গোড়ালি ব্যথার প্রাথমিক এবং ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

গোড়ালি ব্যথার প্রাথমিক এবং ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

ফন্ট সাইজ:

গোড়ালি ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা, যা হালকা মচকানো থেকে শুরু করে জটিল রোগ পর্যন্ত হতে পারে। গোড়ালি ব্যথা সাধারণত তখনই ঘটে যখন গোড়ালির হাড়, লিগামেন্ট, টেন্ডন বা আশপাশের টিস্যুতে চাপ, আঘাত বা প্রদাহ হয়।যখন গোড়ালির ভেতরের কোনো অংশে চাপ, টান বা ক্ষতি হয়, তখন শরীর সেখানে প্রদাহ তৈরি করে—এটাই ব্যথার মূল কারণ।

গোড়ালি ব্যথার কারণঃ
→মচকানো - হঠাৎ পা বেঁকে গেলে লিগামেন্ট টান পড়ে
→ স্ট্রেইন (Strain) – পেশি বা টেন্ডনে আঘাত
→ টেন্ডোনাইটিস (Tendonitis) – অতিরিক্ত ব্যবহারজনিত প্রদাহ
→আর্থ্রাইটিস (Arthritis) – জয়েন্টে ক্ষয় বা প্রদাহ
→গাউট (Gout) – ইউরিক এসিড জমে ব্যথা
→ফ্র্যাকচার (হাড় ভাঙা)
→প্লান্টার ফ্যাসাইটিস (Plantar Fasciitis) – গোড়ালির নিচে ব্যথা
→অতিরিক্ত ওজন বা ভুল জুতা ব্যবহার
গোড়ালি ব্যথার সাধারণ বৈশিষ্ট্যঃ
→গোড়ালিতে ব্যথা (হাঁটা বা দাঁড়ালে বাড়ে)
→সকালে ঘুম থেকে উঠার পর বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর গোড়ালি শক্ত মনে হওয়া।
→ফোলা ও লালচে ভাব
→শক্ত হয়ে যাওয়া (stiffness)
→নড়াচড়া করতে অসুবিধা
→স্পর্শ করলে ব্যথা
→কখনও নীলচে দাগ (bruise)

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
→X-ray – হাড় ভাঙা বা সমস্যা দেখতে
→MRI / CT scan – লিগামেন্ট বা সফট টিস্যু ক্ষতি
→রক্ত পরীক্ষা – গাউট বা সংক্রমণ সন্দেহে
→ফিজিক্যাল পরীক্ষা – কিছু স্পেশাল টেস্ট আছে যা ডাক্তার নড়াচড়া, ব্যথার স্থান দেখে নির্ণয় করেন। যেমন- Anterior Drawer Test (গোড়ালির লিগামেন্ট (বিশেষ করে ATFL) ছিঁড়েছে কিনা বোঝা), Talar Tilt Test(ল্যাটারাল লিগামেন্ট ক্ষতি নির্ণয়), Thompson Test(Achilles tendon rupture আছে কিনা দেখা), Squeeze Test (হাড় বা সিন্ডেসমোসিস ইনজুরি বোঝা), Windlass Test (Plantar fasciitis নির্ণয়) ইত্যাদি।

1. প্রাথমিক চিকিৎসা (P.E.A.C.E)
P – Protection (সুরক্ষা)
• ইনজুরি হওয়া গোড়ালিকে বিশ্রামে রাখুন
• হাঁটা বা চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন
• প্রয়োজনে ব্যান্ডেজ বা অ্যাংকল সাপোর্ট ব্যবহার করুন
E – Elevation (উঁচুতে রাখা)
• শুয়ে থাকলে পা হৃদপিণ্ডের চেয়ে একটু উঁচুতে রাখুন। এতে ফোলা কমে
A – Avoid Anti-inflammatories: প্রদাহরোধী ঔষধ পরিহার করুন।কারণ এগুলো দীর্ঘমেয়াদী টিস্যু নিরাময়কে ব্যাহত করতে পারে।

C – Compress(ব্যান্ডেজ): ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ দিয়ে হালকা চাপ দেওয়া।
E – Educate:নিজেই বুঝুন যে আপনার শরীর নিজেই নিজেকে সারিয়ে তুলতে জানে। স্বাভাবিকভাবে সেরে উঠতে দিন।

2. ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা
→ম্যানুয়াল থেরাপি
→পা সামনে-পেছনে নড়ানো
→ঘুরিয়ে নড়ানো
→পায়ের পেশি স্ট্রেচ
→ধীরে ধীরে গোড়ালি উঠানো
→Strengthening Exercise

3. ইলেক্টোথেরাপিঃ
→আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি(UST)
→TENS (pain relief)
→টেপিং / ব্রেস ব্যবহার
→শক ওয়েভ ডায়াথারমি(Shock Wave Diathermy)

সতর্কতা
→ হঠাৎ দৌড় বা লাফ দেওয়া এড়িয়ে চলুন
→আরামদায়ক ও সঠিক সাপোর্টযুক্ত জুতা পরুন
→ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
→ ব্যথা থাকলে জোর করে হাঁটবেন না
→ গরম-ঠান্ডা সেক ফিজিওথেরাপিষ্টের পরামর্শ অনুযায়ী নিন

লেখক
মোঃ আব্দুল আলীম
ফিজিওথেরাপিস্ট
চেম্বার: আলোক মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬
হটলাইন: ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন