কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর, নৌ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে ফজলুর রহমানের ক্ষোভ

হাওরে ডাকাতি

কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর, নৌ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে ফজলুর রহমানের ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

কিশোরগঞ্জের হাওরে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেছেন, হাওরে ডাকাতি দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে এবং পূর্বের রেকর্ডের ভিত্তিতে ডাকাতদের বিরুদ্ধে টানা অভিযান চালাতে হবে। রোববার সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, প্রশাসনের কাছে ডাকাতদের তালিকা অবশ্যই থাকার কথা। পূর্বের রেকর্ডের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলে তারা এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে। হাওরে পানি আসার পর গত কয়েকদিনে করিমগঞ্জ, ইটনা ও মিঠামইনের বিভিন্ন নৌপথে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ৭ই জুলাই রাত ১০টার দিকে করিমগঞ্জের সুতারপাড়া ইউনিয়নের বালিখোলা সংলগ্ন হাওরে লাশবাহী একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় হামলা চালিয়ে ডাকাতরা যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নেয়। পরদিন ৮ই জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইটনার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতু এলাকার বগাডুবি খাল সংলগ্ন হাওরে ব্যবসায়ীদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ও রান্নার সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। এর আগে গত ৭ই জুন সন্ধ্যার পর মিঠামইন ঘাট থেকে বালিখোলা যাওয়ার পথে হাসানপুর সেতু এলাকায় যাত্রীবাহী ট্রলারে ডাকাতদল হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে ডাকাতরা নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মিঠামইন থানায় মামলা দায়েরের পর আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্য গ্রেপ্তার হলেও বেশির ভাগ ডাকাত অধরাই রয়ে গেছে। এই ডাকাতির ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকাল ৫টার পর হাওরে সকল ধরনের যান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। সম্প্রতি পর পর দু’টি ডাকাতির ঘটনার পর কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নির্দেশে ইটনা ও মিঠামইন থানার ওসির নেতৃত্বে ডাকাতিপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জলপথে বিশেষ নৌ-টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে বিকাল সাড়ে ৫টার পর হাওরে নৌ চলাচল না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে নৌ চলাচল বন্ধের প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। শনিবার বিকালে ঢাকা থেকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ব্যথিতভাবে দেখলাম যে প্রশাসন হাওরে ৫টার পর নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি আমার খুব খারাপ লেগেছে। মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলার যে সিদ্ধান্ত প্রশাসন নিয়েছে, এটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, পুলিশের বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন