সেপ্টেম্বরের শেষেই ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী

সেপ্টেম্বরের শেষেই ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ ২৩ বছর উপস্থিতির পর আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরাক ত্যাগ করবে। মঙ্গলবার আমেরিকা ও ইরাকের কর্মকর্তারা এই যৌথ ঘোষণা দিয়েছেন, যা ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হয়ে পরবর্তীতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে অভিযানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। হোয়াইট হাউজে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা মনে করি না যে সেখানে আমাদের আর সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন আছে। মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর সাথে ইরাকের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্কটি এখন এক বিশাল অংশীদারিত্বের রূপ নিয়েছে যেখানে সামরিক বাহিনীর আর প্রয়োজন নেই।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি বলেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরাক থেকে বের হয়ে যাবে। তবে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকের ভেতরেই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র এখন আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দায়িত্ব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইরাকি সেনাদের ওপর হস্তান্তর করছে। ২০০৩ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে এক ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে আক্রমণ শুরু করেছিল। এরপর বাগদাদে মার্কিন পদাতিক সেনা প্রবেশ করে। এই আক্রমণটি মূলত সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র লুকিয়ে রাখার ভুয়া দাবির ওপর ভিত্তি করে চালানো হয়েছিল। যার কোনো অস্তিত্ব পরবর্তীতে আর পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সালে ইরাকে বিদ্রোহ দমনের চরম পর্যায়ে মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছিল। ওবামা প্রশাসন ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা সম্পন্ন করার পর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ যুদ্ধকালীন মার্কিন সেনারা ইরাক ত্যাগ করে।

২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের উত্থান এবং ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা তাদের দখলে চলে যাওয়ার পর ইরাক সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন ও সহযোগী দেশের বাহিনী পুনরায় দেশটিতে ফিরে আসে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ভেঙে পড়া পুলিশ ও সামরিক ইউনিটগুলোকে পুনর্গঠন ও নতুন করে প্রশিক্ষণ দেয়া। আইএস তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল হারানোর পর ২০২১ সালে জোটের সামরিক অভিযান শেষ হয়। তবে প্রশিক্ষণ ও যৌথ অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রায় আড়াই হাজার সেনা ইরাকে রেখেছিল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন