আমতলীতে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি

আমতলীতে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি

ফন্ট সাইজ:

বরগুনার আমতলীতে সরকার নির্ধারিত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানো হলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রেতারা এখনো অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। ক্ষোভ বিরাজ করছে ক্রেতাদের মধ্যে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজি’র নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার সিলিন্ডার ভেদে নির্দিষ্ট হারে এলপিজি গ্যাসের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী ১২ কেজি গ্যাস ১ হাজার ৫২৮ টাকা, ১২.৫০ কেজি ১ হাজার ৫৯১ টাকা, ১৫ কেজি ১ হাজার ৯১০ টাকা, ২০ কেজি ২ হাজার ৫৪৬ টাকা, ২৫ কেজি ৩ হাজার ১৮৩ টাকা, ৩০ কেজি ৩ হাজার ৮১৯ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ২০১ টাকা, ৩৫ কেজি ৪ হাজার ৪৫৬ টাকা এবং ৪৫ কেজি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭২৯ টাকা। আমতলী উপজেলায় ১২, ১৫ ও ২০ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের চাহিদা বেশি। এই তিন ধরনের সিলিন্ডার বিক্রিতে চলছে নৈরাজ্য। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে খুচরা বিক্রেতারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার আমতলী উপজেলার পুরাতন বাজার, এ কে স্কুল, বটতলা, আল হেলাল মোড়, হাসপাতাল সড়ক ও নতুন বাজার চৌরাস্তা মোড় এলাকা সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাস বিক্রিতে খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতাদের নিকট থেকে অতিরিক্তি টাকা আদায় করছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের ১২ কেজি সিলিন্ডারের এখনো ক্রেতাদের নিকট ১৭৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত রাখা হচ্ছে ২২২ টাকা।

১২ কেজির টোটাল গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে ১ হাজার ৮শ’ টাকায়। এই গ্যাসে বেশি রাখা হচ্ছে ২৭২ টাকা। ১২ ও ১৫ কেজির যমুনা, আই, সেনা, ওরিয়ন, বিএম সকল সিলিন্ডারেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। তবে সব চেয়ে বেশি নেয়া হচ্ছে টোটাল ১৫ কেজিতে। এই সিলিন্ডারে সরকারি দামের চেয়ে সাড়ে ৪শ’ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে গিয়ে আমরা সেই সুবিধা পাচ্ছি না। অনেক বিক্রেতা পরিবহন খরচ, সরবরাহ সংকট কিংবা কোম্পানির নির্ধারিত মূল্য বেশি এমন নানা অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। আমতলী নতুন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ডিলাররা দাম না কমানোর ফলে আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বটতলা এলাকার খুচরা বিক্রেতা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা কেনা দাম থেকে সামান্য লাভে বিক্রি করি।

বসুন্ধরা গ্রুপের ডিলার মো. মহিউদ্দিন বলেন, কোম্পানি থেকে এখানো দাম কমায়নি। আমরা পাইকারি কিনে হার অনুযায়ী খুচরা বিক্রেতাদের নিকট বিক্রি করি। টোলাল গ্যাসের ডিলার মেসার্স ইব্রাহিম ট্রেডার্স-এর মালিক মীর মো. ইব্রাহিম বলেন, কোম্পানি এখনো দাম কমায়নি। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের সুবিধা আমরা পাচ্ছি না। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, যেসব ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে গ্যাসের দাম বেশি নিবে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন