সরিয়ে ফেলা হলো স্পেন ও বৃটেনের সীমানা প্রাচীর

সরিয়ে ফেলা হলো স্পেন ও বৃটেনের সীমানা প্রাচীর

ফন্ট সাইজ:

সরিয়ে ফেলা হয়েছে বৃটেন ও স্পেনের মধ্য থাকা সীমান্ত প্রাচীর। দীর্ঘ কয়েক বছর বছর ধরে চলা ব্রেক্সিট-পরবর্তী টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বৃটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করা হয়েছে স্পেন ও বৃটেনের জিব্রাল্টারের মধ্যকার সীমান্ত প্রাচীর। এর ফলে বুধবার থেকে স্পেনের দক্ষিণ প্রান্ত এবং বৃটিশ ভূখণ্ড জিব্রাল্টারের মধ্যে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষকে আর কোনো সীমান্ত বাঁধা পার হতে হবে না। এতে ওই অঞ্চলে অবাধ চলাচলের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। মঙ্গলবার মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সীমান্ত খুলে দেয়ার পর স্পেনের ‘লা লিনিয়া দে লা কনসেপসিওন’ এবং জিব্রাল্টারের মধ্যে উভয় দিক থেকে মানুষ অবাধে যাতায়াত শুরু করে।

ওই দিনই বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে স্পেনের জয়ের কারণে অনেক সমর্থককে স্প্যানিশ ফুটবল জার্সি পরে আনন্দ উল্লাস করতে দেখা যায়, যা সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। জিব্রাল্টারের মুখ্যমন্ত্রী ফ্যাবিয়ান পিকার্দো স্প্যানিশ সম্প্রচারক আরটিভিই-কে বলেন, এখানে যা অনুভূত হচ্ছে তা হলো দুই দেশের মানুষের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ। ২০২০ সালে বৃটেন যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করে, তখন জিব্রাল্টার ও ইইউ-এর মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে গিয়েছিল। দীর্ঘ চার বছরের জটিল ও ধৈর্যশীল আলোচনার পর ২০২৫ সালে একটি সমঝোতা ঘোষণা করা হয় এবং গত মঙ্গলবার স্পেনের সরকারসহ উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। বৃটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি এবং ইইউ-এর বাণিজ্য প্রতিনিধি মারোস সেফকোভিচ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি জিব্রাল্টারের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। এই চুক্তি না হলে জিব্রাল্টারকে কঠোর স্থল সীমান্ত ও পাসপোর্ট চেকিংয়ের মুখোমুখি হতে হতো, যা অঞ্চলটির অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করত। কারণ জিব্রাল্টারের মোট কর্মশক্তির প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ১৫,০০০ স্প্যানিশ নাগরিক প্রতিদিন কাজের উদ্দেশ্যে এই সীমান্ত পার হন।

এখন এই চুক্তির ফলে জিব্রাল্টার কার্যত ইইউ-এর ‘শেনজেন’ মুক্ত চলাচল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হলো। তবে জিব্রাল্টারের বিমানবন্দর ও বন্দরে প্রবেশ এবং প্রস্থানের সময় যুক্তরাজ্য ও স্পেনের সীমান্ত কর্মকর্তারা যৌথভাবে পাসপোর্ট পরীক্ষা করবেন, যা লন্ডন ও প্যারিসের ইউরোস্টার ট্রেন স্টেশনগুলোর ব্যবস্থার মতো। ১৭১৩ সালে জিব্রাল্টারকে বৃটেনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও স্পেন বরাবরই এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। সীমান্ত প্রাচীর অপসারণের এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি মূলত এই অঞ্চলের বিতর্কিত রাজনৈতিক মর্যাদার কোনো সমাধান না করেই কেবল মানুষের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করেছে। ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটে জিব্রাল্টারের ৯৬ ভাগ মানুষ ইইউ-তে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন