টানা আটদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়া বান্দরবান পার্বত্য জেলার মানুষের পাশে থেকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলার সদর, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি ও লামা উপজেলায় বন্যার শুরু থেকে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র স্থানান্তর এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে বাহিনী দু’টি সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং নিম্নাঞ্চলের বসতঘর পানিতে তলিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র সদস্যরা দুর্গম ও দুর্গত এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা নৌকা ও বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। একইসঙ্গে পাহাড় ধসপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যার্তদের মাঝে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
অন্যদিকে বিজিবি’র সদস্যরাও জেলার সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকাগুলোতে ব্যাপক ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পানিবন্দি পরিবারগুলোর কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রমেও অংশ নেন তারা। দুর্গত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে বিজিবি সদস্যরা। বন্যার কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে অনেক পরিবার খাদ্য সংকট ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগলেও সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। দুর্গত মানুষের জীবন রক্ষায় এবং কষ্ট লাঘবে তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
বন্যায় আশ্রয় নেয়া এলাকাবাসীরা জানান, “দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে যে সহায়তা করেছে, তা আমরা কখনো ভুলবো না।”
