ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মাছ চাষের জলাশয় দখল, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানা সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক ব্যবসায়ী। গত ২রা জুলাই বিএনপি’র গুলশানস্থ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জমা দেয়া ওই অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী খালিশপুর থানার সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহিদা খাতুন। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে দেয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, খালিশপুরের নুর ইসলাম মিয়া রোড এলাকার একটি জলাশয় ও সংলগ্ন দোকানঘর ভাড়ার চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিচালনা করে আসছিলেন। মাছ চাষ ও টংঘর ব্যবসার মাধ্যমে তার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। আবেদনে বলা হয়, চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং ওই জলাশয় জোরপূর্বক দখল করে মাছ বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে দোকানঘর থেকেও তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হয়। অভিযোগকারী দাবি করেন, দীর্ঘদিন কোনো সমস্যা না থাকলেও কয়েক মাস আগে থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতে থাকেন। দাবি অনুযায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর, গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের জুন মাসে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা দোকানে এসে ভাড়া ও চাঁদার টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে অভিযোগকারীর চুল টেনে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার ছেলেকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় বিএনপি’র একজন সক্রিয় নেতা এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারের সঙ্গে বিরোধ এবং হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী নিজে ও তার পরিবারের সদস্যরা বিএনপি’র অনুসারী বলে উল্লেখ করেন। আবেদনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ব্যবহৃত দোকানঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারালে তার পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত খালিশপুর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ছাড়া দলের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
