একটি গরু থেকে ৩৪টি গরু মাসে আয় ৩ লাখ টাকা

একটি গরু থেকে ৩৪টি গরু মাসে আয় ৩ লাখ টাকা

ফন্ট সাইজ:

মাত্র একটি গরু দিয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা। তখন ছিল না বড় কোনো পুঁজি, ছিল শুধু স্বপ্ন, সাহস আর কঠোর পরিশ্রম। সেই ছোট উদ্যোগই আট বছরের ব্যবধানে পরিণত হয়েছে একটি আধুনিক গরুর খামারে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ শিবপুর এলাকার মো. লিয়াকত আলী (সেলিম) এখন একজন সফল খামারি। তার খামারে বর্তমানে রয়েছে ৩৪টি গরু। প্রতিদিন প্রায় ১৪০ কেজি দুধ বিক্রি করে মাসে আয় করছেন ৩ লাখ টাকারও বেশি। পাশাপাশি বাছুর বিক্রি করে বছরে আরও প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। জানা গেছে, খামারটিতে বর্তমানে ১৩টি দুধের গাভী রয়েছে। এসব গাভী থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪০ কেজি দুধ উৎপাদন হয়। প্রতি কেজি দুধ গড়ে ৭২ টাকা ৩২ পয়সা দরে বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ১২৫ টাকা আয় হয়।

সে হিসাবে মাসিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার ৭৫০ টাকা। এ ছাড়া বাছুর বিক্রি করেও বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় করেন তিনি। খামারটিতে বর্তমানে তিনজন কর্মচারী কাজ করছেন। তাদের বেতন-ভাতাসহ প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। খামারের অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ১৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন লিয়াকত আলী। খামারটিকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর কারিগরি সহযোগিতায় আইওটি (ওড়ঞ) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে, কমেছে পরিচালন ব্যয়। এ ছাড়া জৈব সার উৎপাদনের জন্য একটি বিশেষ প্লান্ট স্থাপনে সহায়তা করেছে সংস্থাটি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকি করছেন তিনজন প্রাণী চিকিৎসক। ইপসা’র কৃষি কর্মকর্তা সুমন দেব নাথ জানান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়ন ও ইপসা’র কারিগরি সহায়তায় সীতাকুণ্ডে প্রাণিসম্পদ খাতে খামার আধুনিকায়ন ও মেকানাইজেশনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে লিয়াকত আলীর খামারে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। ফলে খামার ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হয়েছে এবং উৎপাদন ব্যয় কমেছে। আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব খামার গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
লিয়াকত আলী মানবজমিনকে বলেন, শুরুতে একটি গরু নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলাম।

ধৈর্য, পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার কারণেই আজ এ অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার খামার পরিচালনাকে অনেক সহজ ও লাভজনক করেছে। বেকার তরুণরা পরিকল্পিতভাবে গরুর খামার গড়ে তুললে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহযোগিতা বাড়লে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, লিয়াকত আলীর খামার এখন শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এলাকার নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অনুকরণীয় সফলতার মডেল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন