হামদর্দকে নতুন উচ্চতায় নিতে চাই: কামরুন নাহার

হামদর্দকে নতুন উচ্চতায় নিতে চাই: কামরুন নাহার

ফন্ট সাইজ:

সম্প্রতি হামদর্দ বাংলাদেশের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুন। এর আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ও বিপণন বিভাগ এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সিনিয়র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বাংলাদেশে আধুনিক হামদর্দ এর রূপকার ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার সহধর্মিণী। সম্প্রতি কামরুন নাহারের সঙ্গে হামদর্দের নানা দিক নিয়ে মানবজমিন-এর কথা হয়েছে। তার সঙ্গে হওয়া কথোপকথন তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: ইউনানী আয়ুর্বেদিক খাতে দেশের শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হামদর্দ বাংলাদেশ-এর গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ দায়িত্ব গ্রহণ করায় আপনাকে অভিনন্দন। এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি জানতে চাই।
কামরুন নাহার: আপনাকে ধন্যবাদ। প্রথমত, বলবো- দায়িত্ব বেড়ে গেল। সচেষ্ট থাকবো এটি সঠিকভাবে পালন করে প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে দৃশ্যমান কিছু অগ্রগতি করতে। আমি এ দায়িত্বের সঠিক ব্যবহার করতে চাই। একইসঙ্গে হামদর্দ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ভালো-মন্দের অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে চাই। হামদর্দ এর দর্শনকে সম্প্রসারিত করতে কাজ করে যাবো।

প্রশ্ন: হামদর্দ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
কামরুন নাহার: হামদর্দ একটি কল্যাণমুখী ওয়াক্‌ফ প্রতিষ্ঠান। এর লভ্যাংশ থেকে হামদর্দ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবকল্যাণে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। হামদর্দের পরিসর ও লভ্যাংশ বাড়লে এসব কাজের ব্যাপ্তিও বাড়ার সুযোগ হয়। আপনারা জানেন, বাংলাদেশে হামদর্দ একটি দায়দেনা জর্জরিত দেউলিয়া প্রতিষ্ঠান থেকে ড. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া ধীরে ধীরে উন্নতির এ পর্যায়ে নিয়ে আসেন। এ ধরনের ডেডিকেশন থাকলে হামদর্দ এর সম্ভাবনাগুলোর বিস্তৃতি ঘটানো সম্ভব। এর অংশ হিসেবে আমি চেষ্টা করছি হামদর্দকে নতুন আঙ্গিকে দেশ-বিদেশে সম্প্রসারিত করতে। হামদর্দের শতাব্দী প্রাচীন পানীয় রুহ্‌ আফজার পর আমরূপালি ফ্রুট সিরাপ মানুষের আস্থা তৈরি করছে। আসল আমের পাল্প থেকে তৈরি ফ্রুট সিরাপের কারণে সারা বছর আসল আমের স্বাদ পাওয়ার বিষয়টি মানুষ গ্রহণ করেছে। দেশীয় কাঁচামালে নির্ভেজাল পণ্যের ক্ষেত্রে হামদর্দ বিশ্বস্ততার প্রতীক। বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী হামদর্দের আগামীর সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেবে আশা করি।

প্রশ্ন: হামদর্দ একটি শীর্ষ ওয়াক্‌ফ প্রতিষ্ঠান হিসেবেও সফল, এটা কীভাবে সম্ভব হয়েছে?
কামরুন নাহার: হামদর্দ বর্তমানে দেশের শীর্ষ এবং সফল ওয়াক্‌ফ প্রতিষ্ঠান। আপনি অবাক হবেন, বিশাল সম্পত্তি নিয়ে যখন অনেক ওয়াক্‌ফ প্রতিষ্ঠান দিন দিন ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। হামদর্দ-এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। এর নেপথ্যে রয়েছে একজন ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার এক জীবনের সাধনা। তিনি তার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। দায়দেনায় জর্জরিত এ প্রতিষ্ঠান লে-অফ ঘোষণা করা হয়। শুধু একটা নামকে পুঁজি করে তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর যে লড়াইয়ে নামেন সেটি এখনও চলমান। তিনি প্রমাণ করেছেন সততা, আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টা থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।

প্রশ্ন: হামদর্দে যোগদানের আগে আপনি অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আপনার লেখা বই ইউনানী আয়ুর্বেদিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্স। এ সেক্টরের কল্যাণে আপনার ভাবনা কি?
কামরুন নাহার: হামদর্দ বা ড. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া হলেন এ দেশে ইউনানী-আয়ুর্বেদিক খাতের অভিবাবক। সরকারি ইউনানী আয়ুর্বেদিক ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তাছাড়া ডিগ্রি পর্যায়ে ৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১টি সরকারি ব্যতীত বাকি ৩টি প্রতিষ্ঠান-ই হামদর্দ প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। বর্তমানে হামদর্দের নীতি-নির্ধারণী দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে আমি এ সেক্টরের মানুষ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাজগুলো ত্বরান্বিত করতে সচেষ্ট থাকবো। দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে প্রয়োজনীয় কাজ করতে চেষ্টা করবো। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য শিক্ষার মূলস্রোতের সঙ্গেই আছি। মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন এবং সুশিক্ষিত জনবল তৈরির কাজটি আরও গতিশীল হবে আশা করি।

প্রশ্ন: হামদর্দ পাবলিক কলেজের চেয়ারম্যান এবং হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আপনার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাই।
কামরুন নাহার: হামদর্দ পাবলিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা বা প্রতিষ্ঠাতা ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া কোচিং নির্ভরতার বাইরে জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হামদর্দ পাবলিক কলেজ এক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি লাভ করেছে। অন্যদিকে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষার সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সাধারণ ডিপার্টমেন্ট সমূহের পাশাপাশি আধুনিক ও যুগোপযোগী ডিপার্টমেন্ট সমূহ চালু হয়েছে। এ বছর প্রত্যাশিত কনভোকেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ আবহে। অল্প সময়ে নিজস্ব সুবিস্তৃত ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা সবার নজর কাড়ছে।

প্রশ্ন: এ বছর আপনার নেতৃত্বে হামদর্দ সিঙ্গাপুর থেকে হেল্‌থকেয়ার এশিয়া ফার্মা অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ লাভ করেছে হামদর্দ। এ সাফল্যের নেপথ্য কারণ কি?
কামরুন নাহার: ড. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া সবসময় বলেন, কাজ কাউকে খালি হাতে ফেরায় না। আমি বলবো কাজ-ই আমাদের এ অর্জনের নেপথ্য কারণ। আমাদের প্রচেষ্টার সুফল ও স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি। এ অর্জনের অংশীদার হামদর্দের প্রতিটি সদস্য। কাজের মাধ্যমে আমরা হামদর্দকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। যেটি ইউনানী-আয়ুর্বেদিক বা ওয়াক্‌ফ খাত নয়, শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে হোক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন