বাংলাদেশের বীমা ব্যবস্থায় আস্থা কেন তৈরি হচ্ছে না, নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে গ্রাহক-সবাই প্রশ্নের মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হঠাৎ তৈরি হয়নি বরং বছরের পর বছর ধরে সঞ্চিত কিছু কাঠামোগত ও নীতিগত ব্যর্থতার ফল। তারা বলছেন, বীমা খাতে আস্থার চরম সংকট তৈরি হওয়ার মূল কারণগুলো হলো- দীর্ঘদিন ধরে দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ও জটিলতা, অস্বচ্ছ ও বিভ্রান্তিকর পলিসি, কোম্পানিগুলোর দুর্বল করপোরেট গভর্নেন্স এবং কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম।
ডিজিটাল ক্লেইম, কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও ই-কেওয়াইসি ছাড়া আধুনিক ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা কার্যত অচল। কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও ডিজিটাল ক্লেইমের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট। গ্রাহকরা মনে করেন, বীমা থেকে টাকা পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় আস্থাহীনতা কাটাতে বীমা খাতের ব্যাপক সংস্কারের তাগিদ দেয়া হচ্ছে। নীতিগত সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দিলে এ খাতে টেকসই পরিবর্তন আসবে না। প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ক্লেইম সুরক্ষাকে আইনি অধিকার হিসেবে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা। ক্লেইম নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা এবং গ্রাহক ক্ষতিপূরণের বিধান কার্যকর না হলে আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। গ্রাহককে কেন্দ্রে না রাখলে বীমা কখনই বিশ্বাসযোগ্য খাত হতে পারে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাসনের দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক প্রয়োগ করতে হবে। নিয়ম ভাঙলে দ্রুত ও কঠোর শাস্তির নজির তৈরি করতে হবে। সেটা হতে পারে লাইসেন্স স্থগিত, পরিচালনা পরিষদে পরিবর্তন কিংবা বাজার থেকে প্রস্থান পর্যন্ত। এতে ভালো ও খারাপ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হবে এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আমার বিশ্বাস। এছাড়া পেশাদার মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। ঝুঁকিভিত্তিক আন্ডাররাইটিং, ডিজিটাল ক্লেইম, কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক না করলে বীমা খাত আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থার অংশ হতে পারবে না।
সম্প্রতি দেশের বীমা খাতের চ্যালেঞ্জ এবং অর্থনীতিতে এ শিল্পের গুরুত্ব নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম, অর্থনীতিবিদ (এফএসিএইচই, এফএলএমআই) ও ল্যাবএইড গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম এবং ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ।
তাদের মতে, বীমা খাতকে সংকট থেকে উত্তরণ করে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো দ্রুত কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটালাইজেশন বীমা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গ্রাহক আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এম আসলাম আলম বলেন, বীমা খাতে প্রশিক্ষিত ও পেশাদার মানবসম্পদ ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শীর্ষ-যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে; তাই দক্ষ জনবল উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। আইডিআরএ-র ক্ষমতা কম থাকায় দুর্নীতি ও প্রতারণা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে পারছে না-যা বীমা ফাঁকি প্রতিহত ও নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা ঝুঁকি মোকাবিলায় শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ও টেকসই বীমা ব্যবস্থা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশেষভাবে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-সহনশীল দেশে অতীব জরুরি। এছাড়া জলবায়ু ঝুঁকি বীমা, কৃষি বীমা চালু করার জন্য আইনি সংস্কার, নির্ভরযোগ্য তথ্য-মডেলিং এবং সাবসিডি কাঠামো প্রয়োজন, কারণ প্রচলিত বীমা সিস্টেম ও আইনের আওতায় ভবিষ্যতের অনিশ্চিত ঝুঁকি সহজেই কভার করা যায় না।
