বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ড পেছনে যারাই থাকুক গ্রেপ্তার হবে: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

ফন্ট সাইজ:

সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি এএইচএম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে শোক ও শ্রদ্ধায় সমাহিত করা হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা মিঠামইন হেলিপ্যাড প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে কাঠবাজার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নামাজে জানাজায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এবং জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। নামাজে জানাজার আগে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তৃতায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি বলেন, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা যত শক্তিশালীই হোক, যারাই জড়িত থাকুক- তারা গ্রেপ্তার হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান এমপি বলেন, হাওর এলাকায় এ ধরনের ঘটনা আর কোনোদিন ঘটেনি। হায়ার করে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে জাহাঙ্গীরের মতো লোককে হত্যা করা হবে- এটা এই দেশে ঘটেনি। আমি যদি আর কিছুদিন বেঁচে থাকি, আমার দল যদি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে, তাহলে জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ নিস্তার পাবে না। মাজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আমাদের সকলের প্রিয় জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি আশা করি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ জোগানদাতা কে সব বেরিয়ে আসবে। তারা গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আসবে। নামাজে জানাজার আগে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, ফজলুর রহমান এমপি ও মাজহারুল ইসলাম এমপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিহত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের মরদেহ দেখতে মিঠামইন উপজেলা সদরের কামালপুর গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় তারা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমবেদনা জানান। এ ছাড়া তারা জাহাঙ্গীরের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে, বুধবার রাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এএইচএম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাদিস মিয়া নামে এক বিএনপি কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মিঠামইন বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বেড়িবাঁধ এলাকার বাগানবাড়ির সামনে অতর্কিত হামলায় আক্রান্ত হন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। অপরিচিত সশস্ত্র তিন যুবক চাপাতি নিয়ে হামলে পড়ে তার ওপর। চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে তারা জাহাঙ্গীরের সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত করে। হামলা থেকে রেহাই পাননি তার সঙ্গে থাকা হাদিস মিয়াও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকেই চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ পাঠানো হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় ভাড়াটে তিন খুনিকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হচ্ছে- বরগুনা জেলার বামনা থানার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার দুধরাজপুর গ্রামের মো. নূর হোসেনের ছেলে মো. মহিন উদ্দিন (৩২) ও রামগঞ্জেরই মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ ওরফে খোকনের ছেলে মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।

এ ব্যাপারে মিঠামইন থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন ভাড়াটে খুনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন