চলে গেলেন জমিরউদ্দিন সরকার

চলে গেলেন জমিরউদ্দিন সরকার

ফন্ট সাইজ:

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা বাদ জোহর ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে সম্পন্ন হয়। বাদ আসর জাতীয় সংসদের মূল ভবনের প্রবেশ টানেলে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুই দফা জানাজা শেষে জমির উদ্দিন সরকারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজা হয় জাতীয় সংসদের মূল ভবনের প্রবেশ টানেলে। তার জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জানাজা শেষে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি’র পক্ষ থেকেও তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে অন্যান্য হুইপবৃন্দ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য ও কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং আইনাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকে মরহুমের ধানমণ্ডির বাসায় যান শোক জানাতে। মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, এই বরেণ্য রাজনীতিবিদের প্রয়াণ দেশের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার বিকাশে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। এ ছাড়াও স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সরকারদলীয় চিফ হুইপ, মন্ত্রী এবং এমপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মরহুমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

জমির উদ্দিন সরকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি এক কন্যা নিলুফার জমির এবং দুই ছেলে নওশাদ জমির ও নওফেল জমিরকে রেখে গেছেন। তার বড় ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বর্তমান সংসদে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। এ ছাড়া অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করলে সংসদের স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ২০০২ সালের ২১শে জুন থেকে ৬ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।
জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১লা ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী মুহাম্মদ আজিজ বক্স।

জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি এলএলবি পাস করে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার এট ল সনদ লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্ট থেকে সনদ নিয়ে ১৯৬০ সালের ২৭শে মে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান, দেওয়ানী ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছাত্র জীবনে বাম সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৫ সালে তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। পরে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপ ভাসানীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জমির উদ্দিন সরকার আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সহচর ছিলেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথমে যে জাতীয় গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠন করেছিলেন তাতেও তিনি ছিলেন। পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠা হলে এর স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
আইন পেশায় খ্যাতিমান হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ৫ বার তাকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। ১৯৭১ সালে হাইকোর্টের আইনজীবীদের যে গ্রুপটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, জমির উদ্দিন সরকার তাদের অন্যতম।

জমির উদ্দিন সরকার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় গণপূর্ত ও গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জাতীয় সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ হয়। প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে শিক্ষামন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ছিলেন।

ষষ্ঠ সংসদে গঠিত স্বল্পকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন ১৯৯৬ সালের ১৯শে মার্চ থেকে ৩০শে মার্চ পর্যন্ত আইনমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময়ে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল সংসদে উত্থাপন করেন তিনি।
তিনি ১৯৭৯ সালে দিনাজপুর-১ আসন থেকে বিএনপি’র ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ১৯৯১ সালে ঢাকা-৯ আসন থেকে, ১৯৯৬ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের সপ্তম, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম সংসদে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের পাশাপাশি জমির উদ্দিন সরকার শিক্ষা অনুরাগী ও লেখকও হিসেবে খ্যাতি কুড়ান। তার লেখা গ্রন্থের মধ্যে আছে, গণতন্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, এক নজরে সংসদ সম্পর্কিত বিধিবিধান, লন্ডনে শিক্ষা জীবন, দি ল অব দি সি. লন্ডনে ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ ও ডিগবাজি, গ্নিমপেসেস অব ইন্টারন্যাশনাল ল’, পল রাজ থেকে পলাশী এবং বৃটিশ রাজ থেকে বঙ্গভবন, অষ্টম সংসদে স্পিকার, ল’ অব দি ইন্টারন্যাশনাল রিভারস অ্যান্ড আদার ওয়াটারকোর্স, স্ট্রংগার ইউনাইটেড ন্যাশনস ফর পিসফুল ওয়েলফেয়ার ওয়ার্ল্ড।

বিএনপি’র একদিনের শোক
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সোমবার ঢাকাসহ সারা দেশে একদিনের শোক দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করছে। সোমবার (আজ) সারা দেশব্যাপী শোক দিবস পালন করা হবে। এই উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়সমূহে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং নেতাকর্মীরা প্রত্যেকে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।

জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে সংসদে শোক, সরকার ও বিরোধী দলের স্মৃতিচারণ
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে সততা, প্রজ্ঞা, শিষ্টাচার ও সংসদীয় গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণ করেছে জাতীয় সংসদ। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা তাকে একজন সফল আইনজীবী, প্রজ্ঞাবান সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, আপাদমস্তক ভদ্রলোক এবং দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে তার মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন ছিলেন সততা ও পেশাগত সুনামের অনন্য উদাহরণ। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি, মক্কেল বা সহকর্মীর কাছ থেকে কখনো কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। দলের প্রতি তিনি ছিলেন শতভাগ নিবেদিতপ্রাণ। তিনি বলেন, তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন ভদ্রলোক। তাকে প্রায় সবসময়ই থ্রি-পিস স্যুটে দেখা যেতো। তার পোশাক-পরিচ্ছদই যেন ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে উঠেছিল। একবার তার এলাকার একজন ভোটার তাকে পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় দেখে চিনতেই পারেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি কিংবা আইনজীবী- যে পরিচয়েই তাকে স্মরণ করি না কেন, তার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন পেশাগত ও রাজনৈতিক- উভয় জীবনেই সফল এবং বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি সততা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের নেতাকর্মীরা যখন নানা আইনি জটিলতায় পড়তেন, তখন তিনি বারবার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আদালতে লড়েছেন, কিন্তু কখনো পারিশ্রমিক নেননি। তিনি বলতেন, এটি তার নৈতিক দায়িত্ব। এই ঋণ শোধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন ছিলেন একজন ‘সেলফ-মেড ম্যান’। নিজের মেধা ও যোগ্যতায় তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একাধিকটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্র ও নির্বাচনের প্রতি অবিচল ছিলেন।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঢাকা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে দূর থেকে হ্যাট, কোট ও ছাতা হাতে কাউকে দেখলেই বোঝা যেতো তিনি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি তার মক্কেলদের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ছিলেন।

আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতি আজ একজন মহান রাজনীতিক ও সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। স্পিকার হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসদ পরিচালনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। এ সময় বিএনপি’র এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, এনসিপি’র আখতার হোসেন এবং জামায়াতের নাজিবুর রহমানও শোক প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেন।

আলোচনা শেষে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ওদিকে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের দ্বিতীয়ার্ধের (চেম্বার জজ আদালতসহ) বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিনিয়র এডভোকেট ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন