উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর প্রবল স্রোতে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বহমান যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না নদী ভাঙন। রোববার সকাল ১০টার দিকে নতুন করে উপজেলার যমুনা নদীর শহরাবাড়ি স্পারের সামনের অংশের প্রায় ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম ভাঙন আতঙ্ক। যমুনা পাড়ের মানুষ আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। এ ভাঙন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। তারা ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে গত বছর অক্টোবরে যমুনা নদীর হঠাৎ ভাঙনে ভূমিসহ ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিলÑ যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এবং পানির প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্তে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। পরবর্তীতে ভাঙনকবলিত তীর ধরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলার মাধ্যমে ভাঙন রোধ করা হয়। তবে সম্প্রতি যমুনা নদীতে আবারো পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯শে জুন থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি নদীপাড়ে আঘাত হানছে। এতে জিও ব্যাগ দিয়ে তীর সংরক্ষিত এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি। এ কারণে স্থানীয় লোকজনের মাঝে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দেয়।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয় না। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকা যমুনার গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, ভাঙন শুরুর পর পরই ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বালুভর্তি এই বিশেষ টিউবগুলো নদীর ভাঙন রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ কারণে নদী ভাঙনে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।
z
