প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন দেশের তৃণমূল পর্যায়ের পোল্ট্রি খামারিরা। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের পোল্ট্রি খামারিরা টিকে থাকবে না, সব ঝরে পড়বে। এতে পুরো পোল্ট্রি খাত চলে যাবে বাণিজ্যিক কিছু প্রতিষ্ঠানের অধীনে। এর ফলে সহজলভ্য প্রোটিনের বড় উৎস ডিম কিনে খেতে হবে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ দামে। কর্মসংস্থান হারাবে লাখ লাখ মানুষ।
তাই পোল্ট্রি শিল্পকে টেকসই করতে সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা, ফিড ও ভ্যাকসিনে ভর্তুকি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর আহমেদ চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে পোল্ট্রি খামারিদের ডিজিটাল ডাটাবেজ চালুর দাবি জানানো হয়। এর আগে সারা দেশের পোল্ট্রি খামারিদের রক্ষার ১১ দফা দাবি নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন খামারিরা। এ সময় তারা সিদ্ধ ডিম বিতরণ করে প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিপিআইএ’র সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের হাজার হাজার ডিম উৎপাদনকারী খামারি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন তারা লোকসান গুনছেন। ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকেই লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন- এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের ডিম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পোল্ট্রি খাতে যৌক্তিক মূল্য (ফেয়ার প্রাইস) নির্ধারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে খামারিরা অন্তত ন্যায্য মুনাফা পান এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন। সারা দেশের পোল্ট্রি খামারিদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বিপিআইএ সভাপতি বলেন, সারা দেশের খামারিদের একটি জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ চালু হলে প্রকৃত খামারিদের সহজে শনাক্ত করা যাবে এবং খামারিদের ঝরে পড়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও স্বল্পসুদে ঋণ সরাসরি প্রকৃত খামারিদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কৃষিবিদ অঞ্জন মজুমদার বলেন, নিবন্ধিত খামারিদের জন্য ঋধৎসবৎ ওউ চালুর দাবি জানান। তিনি প্রান্তিক খামারিদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ ও পোল্ট্রি বীমা চালু, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনের জন্য পোল্ট্রি খামার ঘন অঞ্চলে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও খামারি সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে একটি স্থায়ী পোল্ট্রি শিল্প কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফরম বা বাংলাদেশ জাতীয় পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গঠনসহ নানা দাবি তুলে ধরেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিপিআইএর উপদেষ্টা এনসি বণিক, সহ-সভাপতি মেজবাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক সফিকুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গাজী নূর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য মুন্না মুন্সী প্রমুখ।
