গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার এক বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করাসহ রুপিয়া বেগম (৩৬) নামের গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। রোববার মামলার বিষয়টি থানার এসআই সুজন সরকার নিশ্চিত করেছেন। এতে ১০ জন নামীয় ও আরও অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের দড়ি তাজপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের স্ত্রী মুস্তরী বেগমের (৩৬) সঙ্গে একই গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে সাইদ মিয়া (২০) পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়। এরই একপর্যায়ে সবার অজান্তে মুস্তরী বেগমকে পালিয়ে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে সাইদ মিয়া বিয়ে করেন। এরপর জহুরুল ইসলাম বাধ্য হয়ে রুপিয়া বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঘর সংসার করে আসছেন।
এরই জেরে সাইদ মিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে জহুরুল ইসলামের মনোমানিল্য চলে আসছিল। এ ধারাবাহিকতায় গত ২৭শে জুন বিকালের দিকে রুপিয়া বেগম তার ভাসুর আনারুল ইসলামের বাড়ি থেকে গাভীর দুধ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সাইদ মিয়া তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাটি জানতে পেরে জহুরুল ইসলাম ছুটে এসে সাইদ মিয়াকে উত্ত্যক্ত না করার নিষেধ করেন। এতে উত্তেজিত হয়ে উঠেন সাইদ মিয়া। একপর্যায়ে সাইদ মিয়া তার দলবল নিয়ে জহুরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করাসহ নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা লুট করে। একইসঙ্গে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের আসবাবপত্র ক্ষতি করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলামের স্ত্রী রুপিয়া বেগম বলেন, ঘটনার সময় আমি বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা আমার পরণের কাপড় টেনে শ্লীলতাহানি করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। মামলটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সাদুল্লাপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক সুজন সরকার বলেন, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় শনিবার রুপিয়া বেগম নামের এক গৃহবধূ এজাহার দায়ের করেছেন। সেটি তদন্তাধীন রয়েছে।