সাকিফ শামীম বলেন, বীমা আছে, কিন্তু বিশ্বাস নেই- স্বাস্থ্য বীমা, সিলভার ইকোনমি ও পেনশন ছাড়া কি টেকসই উন্নয়ন সম্ভব? তিনি জানান, বাংলাদেশে ইন্স্যুরেন্স খাত কাগজে-কলমে বহু বছর ধরে বিদ্যমান; আইন আছে, প্রতিষ্ঠান আছে এবং প্রয়োজনে এর প্রয়োজনও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপলব্ধি করা হচ্ছে। তবু বাস্তবে এটি এখনও সাধারণ মানুষের জীবনে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে পারেনি। ইন্স্যুরেন্স খাতে শক্তিশালী নীতি সংস্কার ও ডিজিটাল রূপান্তর অপরিহার্য। পলিসি ইস্যু থেকে শুরু করে ক্লেইম সেটেলমেন্ট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে স্বচ্ছ, সময়সীমাবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে।
মামুন রশীদ বলেন, বাংলাদেশে বীমা খাতকে দীর্ঘদিন ধরে ‘আস্থার সংকটে থাকা খাত’ বলা হয়। এটি হঠাৎ তৈরি হয়নি, বরং বছরের পর বছর ধরে সঞ্চিত কিছু কাঠামোগত ও নীতিগত ব্যর্থতার কারণেই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। আস্থাহীনতার মূল কারণ শুরু হয় ক্লেইম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থেকে। একজন গ্রাহক যখন নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করার পরও যৌক্তিক সময়ে ক্লেইমের টাকাটা পান না, তখন সেটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়, পুরো খাতের ওপর আঘাত করে। বাস্তবভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশের বর্তমান বীমা পণ্যগুলো দেশের প্রকৃত চাহিদা- বিশেষ করে স্বাস্থ্য বীমা, পেনশন ও কৃষি বীমার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত, পর্যাপ্তভাবে পূরণ করতে পারছে না। অথচ একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এসব পণ্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার কথা। এ ঘাটতির প্রথম কারণ হলো- নীতিগত অগ্রাধিকারের অভাব। দীর্ঘদিন ধরে বীমা খাতকে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, এজন্য বীমা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। কারণ অর্থনীতিতে এ খাতের প্রভাব আরো গভীর। একটি দুর্বল বীমা খাত মানে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে ঝুঁকি সুরক্ষা অনুপস্থিত থাকা। এতে বিনিয়োগ ব্যয় বাড়বে, উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরকারের চাপ বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এটি রাজস্ব, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সাকিফ শামীম আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে উন্নত দেশগুলোতে ইন্স্যুরেন্স খাতের অবদান জিডিপির গড়ে ৭-১২ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশে এই হার এখনো ০.৪-০.৫ শতাংশ মাত্র-বিশ্বমান সত্যিকারের মিড-লেভেল মার্কেটগুলোর তুলনায় অনেক নিচে। স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশটি একটি সংকটের মুখে আছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি লোকজনের নিজের পকেট থেকে দিচ্ছে, যা অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি দারিদ্র্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। অর্থাৎ, অসুস্থতা মানেই আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি। আর একটি শক্তিশালী, বিশ্বস্ত স্বাস্থ্য বীমা ছাড়া এই বাস্তবতা মোকাবিলা করা কঠিন। ইউরোপ ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ থেকে দেখা যায় যে, স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক বা ব্যাপক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পরিচালিত হলে সমাজে এটি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। জাপানে ‘ইউনিভার্সাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স’ এবং ‘লং-টার্ম কেয়ার ইন্স্যুরেন্স’ বাধ্যতামূলক হওয়ার ফলে প্রবীণদের চিকিৎসা ঝুঁকি অনেকটাই কমে গেছে এবং এটি একটি অবিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। একইভাবে ইউরোপের বহু দেশে রাষ্ট্র, নিয়োগকর্তা ও নাগরিক- এই তিন পক্ষের যৌথ অংশগ্রহণে স্বাস্থ্য ও পেনশন বীমার কাভারেজ গড়ে তুলেছে।
তবে আমাদের দেশে এখনো স্বাস্থ্য বীমা ও অন্যান্য ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ হচ্ছে অনিরাপদ ও আস্থাহীন। কারণ: দেশীয় রহংঁৎধহপব ঢ়বহবঃৎধঃরড়হ ৎধঃব খুবই কম — প্রায় ০.৫% জিডিপি; এ হার ভারত (৪%), চীন (২.৪%) ও অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক নিচে। বাংলাদেশে যদিও বর্তমানে প্রায় ৮০টিরয় বেশি লাইফ ও নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি কার্যক্রম চালাচ্ছে, তবুও বাজারের গভীরতা খুবই কম। মূল সমস্যা শুধু কাভারেজের অভাব নয়, বরং বিশ্বাসের সংকট। ক্লেইম পেতে দীর্ঘসূত্রিতা, পলিসির জটিল ভাষা, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং অতীতের কিছু নেতিবাচক অভিজ্ঞতা-সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ বীমাকে নিরাপত্তা নয়, ঝুঁকি হিসেবেই দেখে। ফলে অনেক পলিসি প্রথম কয়েক বছরের মধ্যেই ল্যাপস হয়ে যায়, যা পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থাকে আরও দুর্বল করে।
এই বিশ্বাসহীনতা কাটাতে হলে স্বাস্থ্য বীমাকে আলাদা পণ্য হিসেবে নয় বরং একটি বৃহত্তর সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর অংশ হিসেবে ভাবতে হবে। বিশ্বব্যাংক ও ডঐঙ-র নীতিগত ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে- যেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা বাধ্যতামূলক কাভারেজের আওতায় আসবে। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রিমিয়াম রাষ্ট্র ভর্তুকি দেবে, মধ্য ও উচ্চ আয়ের জনগোষ্ঠী আয়ের অনুপাতে প্রিমিয়াম বহন করবে। এতে করে স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ ব্যক্তি থেকে সরে একটি যৌথ সামাজিক দায়ে পরিণত হবে।
এখানেই সিলভার ইকোনমি ও পেনশনের প্রসঙ্গটি যুক্ত হওয়া জরুরি। বাংলাদেশ দ্রুত একটি এমার্জিং সোসাইটির দিকে এগোচ্ছে, কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য বীমা, পেনশন ও প্রবীণ আবাসন নীতিমালা এখনো বিচ্ছিন্নভাবে ভাবা হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো দেখিয়েছে- স্বাস্থ্য বীমা, পেনশন এবং দীর্ঘমেয়াদি কেয়ার ইন্স্যুরেন্সকে একত্রে ডিজাইন করলে প্রবীণদের নিরাপত্তা যেমন বাড়ে, তেমনি রিয়েল এস্টেট, হেলথ কেয়ার ও সার্ভিস খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। সিনিয়র লিভিং, অ্যাসিস্টেড কেয়ার ও মেডিক্যাল-সাপোর্টেড হাউজিং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ক্ষেত্র হতে পারে। এই পুরো ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে ইন্স্যুরেন্স খাতে শক্তিশালী নীতি সংস্কার ও ডিজিটাল রূপান্তর অপরিহার্য। পলিসি ইস্যু থেকে শুরু করে ক্লেইম সেটেলমেন্ট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে স্বচ্ছ, সময়সীমাবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। গ্রাহক যেন সহজেই বুঝতে পারে সে কী কিনছে এবং প্রয়োজনে কীভাবে সুবিধা পাবে- এই বিশ্বাসটাই সবচেয়ে বড় সংস্কার। একই সঙ্গে কঠোর নিয়ন্ত্রক নজরদারি ও ভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে আস্থা ফিরবে না।
সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের বীমা সংকট মূলত অর্থনৈতিক নয়-এটি একটি নীতিগত ও বিশ্বাসজনিত সংকট। স্বাস্থ্য বীমা, সিলভার ইকোনমি ও পেনশনকে একীভূত করে একটি সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো তৈরি করা গেলে, তা শুধু স্বাস্থ্য খাতের চাপ কমাবে না; বরং একটি নতুন, টেকসই অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করবে। উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে স্পষ্ট পথ দেখাচ্ছে- এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়।
বীমা ব্যবস্থায় আস্থা কেন তৈরি হচ্ছে না: প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
অর্থ বাণিজ্য
৫ মাস আগে
৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬, ৭ঃ১৯ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

MD MASUDUL ALAM
৫ মাস আগেআস্থা তৈরি হওয়ার মতো কি কিছু ঘটেছে?