তেঁতুলিয়ার ভাঙনে নিঃস্ব মানুষ, আতঙ্কে ৫ শতাধিক পরিবার

তেঁতুলিয়ার ভাঙনে নিঃস্ব মানুষ, আতঙ্কে ৫ শতাধিক পরিবার

ফন্ট সাইজ:

উত্তাল তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। নদীর করাল গ্রাসে ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে অসংখ্য বসতভিটা, ফসলি জমি, এমনকি কবরস্থানও। বারবার ঘরবাড়ি হারিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হতাশায় দিন পার করছেন অনেক বাসিন্দা। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা, বন্যাতলী স্লুইসের উত্তর ও দক্ষিণ পাশ এবং গ্রামর্দন এলাকার চার গ্রামের মানুষ।

প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে বেড়িবাঁধের পাড় ভেঙে ধসে পড়ছে মাটি। এরই মধ্যে বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের বেড়িবাঁধসংলগ্ন প্রায় ৫ থেকে ৬শ’ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
বন্যাতলী লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, নদীভাঙনে সব হারাইছি। চারবার বাড়ি করেও টিকাইতে পারি নাই। সাড়ে আট একর জমিও নদীতে চলে গেছে। এখন আর অস্থায়ী বাঁধে কাজ হবে না, ব্লক দিয়ে টেকসই বাঁধ দরকার। বারবার ভাঙা-গড়ার খেলায় আমি পুরোপুরি নিঃস্ব। গ্রামর্দন এলাকার ফরিদ হাওলাদার জানান, কয়েক দফা ভাঙনের পর ১২ বছর আগে পরিবার নিয়ে একই ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, নিজ চোখে ২০০ থেকে আড়াইশ’ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে যেতে দেখেছি। এখন প্রতিদিনই বাঁধের পাড় ভাঙছে, রাস্তাও বিলীন হচ্ছে।

নিজহাওলা গ্রামের বারেক রাঢ়ী বলেন, গত ১০ বছরে চারবার বাড়ি করেছেন। বর্তমান বসতভিটাও যে টিকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, প্রতি বছরই রাস্তার কাজ হয়, আবার বর্ষায় বাঁধ ভাঙে, ঘরবাড়ি ভাঙে। মরার আগে আর নতুন বাড়ি করতে পারবো না। শক্তি নেই, সামর্থ্যও নেই।

সবচেয়ে ভয় হয়, বাড়ির সঙ্গে বাবার কবরটাও নদীতে চলে যাবে। একই গ্রামের সত্তার রাঢ়ীর স্ত্রী লুৎফা বেগম বলেন, একসময় তাদের জমিতে চাষাবাদ হতো, গাছপালা ছিল, কিন্তু সবই এখন স্মৃতি। তিনি জানান, নদীভাঙনে তাদের প্রায় ৫০ একরের বেশি জমি বিলীন হয়ে গেছে। এখন তারা প্রায় নিঃস্ব। এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। বর্ষার তীব্রতা বাড়ার আগেই কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন