প্রথম আলো
‘সংবিধান সংশোধনে নিজের পথে সরকার, অনড় বিরোধী দলও’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি না মেনে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পথেই এগোচ্ছে সরকারি দল। তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। এ জন্য বিশেষ কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ দেবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সংসদে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে বিশেষ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করছে বিরোধী দল। তাদের পরিকল্পনা, সংসদে বিশেষ কমিটির বিরোধিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথের কর্মসূচি জোরদার করা। বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে তাঁরা অনড় রয়েছেন।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও বিরোধী দল তাতে সায় দেয়নি।
গত সোমবার সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দল এই কমিটির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। তাদের অনুপস্থিতিতেই কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি পাস হয়।
এই কমিটি ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা কারও নাম দেয়নি। এ কারণে পাঁচটি পদ আপাতত শূন্য রেখে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিএনপির আট সংসদ সদস্যের পাশাপাশি রাখা হয়েছে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. অলিউল্লাহকে।
তবে মো. অলিউল্লাহ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যদের মতো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তিনি গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে না জানিয়েই কমিটিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটি গঠনের সময় তিনি সংসদে ছিলেন না। পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে বিষয়টি জানতে পারেন।
ইসলামী আন্দোলন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে উল্লেখ করে মো. অলিউল্লাহ বলেন, ‘৭০ পার্সেন্ট জনগণের রায়কে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। তারা (সরকার) যেভাবে করতেছে, এটা তো জনগণের গণভোটের রায়কে প্রত্যাখ্যান করার শামিল।’
এর আগে সোমবার সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থেকেই তাঁরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। তাই সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
পরে সোমবার রাতেই বিরোধীদলীয় নেতা সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন। সরকার গঠনের জন্য জনগণের দেওয়া ভোট মেনে নেওয়া হলেও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি সরকারকে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তা না হলে রাজপথে কর্মসূচি চলমান রাখার ঘোষণা দেন।
তবে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সোমবার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানে সংস্কার পরিষদের বিধান যুক্ত হলে তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। আর সেই আলোচনার উপযুক্ত স্থান সংসদের সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও বিরোধী দল তাতে সায় দেয়নি।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক ও টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। সেই পথে অগ্রসর না হয়ে বিএনপি জাতিকে একটি গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংসদ ও রাজপথে চাপের পরিকল্পনা
বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, বিশেষ কমিটির বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ সংসদে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংসদে বিশেষ কমিটির বিরোধিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাঠেও আন্দোলন জোরদার করা হবে।
জামায়াতের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গণভোটের রায়ের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন জাতীয় অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে; কিন্তু সরকার সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, এ কারণে সংসদে বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তৃণমূল পর্যন্ত আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান প্রশ্ন তোলেন, অতীতে সংবিধান সংশোধনের সময় বিশেষ কমিটির প্রয়োজন হয়নি, এবার কেন হলো। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, আগের কয়েকটি সংশোধনী আদালতে বাতিল হয়েছে। এ জন্য বিরোধী দল সংবিধানের মৌলিক সংস্কার আনার জন্য সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে ছিল; কিন্তু সরকার সে পথে যায়নি।
এদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বদলে বিশেষ কমিটি গঠনের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনও। গতকাল এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণভোটে জনগণ মৌলিক সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করে সরকার রাজনৈতিক প্রতারণার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
বিরোধের মূলে দুই পথ
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব। সরকার এই সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করে বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধনী বিল আনতে চায়।
কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছে, সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে।
জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তারা এটিকে সাধারণ সংবিধান সংশোধন নয়, ‘সংবিধান সংস্কার’ হিসেবে দেখছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, দুর্ভোগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সারা দেশে চরম দুর্ভোগে পড়েন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। এরই মধ্যে চলছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় ঘর থেকেও বের হওয়া কঠিন ছিল। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সোমবারের পরীক্ষা পেছানোর দাবি করেছিলেন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মন্ত্রণালয় তাদের দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এতে অনেক শিক্ষার্থী বিপাকে পড়ে। বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রশ্নপত্রের ত্রুটির অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৮ দাবি জানায়। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেয়।
পরে মিছিলসহ জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা সংসদের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়। পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। রাতে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনের কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অ্যাম্বুলেন্স ও বিদেশগামী যাত্রীসহ নগরবাসী। এমন পরিস্থিতিতে অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা ইন্ধন দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কিছু ভিডিও ও পোস্টও ছড়িয়ে পড়ে।
তিন দফা দাবি আদায় না হলে আজ বুধবার পরীক্ষা শেষে ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির পালনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। রাত ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে প্রথম দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি সমাপ্তি শেষে সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মিরাজ আন্দোলনকারীদের পক্ষে নতুন এই কর্মসূচির কথা জানান।
ঘটনা যেভাবে বিস্তার ঘটে: সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল ১০টার পর রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হতে শুরু করে। একইসময়ে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হয় আশপাশের কলেজের শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার পর তারা সায়েন্সল্যাব মোড় বন্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২-১৫টি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করে। তারা ‘একদফা এক দাবি, মিলনের পদত্যাগ; আমি কে তুমি কে, ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি; এক দুই তিন চার, মিলন তুই গদি ছাড়, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’-এ ধরনের স্লোগান দেয়। দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যায়। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ভিসি চত্বরের সামনে থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তারা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে গিয়ে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দেয়। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে পলাশী হয়ে বকশিবাজারে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডের ভেতরে ইট ছোড়ে ও গেটে ধাক্কাধাক্কি করে। তখন পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। বেলা সোয়া ৩টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে ফের সায়েন্সল্যাবে এসে অবস্থান নেয়। বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত সায়েন্সল্যাবে অবস্থান শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে রওয়ানা দেয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলার সময় ভবনের সামনে অবস্থান নেয় তারা।
সরেজমিন দেখা যায়, প্রথমে পুলিশ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান ফটক থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত নিয়ে যায়।
যেভাবে সূত্রপাত: সোমবার ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে আন্দোলনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসাবে মঙ্গলবার সকাল থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়, শাহবাগ, উত্তরা ও মিরপুরসহ কয়েকটি স্থানে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় ঢাকার বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা। এ ছাড়া রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, রংপুর জিলা স্কুলসহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সায়েন্সল্যাবে আন্দোলনকারী বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান জানায়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ বাধা দিয়েছে ও হামলা করেছে। এতে অনেকে আহত হয়েছে। দাবি না মানলে আগামীকালও (আজ) আন্দোলন চলবে। শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, তারা মোট আট দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-শিক্ষামন্ত্রীকে নিজের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে; পরীক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের ‘গবেষণা’ বন্ধ করতে হবে; দেশের পরিস্থিতি ও পরীক্ষা কেন্দ্র উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুলের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নম্বর দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তারা। তাদের আট দফা দাবির মধ্যে প্রধান তিনটি দাবি হলো-শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং অসংগতিপূর্ণ কথাবার্তার জন্য ক্ষমা চাওয়া, ১৩ জুলাইর পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া এবং ১৫ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত ও নতুন রুটিন প্রকাশ।
শিক্ষার্থীদের অবরোধে যানজটে স্থবির ঢাকা : রাজধানীতে সড়ক অবরোধের কারণে দিনের বেশির ভাগ সময় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে উত্তরা, বিমানবন্দর সড়ক, ইসিবি চত্বর, সায়েন্সল্যাব ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। অনেক যাত্রীকে ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে হেঁটে বিমানবন্দরের উদ্দেশে যেতে দেখা যায়। কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়ে। এতে সাধারণ যাত্রী, রোগী ও বিদেশগামীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
কালের কণ্ঠ
‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে ঝুঁকিতে কোটি প্রাণ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের বাজারে নীরবে বিস্তার ঘটছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বাণিজ্য। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের ফার্মেসি, ওষুধের গুদাম, এমনকি কিছু হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেও মিলছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।
গত ছয় মাসে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযানে নিয়মিতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ উদ্ধার, জরিমানা ও মামলা হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, বিচ্ছিন্ন অনিয়মের গণ্ডি পেরিয়ে সমস্যাটি এখন সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে এ ধরনের ওষুধের ধারাবাহিক উপস্থিতি তদারকি ও ওষুধ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রতিফলন। আইনে কঠোরতা থাকলেও প্রয়োগে শিথিলতায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিস্তার ঘটছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ‘ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উৎপাদন, বিক্রি বা প্রদর্শন করলে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে।
তবে ভেজাল ওষুধ বিক্রি ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই আইনের প্রয়োগ কম।
তদারকির ঘাটতি, অবিক্রীত ওষুধ ফেরত নেওয়ার অকার্যকর ব্যবস্থা এবং দায়িত্বে অবহেলার সুযোগে গড়ে উঠেছে এই অবৈধ সরবরাহচক্র। এর ফলে প্রতিদিনই অজান্তে রোগীর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।
অসাধু ব্যবসায়ীদের লোভের কাছে প্রতিনিয়ত বলি হচ্ছে জনস্বাস্থ্য। ওষুধ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে সাধারণ রোগীরা প্রতারিত হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে হাজারো মানুষ।
ক্ষতিকর দিক ও আইনি কাঠামো: মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ শুধু কার্যকারিতা হারায় না, বরং ক্ষতিকর উপাদান তৈরি করে রোগীর শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের ওষুধ সেবনে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, অঙ্গহানি, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে দুটি শিশুর মৃত্যু: ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর সবুজবাগে ১৬ মাস বয়সী শিশু নাদিয়া খাতুন বমির জন্য স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। পরিবার দেখে, তাকে দেওয়া ভিটামিন সিরাপের মেয়াদ ২০২৩ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর ফার্মেসির মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যান।
একই বছরের অক্টোবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত চার বছর বয়সী শিশু আয়েশা মণিকে স্থানীয় এক কথিত চিকিৎসক ‘আপেলিন’ নামের আয়ুর্বেদিক সিরাপ দেন। ওষুধ সেবনের পরপরই শিশুটির মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন, সিরাপটি সম্পূর্ণ মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। অভিযোগে মামলা করেছে তার বাবা। এ ঘটনায় ফার্মেসি মালিক মোস্তাকিম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই দুই নির্মম ঘটনা প্রমাণ করে, তদারকির অভাব ও অসাধু ব্যবসায়ীদের অবহেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কিভাবে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পণ্য বা ওষুধ বিক্রি করলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে বিধায় এই অপরাধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান মোবাইল কোর্টগুলো গুরুতর এই অপরাধে ১০ বছরের কারাদণ্ডের পরিবর্তে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে অপরাধীদের ছেড়ে দিচ্ছেন। জনস্বাস্থ্যের এই চরম বিপর্যয় রুখতে হলে অপরাধীদের আর্থিক জরিমানা নয়, বরং বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনেই নিয়মিত আদালতে সোপর্দ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।’
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘রাজধানীসহ ১৩ জেলায় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া স্থগিত ও পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ আট দফা দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ অন্তত ১৩ জেলায় সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছেন পরীক্ষার্থী ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীরা সকাল ও বিকাল দুই দফা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। উত্তরা বিএনএস টাওয়ারের সামনে ও ইসিবি চত্বরের উভয় পাশে সড়ক অবরোধ করেন। সকাল থেকে সারা দিন ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে যান। জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলার মধ্যে সংসদের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন বটতলার গেটে অবস্থান নিয়ে ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ স্লোগান দেন তারা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পুলিশ ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থী আঘাত পান। কয়েক জন শিক্ষার্থী পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া করে তাদেরকে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান ফটক থেকে আসাদগেট পর্যন্ত নিয়ে যায়। ঘোষিত নতুন কর্মসূচি হিসেবে আজ বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ পালন করবেন পরীক্ষার্থীরা।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশ জুড়ে টানা ভারী বৃষ্টির পানিতে থইথই চারদিক। গ্রাম থেকে শহর—সবখানে জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও বন্যা। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই গত সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে অনেকে পরীক্ষা দিতে পারেননি। বাধ্য হয়ে কোনো কোনো পরীক্ষার্থী নৌকায় চড়ে কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরীক্ষা দিতে কেউ পেরিয়েছেন হাঁটুপানি, কেউ কোমরপানি। অনেকে রাস্তার খানাখন্দে পড়ে হাবুডুবু খেয়েছেন, কেউ কেউ সাঁতরে পরীক্ষাকেন্দ্রের বারান্দা ছুঁয়েছেন।
এদিকে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি থেকে নিউ মার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কটির উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বিকাল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে তার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সারা দেশে সব কয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। ১১ বছর পর এ বছরের এইচএসসি থেকে শুরু হয়েছে অভিন্ন প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা। কিন্তু বন্যাপরিস্থিতি অবনতির কারণে গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ১৬ জুলাই পর্যন্ত তা স্থগিত থাকবে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১২ লাখেরও বেশি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থী এবার ভোগান্তিতে পড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—কেন ভরা বর্ষা মৌসুমে নেওয়া হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা? শিক্ষাবিদরা বলেন, সারা দেশের এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে যে পরীক্ষা হচ্ছে, তা আয়োজনে সময় ও আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলো অবশ্য দায় নিচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এবার এইচএসসি পরীক্ষা এক মাসেরও বেশি সময় পেছানো হয়েছে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষা ক্যালেন্ডার এলোমেলো হওয়ার রেশ এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি।
নয়া দিগন্ত
‘শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে উত্তাল সারা দেশ’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং শিক্ষামন্ত্রীর ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নজিরবিহীন বিক্ষোভ হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি, কেউ কেউ পরীক্ষাই দিতে পারেননি। এর সাথে সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে অসন্তোষ এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্য আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। দিনভর রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নীলক্ষেত, শিক্ষাভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভ হয়। সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই দাবিতে বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, সিলেট, রংপুর, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম ও সুনামগঞ্জসহ অন্তত এক ডজন জেলায় মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরার অনুরোধ শিক্ষামন্ত্রীর
সারা দেশে আন্দোলনরত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের রাজপথ ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণে যেকোনো ত্রুটি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি পরীক্ষার্থীদের বিনীত অনুরোধ করব, তোমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাও। পরীক্ষাগুলো কিভাবে সুষ্ঠুভাবে নেয়া যায় এবং চলমান সঙ্কট থেকে কিভাবে উত্তরণ সম্ভব, তা নিয়ে আমরা অভিভাবকদের চেয়েও বেশি চিন্তিত। আমরা তোমাদের আশ্বস্ত করছি, কেন্দ্রের অনিয়ম বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে যেখানেই সমস্যা হয়েছে, প্রয়োজনে সেখানেই পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হবে।
তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে সরকার প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে। অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে অতিরিক্ত প্রশ্নপত্রের সেট। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চট্টগ্রামেও এভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হয়েছে এবং কোনো শিক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিগত কয়েকদিনের মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা কেন এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, সারা দেশে প্রায় ২,৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে পুরো সারা দেশের পরীক্ষা হুট করে বন্ধ করা জটিল। চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ধাপে ধাপে এবং পরবর্তীতে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষাই স্থগিত করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, বোর্ড চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া দফতরের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছিল যে, বৃষ্টি আর বাড়বে না; কিন্তু সকালে ওঠে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ মাঠ প্লাবিত। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে মেয়র, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় কেন্দ্রটি মূল ভবনের পাঁচতলায় স্থানান্তর করে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করি।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘১৪ ইকোপার্ক ও ৫৫ ওয়াটার পার্ক নির্মাণের সুপারিশ ড্যাপে, তিন বছরে নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ’। খবরে বলা হয়, একদিকে সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা। অন্যদিকে দিন দিন কমছে সবুজ, ভরাট হচ্ছে জলাধার, সংকুচিত হচ্ছে খাল-নদী।
ফলে দেশের প্রধান এ নগরীর জলাবদ্ধতা, পানির সংকট এবং তাপদ্বীপ (আরবান হিট আইল্যান্ড) সমস্যা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। অথচ রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং জলাবদ্ধতা কমাতে প্রায় তিন বছর আগেই বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ ২০২২-৩৫) ১৪টি ইকোপার্ক ও ৫৫টি ওয়াটার পার্ক নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছিল। যদিও এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
সাম্প্রতিক টানা ভারি বর্ষণে ঢাকার অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ার পর আবারো সামনে এসেছে নগর পরিকল্পনার এ অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির বিষয়টি। নগরবিদদের মতে, পরিকল্পিতভাবে জলাধার ও উন্মুক্ত সবুজ এলাকা সংরক্ষণ করা গেলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা যেমন কমানো সম্ভব, তেমনি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে এসব ইকোপার্ক ও ওয়াটার পার্ক।
ড্যাপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজউকের আওতাধীন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পুরো এলাকা এবং গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত পরিকল্পনা অঞ্চলে মোট ১৪টি ইকোপার্ক এবং ৫৫টি ওয়াটার পার্ক গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। ইকোপার্কের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানকে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, রাজউকের আওতায় থাকা ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের পুরো অংশকে ইকোপার্ক হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি গাজীপুরের ধীরাশ্রম, খালিকাইর ও গাজীপুরা মৌজার প্রায় ২২৭ একর এবং জয়দেবপুরের ভুরুলিয়া মৌজার ৮২ দশমিক ৬৩ একর জমিও ইকোপার্ক হিসেবে সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে ড্যাপে।
পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলোয়ও রাজধানীর ভেতর জলাধার, রিটেনশন পন্ড, বন্যাপ্রবাহ এলাকা চিহ্নিত করে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেগুলোকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি বলে অভিযোগ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের। এ বিষয়ে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকা এখন একটু বৃষ্টিতেই ডুবে যায়। গরমে টেকা যায় না। খাওয়ার পানি পাওয়া যায় না। বারবার নগর পরিকল্পনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানোর ফলই হলো আজকের এ চতুর্মুখী দুর্যোগ।’
রাষ্ট্রের উন্নয়ন দর্শনে মাঠ, পার্ক, জলাধার, বৃক্ষ, বন্যপ্রাণী, পাখি—এসব গৌণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন ড. আদিল মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘সুপারিশ করা হয়েছে ৫৫টি (ওয়াটার পার্ক), দেখা গেল ২০ বছর পর একটি বা দুটি বাস্তবায়ন হলো। আর বাকি সব এলাকা আবাসন, বাণিজ্যিক ভবনে বেদখল হয়ে গেল। এভাবেই তো ঢাকা নষ্ট করেছি আমরা।’
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ইকোপার্কটি হলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নাসিরাবাদের গজারিয়া ও বালুধিতপুর মৌজার ১ হাজার ২০৬ একর ফাঁকা ভূমি। এর আগের ড্যাপে এবং ঢাকা স্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে (ডিএমডিপি) এলাকাটিকে দেখানো হয়েছিল ওয়াটার রিটেনশন পন্ড হিসেবে। যদিও সরকার এখন পর্যন্ত জলাধারটি সংরক্ষণের ব্যাপারে জোরালো কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
ইকোপার্কের জন্য চিহ্নিত রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরখানের স্নানঘাটা, তালনা, ভাতুরিয়া ও ছোট পলাশিয়া মৌজার প্রায় ৫০৮ একর এলাকা। এটিও অতীতে ওয়াটার রিটেনশন পন্ড হিসেবে নির্ধারিত ছিল। বর্তমানে এখানেও সংরক্ষণ কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
আজকের পত্রিকা
‘সংস্কার প্রশ্নে অনড় বিরোধীরা, জোরদার করবে আন্দোলন’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে অনড় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। এ জন্য সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটিকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই কমিটিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছে তারা। দলগুলো বলছে, সংসদে দাবি উপেক্ষিত হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার কথা ছিল, সেটা হলে আমরা অংশ নিতাম। কিন্তু সংশোধনের কমিটিতে নাম দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। সংস্কারের দাবিতে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে কয়েকটি সমাবেশ বাকি আছে। এরপর আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।’
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গত সোমবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। এর প্রতিবাদে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করার পর বাইরে এসে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম অধিবেশনেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেদিনই বিরোধী দল অবস্থান স্পষ্ট করেছিল।
বিরোধী দল ওয়াকআউটের পরে সংসদে কণ্ঠভোটে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাস হয়। এই কমিটিতে ১৭ জন সদস্য থাকার কথা ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দল তা প্রত্যাখ্যান করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
বিরোধীদলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা বলছেন, তাঁরা সংবিধান সংস্কার চান, সংশোধন নয়। এই দাবিতেই তাঁরা শেষ পর্যন্ত অটল থাকবেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এনসিপি অংশ নেবে না। জনগণ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, দল সেই অবস্থানেই অটল থাকবে। সরকার যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি সরকারের বিষয়। তবে এনসিপি জনগণের রায়কে সম্মান জানায় এবং সেই রায়ের পক্ষেই থাকবে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঝুঁকিতে রাষ্ট্রীয় ৪৯ কোম্পানি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে উচ্চ ঋণের দায়ভারের কারণে রাষ্ট্রীয় ১৯ কোম্পানিকে ‘অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৩০টি কোম্পানিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ৪৯ কোম্পানির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বর্তমান সরকার ৫ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার পুঞ্জীভূত দায় খুঁজে পেয়েছে। ওই সব কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় উন্নতির মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তার উদ্দেশ্যে ফিবছর সরকার বাজেট থেকে বরাদ্দ দিলেও আর্থিক অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং বছরের পর বছর লোকসান গুনে আবারও সরকারের কাঁধে দায় চেপেছে।
গত ৩০ জুন প্রকাশিত অর্থ বিভাগের ওই বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অতি উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ১৯ রাষ্ট্রীয় কোম্পানির সম্মিলিত আর্থিক দায়ের পরিমাণ ২ লাখ ২২ হাজার ৩৮১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৩০ কোম্পানির সম্মিলিত দায় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩০ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে মোট ১২২ রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বা স্টেট-ওউন-এন্টারপ্রাইজ (এসওই) এবং অটোনোমাস বডি (এবি) বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আর্থিক চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ৫০টি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো, নিয়মিত নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এবং ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার কথা বলা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৩টির মধ্যে পাঁচটি খুব ভালো করছে এবং ১৮টির আর্থিক বিবরণীতে কোনো ঝুঁকি পাওয়া যায়নি।
অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, এসওই ও এবিসমূহ কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক বিচারে গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু লোকসানে থাকার কারণে সেই ভূমিকা পালনে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। আর্থিক ভিত দুর্বল হয়ে এসব কোম্পানি ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়েছে। পরিচালন ব্যয়ের জন্যও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ধরনা দেয় সরকারের কাছে। বাংলাদেশের এসওইগুলো নিয়ে মাথাব্যথার শুরু ৯০-এর দশক থেকে। বিশেষ করে তৎকালীন সরকারপ্রধান জেনারেল এরশাদের দীর্ঘ শাসনামলে এসব প্রতিষ্ঠানের গভর্ন্যান্স বা সুশাসনে চিড় ধরে। তারপর থেকে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় সরকারের অনেক কোম্পানি। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এসওই নিয়ে একাধিক একক ও যৌথ গবেষণা করে সরকারকে এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণে পরামর্শ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং রাষ্ট্রীয় কোনো কোম্পানি বিক্রির নামে স্বল্পমূল্যে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাতে চলে গেছে। এতে চাকরি হারিয়েছেন শত শত কর্মী। রাষ্টের মূল্যবান সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতিসাধনও করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদে পেশাদারত্বের ঘাটতি, ব্যবস্থাপনা ও নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, জবাবদিহিতার অভাব, অদক্ষ পরিচালনা ও কম উৎপাদনশীলতা, অতিরিক্ত জনবল, পুরনো প্রযুক্তি, দুর্বল অপারেশনাল দক্ষতা, উচ্চ পরিচালন ব্যয়, অস্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, সম্পদের অপব্যবহার ও দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেক এসওই আর্থিক সক্ষমতা হারিয়েছে।
