মানব পাচারের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি বাংলাদেশি নাগরিক

মানব পাচারের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি বাংলাদেশি নাগরিক

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশী নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুন (৩৯) মার্কিন আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী মানব পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়। গত ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর সোমবার টেক্সাসের লারেডোতে তাকে প্রথমবার আদালতে হাজির করা হয়। একটি সম্পূরক অভিযোগপত্রে সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে মানুষ পাচারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানা যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাইফুল্লাহ আল-মামুন এবং তার সহযোগী ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও ৩৮ বছর বয়সী মোক্তার হোসেন, সকলেই বাংলাদেশী নাগরিক। তারা একটি মানব পাচার চক্রের সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্রাজিলের সাও পাওলো এবং দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে অবৈধ উপায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে সহায়তা করতেন তারা। এই অবৈধ ভ্রমণের জন্য ভুক্তভোগী মানুষেরা দালালদের হাজার হাজার ডলার পরিশোধ করেছিলেন। সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদ মিলন হোসেন এবং মোক্তার হোসেন ইতিপূর্বে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন এবং তাদের প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ষড়যন্ত্র করা, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে একাধিকবার মানুষ পাচার করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশে প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানুষ পাচারের সবকটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের অন্যান্য অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর আরও ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন ডুভা, সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ইউএস অ্যাটর্নি অ্যারন রেইটজ এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন্সের (এইচএসআই) ফিনিক্স শাখার বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ জেসন টি স্টিভেন্স যৌথভাবে এই ঘোষণা দেন। ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ, কলম্বিয়ার জাতীয় পুলিশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় এইচএসআই ফিনিক্স এই ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করছে। এই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা’ (জেটিএফএ), যা কার্টেল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত মানব পাচার দমনে মার্কিন সরকারের প্রধান বিশেষ সেল হিসেবে কাজ করে। তবে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি আসামিকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করার আইনি বিধান রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন