সিলেটের জৈন্তাপুরের চিকনাগুল বাজারে অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন। মাত্র ৫ দিনের জন্য ইজারা নেয়া এ পশুর হাট দেড় মাস ধরে চলায় এই কার্যক্রম চালানো হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিকরা সিন্ডিকেট গড়ে এ অবৈধ হাট পরিচালনা করছিল। বৃহস্পতিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে চিকনাগুল বাজারের মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে নির্মিত গরু রাখার শেড অপসারণ করা হয়। একইসঙ্গে বাজার-সংশ্লিষ্টদের তিনদিনের মধ্যে সব স্থাপনা সরিয়ে নেয়া এবং বাজারের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা প্রশাসনের কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রশাসন জানায়, গত ২১শে মে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈদুল আজহা উপলক্ষে চিকনাগুল বাজারে পাঁচদিনের জন্য অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী ২৪ থেকে ২৯শে মে পর্যন্ত পশু কেনাবেচার অনুমতি দেয়া হয়। চিকনাগুল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মছদ্দর আলীর ছেলে ইকবাল হোসেনের নামে হাটটির ইজারা নেয়া হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাজার কমিটির কয়েকজনের সমন্বয়ে হাটটি পরিচালিত হলেও নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
এদিকে স্থায়ী বাজার গড়ে তোলায় এলাকার মানুষ বাজারের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কয়েকটি গ্রামের সড়ক দখল করে পশুর হাট বসানো হয়। পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেন এলাকার মানুষ। চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান চৌধুরীর প্রত্যক্ষ মদতে কামাল আহমদসহ কয়েকজন নিয়মিতভাবে হাসিল আদায় করে আসছিলেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাসিলের রসিদও দেয়া হতো। উচ্ছেদ অভিযানের সময় উপস্থিত ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মছদ্দর আলী বলেন, ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্থানীয়দের উদ্যোগে এ পশুর হাট পরিচালিত হয়ে আসছে। সাবেক চেয়ারম্যান এবিএম জাকারিয়া ও আমিনুর রশিদের সময়েও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ টাকার মধ্যে নিলামে হাট ইজারা দেয়া হতো।
বর্তমান চেয়ারম্যানও একইভাবে বাজার পরিচালনা করে আসছেন। এ ছাড়া গত দুই থেকে তিন বছর ধরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাঁচ থেকে সাতদিনের জন্য অস্থায়ী হাট পরিচালনা করে আসছেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অস্থায়ী পশুর হাটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাজার পরিচালিত হচ্ছে-এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাজারের একটি অংশে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধে তিনদিনের সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সব স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে এবং বাজারের মালিকানা ও বৈধতা সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
