বেহাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের প্রধান সড়ক। খালের রূপ ধারণ করায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মানুষ। নিয়মিত ছোটখাটো দুর্ঘটনায় নাকাল জনজীবন। শিক্ষার্থী ও রোগীদের কষ্ট নিত্যদিনের। বৃষ্টি হলেই পানি নিষ্কাশন সমস্যায় সকাল বাজার পর্যন্ত ইরি ধানের জমিতে পরিণত হয় সড়কটি। সড়কের পাশের ড্রেনটিতে ময়লা ফেলে ডাস্টবিনে পরিণত করেছে কতিপয় ব্যবসায়ী। ভুক্তভোগী মানুষের হাজারো আবেদন-নিবেদনে একেবারে নীরব সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিরা। তারা দায়ী করছেন পানি নিষ্কাশন, দখলদার ও অনুমোদনবিহীন দোকান/মার্কেট নির্মাণকে। সরজমিন অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা নেই। ময়লায় ভরে গেছে পাশের ড্রেন। বৃষ্টি হলেই সড়কে জমে থাকে পানি।
ফলে সরাইল হাসপাতাল মোড় থেকে সকাল বাজার পর্যন্ত সড়কটির কার্পেন্টিং উঠে ভেঙে বেহাল হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় সড়কটি খালের আকার ধারণ করেছে। সরাইল মহিলা কলেজের সামনে সড়কটির চিত্র ভয়াবহ। সরাইল সদরে প্রবেশের এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছেন। কতিপয় ব্যবসায়ীর ফেলানো ময়লা আবর্জনায় সড়কটির সিসি ঢালাইযুক্ত অংশ ইরি ধানের জমির রূপ ধারণ করে দুর্ভোগ আরও লম্বা করছে। এসব বিষয়ে প্রকাশ্য সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধান ও সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন একাধিক গণমাধ্যমকর্মী। তাও কোনো প্রতিকার বা ব্যবস্থা হয়নি।
ত্রিতাল সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ, লেখক ও গবেষক সঞ্জীব কুমার দেবনাথ ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদর উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি হলে এ সড়কে চলাচলকারীদের কষ্ট দেখলে সহ্য হয় না। এভাবে আর কতো? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ সড়কটি সংস্কার করে জনগণকে স্বস্তি দেন। উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম সড়কটির দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, মূলত পানি নিষ্কাশনের সমস্যার কারণে এমনটি হয়েছে। আগে ড্রেন দরকার। তবে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অনুমোদনবিহীন মার্কেট উচ্ছেদ করতে হবে। এ ছাড়া সড়কের একাংশে ময়লা ফেলাসহ সকল বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয়ে ইউএনও’র সঙ্গে কথা বলছি।
