ফের মার্কিন নির্বাচনে চীনা হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প

ফের মার্কিন নির্বাচনে চীনা হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে একটি বিশেষ ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটদানের নিয়ম আরও কঠোর করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে ২০২০ সালের নির্বাচনে নিজের পরাজয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে সংশয় তৈরি করার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাকেই আবার সামনে এলো। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

ছয় বছর আগের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের ভিত্তিহীন তত্ত্বের বিস্তার এবং নিজের পরাজয় মেনে নিতে না পারার জেদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার মুহূর্তের জন্ম দিয়েছিল। তার সমর্থকরা ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে এক সহিংস হামলা চালায়। পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ এবং অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষা করে এই নির্বাচনী বিতর্ক সামনে এনেছেন। তার এই বক্তব্য ছিল স্ববিরোধী। দুইবার নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্ট মাত্র একটি ব্যক্তিগত পরাজয় নিয়ে অভিযোগ করেছেন এবং নিজের প্রথম প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং খুব ভালো করছে, তবে আমাদের সামনে এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা দ্রুত সমাধান করা দরকার। কারণ সুষ্ঠু ও সততাপূর্ণ নির্বাচন ছাড়া কোনো দেশ মহান হতে পারে না।

নিজের বিজয় নিয়ে সংশয় নেই ট্রাম্পের: ভাষণে ট্রাম্প ভোটগ্রহণ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার বিষয়ে সতর্ক করেন এবং ২০১৮ ও ২০২০ সালের নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু পূর্বে গোপনকৃত নথিপত্র প্রকাশের ঘোষণা দেন। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। নির্বাচন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিকেন্দ্রীভূত নির্বাচনী ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল হলেও ব্যাপক জালিয়াতি থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। ২০২০ সালের নির্বাচনে চীন, রাশিয়া বা কোন বিদেশী শক্তি ভোট গণনায় কারচুপি করেছে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। এমনকি ট্রাম্পের নিজের প্রথম মেয়াদের অ্যাটর্নি জেনারেলসহ রিপাবলিকানদের দ্বারা পরিচালিত একাধিক নিরীক্ষায়ও কোনো বড় জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প ২০১৬ বা ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিজের জয়ের ব্যাপারে কোনো সংশয় প্রকাশ করেননি। ট্রাম্পের ভাষণের সময় হোয়াইট হাউজ একটি ওয়েবসাইট চালু করে যেখানে তদন্ত ফাইল ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের কিছু খণ্ডচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে ট্রাম্প রাশিয়ার চেয়ে চীনের ওপর বেশি আলোকপাত করলেও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কোনো সমালোচনা করেননি। চীন বরাবরের মতোই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে।

ট্রাম্পের ভাষণকে বিপজ্জনক বললেন প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা: ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর সু গর্ডন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর দেয়া বিপজ্জনক ভাষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সিএনএন-কে বলেন, প্রথম মেয়াদে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিদেশী হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করলেও ট্রাম্প তা নিয়ে উপহাস করেছিলেন। অন্যদিকে গত মাসে হোয়াইট হাউজে যোগ দেয়া রক্ষণশীল ভাষ্যকার জন সলোমন জানিয়েছেন, ২০২০, ২০২২ বা ২০২৪ সালের নির্বাচনে কোনো বিদেশী শক্তি ভোট পাল্টে দিয়েছে এমন কোনো প্রমাণ গোয়েন্দা সংস্থার কাছে নেই। তবে নির্বাচনে বিদেশী হস্তক্ষেপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ট্রাম্প তার নতুন বাজেটে মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো সংস্থার বাজেট ৭০৭ মিলিয়ন ডলার কমানোর প্রস্তাব করেছেন, যা মূলত নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার দায়িত্বে নিয়োজিত। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করার কারণে এই সংস্থার ওপর রক্ষণশীলরা অসন্তুষ্ট ছিলেন।

আগামী নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টার অভিযোগ ডেমোক্রেটদের: ডেমোক্রেটরা সতর্ক করেছেন যে ট্রাম্প ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য অতীতে নির্বাচন চুরির মিথ্যা দাবিগুলোকে আবার তোলার চেষ্টা করছেন। ভার্জিনিয়ার ডেমোক্রেট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার ট্রাম্পের এই দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এক্সে বলেন, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বসম্মতভাবে একমত যে চীন ২০২০ সালের নির্বাচনে একটি ভোটও পরিবর্তনের চেষ্টা করেনি।

অন্যদিকে নিউ ইয়র্কের ডেমোক্রেট কংগ্রেস সদস্য জোসেফ মোরেল বলেন, এটি ২০২৬ সালের নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য প্রেসিডেন্টের একটি অজুহাত মাত্র। ডেলাওয়ারের ডেমোক্রেট সিনেটর ক্রিস কুনস সিএনএন-কে জানান, তিনি এমন কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ শোনেননি যেখানে কোনো বিদেশী শক্তি মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করতে পেরেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন