চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ১০ শ্রমিকের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। দগ্ধ অন্যদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতরা হলেন- বোয়ালখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিদারুল আলম (৩২) এবং পটিয়া উপজেলার হুলাইন গ্রামের মোহাম্মদ নুরুল আলম (৪৫)। হাসপাতাল সূত্র জানায়, দিদারুলের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং নুরুল আলমের প্রায় ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. লিটন কুমরা পালিত জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে নুরুল আলম এবং রাত ৯টার দিকে দিদারুল আলম মারা যান।
আইসিইউতে ভর্তি থাকা বাকি তিনজনের অবস্থাও সংকটাপন্ন। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আইসিইউতে নেয়া হলে তাদের মধ্যে দুজন মারা যান। বাকি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। আহতরা হলেন, রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার উজ্জ্বল দাশ (৫৩), নগরের মাদারবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ লিটন (২৮), লোহাগাড়ার চুনতীর সিরাজুল ইসলাম (৩৪), রাউজানের মোহাম্মদপুর এলাকার জাহিদুল আলম (৪২), বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার জাহিদ হোসেন (৩৮), বোয়ালখালীর চর খিজিরপুর এলাকার নূরনবী (২৫), পটিয়ার শান্তিহাট এলাকার মাহামুদুল হক (৪৫) এবং চন্দনাইশের কাঞ্চননগর এলাকার সেলিম উদ্দিন (৩০)। বোয়ালখালী থানার ওসি মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন জানান, কারখানার বড় জেনারেটর ও কয়েকটি যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো মেরামতে পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাপের কারণে ভোল্টেজ ওঠানামার একপর্যায়ে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে সেখানে থাকা দুটি এসি বিস্ফোরিত হলে শ্রমিকরা গুরুতর দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে আমাদের দল ঘটনাস্থলে গেলেও তখন আগুনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারি, দগ্ধ ১০ শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