নিজেদের গবেষণায় বাণিজ্যিক ও সামাজিক লক্ষ্য একসঙ্গে বহন করায় অনেক এসওই তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা হারিয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও বিশ্বব্যাংক জানায়, অনেক রাষ্ট্রীয় কোম্পানির উদ্দেশ্য শুধু লাভ করা নয়; বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক উন্নয়ন বা স্বল্পমূল্যে জনসেবা দেওয়াও মূল উদ্দেশ্য। ফলে শুধু লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন সবসময় যথাযথ নয়। কিন্তু এসব খাতে মূল্যনিয়ন্ত্রণ, অদক্ষতা এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, পাটশিল্প, চিনিশিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, রেলওয়ে এবং কৃষি ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘থামছেই না হামে মৃত্যু’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চার মাস পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি হাম। এই চার মাসেই হাম ও এর উপসর্গ কেড়ে নিয়েছে ৭৬৬ শিশুর প্রাণ। সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে টিকা ক্যাম্পেইন চালালেও থামানো যাচ্ছে না সংক্রামক এই ব্যাধিকে। হাম প্রতিরোধে লক্ষ্যমাত্রার বেশি শিশুকে টিকা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু টিকা ক্যাম্পেইনের হিসাবে অনেক শিশু বাদ পড়ায় হাম প্রতিরোধ হচ্ছে না বলে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘হামে ৯৫ ভাগ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। প্রায় ৪০ লাখ শিশুকে টিকার হিসাবে ধরা হয়নি। তাহলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কীভাবে? সাধারণত লক্ষ্যমাত্রা সঠিকভাবে নির্ধারণ করে টিকা দিলে ১৫-২০ দিনে সংক্রামক রোগ হাম নিয়ন্ত্রণে আসার কথা। কিন্তু এখনো হামে শিশুর মৃত্যু ঘটছে, আক্রান্ত হচ্ছে। এটা হতাশাজনক। জাতীয় কর্মসূচিতে ভুল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় এত শিশুর মৃত্যু ঘটল।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা) হামের উপসর্গে ছয় শিশু এবং হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে শুরু হয়েছে হামের সংক্রমণ। এই চার মাসে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৯ শিশু, মারা গেছে ৭৬৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ১৩ জুলাই এর তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৮৩ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পেইনে মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে হিসাবে জাতীয়ভাবে টিকাদানের কভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৩ শতাংশ।
প্রায় সব বিভাগেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ বা অতিক্রম করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি কভারেজ অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। যেখানে ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ২১৮ জনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা পেয়েছে ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৯২ জন, যা ১০৪ শতাংশ। ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে কভারেজ হয়েছে ১০৩ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০২ শতাংশ। বরিশাল ও খুলনা বিভাগে টিকাদান কভারেজ ১০১ শতাংশ হলেও সিলেট বিভাগে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম অগ্রগতি হয়েছে। সেখানে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৬ জনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকা পেয়েছে ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৪৫৪ জন শিশু, যা ৯৯ শতাংশ কভারেজ।
সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও টিকা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে টিকা পেয়েছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৪ জন।
ফলে সিটি করপোরেশন এলাকায় সামগ্রিক কভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৭ শতাংশ। বিশেষ করে গাজীপুর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে টিকাদান কভারেজ যথাক্রমে ১১৪ ও ১১০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জাতীয় গড়ের চেয়েও বেশি।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় দেশে নিয়মিত টিকা কার্যক্রমে শিশুর ৯ মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। হামের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় শিশুর ১৫ মাস বয়সে। কিন্তু হাম-রুবেলার জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার আগে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় টিকা দেওয়া হবে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি দেশের সব শিশুকে। ইপিআইয়ের হিসাবে দেশে এই বয়সি শিশু আছে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন।
তবে ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পর একই বয়সি শিশুদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের। এ ক্ষেত্রে ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুকে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। ভিটামিন এ এবং হাম-রুবেলার ক্ষেত্রে একই বয়সি শিশুদের সংখ্যায় পার্থক্য ৪৬ লাখ। এ শিশুরা টিকা কর্মসূচির হিসাবেই নেই।
