক দশক পর, ফুটবল বিধাতা তাকে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই এনে দাঁড় করিয়েছেন এক অনন্য চূড়ায়।

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথচলা ছিল খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অবিস্মরণীয় গল্প। দ্বিতীয় রাউন্ডে মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১১ মিনিটে ৩-২ ব্যবধানের জয়, কিংবা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও মেসির জাদুকরী দুটি অ্যাসিস্টে ২-১ ব্যবধানের জয় প্রমাণ করে এই দলটির ডিকশনারিতে ‘হার’ বলে কোনো শব্দ নেই। ১৯টি গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ম্যাচের ৭৫ মিনিটের পর। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে এই দলটির প্রধান ইউএসপি হলো তাদের ভয়ডরহীন কলিজা এবং অধিনায়কের জন্য নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা। আনহেল ডি মারিয়ার অনুপস্থিতিতে মেসি এখন রাইট হাফ-স্পেস থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার উপস্থিতিই প্রতিপক্ষের রক্ষণকে তটস্থ রাখছে, যা এনজো ফার্নান্দেজ কিংবা লাউতারো মার্তিনেজদের জন্য তৈরি করছে অবারিত সুযোগ। ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা মেসির জন্য এই ফাইনালটি হতে যাচ্ছে অমরত্বের শেষ ধাপ।

অন্যদিকে স্পেনের ফুটবল যেন এক আধুনিক যন্ত্র, যা মাঠে প্রতিটি নিখুঁত পাসের সাহায্যে প্রতিপক্ষকে পিষে ফেলে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর থেকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল আর পেছনে ফিরে তাকায়নি। সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা জানান দিয়েছে কেন তারা এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে গোছানো দল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন