প্রধানমন্ত্রীর পর এবার ইউক্রেনের জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভকে বরখাস্ত করেছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। সরকারের ব্যাপক রদবদলের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদেশী অংশীদার ও সুশীল সমাজের অনুরোধ উপেক্ষা করেই তাকে সরানো হলো। টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে ফেদোরোভ নিজের বিদায়ের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের সেবা করতে পারা তার জন্য বড় সম্মান ছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও দুর্নীতি হ্রাসে তার অবদান রয়েছে বলে মনে করা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মাত্র ছয় মাসের দায়িত্ব পালনকালে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবস্থানের নাটকীয় উন্নতি ঘটান।
তার অধীনে কিয়েভ দূরপাল্লার ড্রোনের সাহায্যে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে সফল আঘাত হানে এবং দখলকৃত ক্রিমিয়াকে মূল রুশ ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়। বিদায়ের দিন ফেদোরোভ জানান, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী সফলভাবে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে, যা যুদ্ধের খরচ ৩০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। ফেদোরোভের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোও পদত্যাগ করেছেন, যার স্থলে নাফতোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কি আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফেদোরোভের এই অপসারণ তার সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছে এবং সেনাপ্রধান কর্নেল জেনারেল ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সাথে তার বিরোধের গুঞ্জনকে উসকে দিয়েছে। মস্কোয় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাকফেলসহ আন্তর্জাতিক মহল জেলেনস্কিকে এই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছিল।
বরখাস্ত হওয়া মন্ত্রীর সহযোগী সের্হি স্তেরনেনকো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রকৃত সংস্কার শুরুই করতে দেয়া হয়নি। বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদ ইরিনা গেরাশচেঙ্কো এবং অনলাইন মন্তব্যকারীরাও জেলেনস্কির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। থিংক ট্যাংক পলিটিকার উপ-পরিচালক আরতেম ব্রনঝুকোভ রেডিও এনভিকে জানান, রাশিয়ার মতো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন এভাবে ঘন ঘন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পরিবর্তন করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
