এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার রাজধানীতে ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। পরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ৬ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেন। অন্য অংশ শাহবাগ মোড় অবরোধ করে ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন।
শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, পুনঃপরীক্ষা ও মূল পরীক্ষার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে গণ্য করা, প্রশ্নপত্রে ভুল প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর প্রদান, শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেয়া, পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি মূল্যায়নে বিবেচনা করা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে শিক্ষকদের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করা।
অন্যদিকে শাহবাগে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলো হলো- দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ই জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
উল্লেখ্য, গত ১৩ই জুলাই বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারেননি। এছাড়াও পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি সৃজনশীল প্রশ্নে ভুল থাকার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এক পরীক্ষার্থীর কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তার ব্যবহৃত একটি শব্দকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনার পর পরীক্ষা স্থগিত, পুনঃপরীক্ষার সুযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী ওই মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগের ঘোষণা দেন।
