জুলাই অভ্যুত্থানে আলেম-উলামাদের অবদানের স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়ে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমরা। তারা বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে আলেমরা শুধু বক্তব্য-বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং রাজপথে ছাত্র-জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং হামলা, মামলা, কারাবরণ ও প্রাণহানির শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের প্রতি দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। ‘জুলাইয়ের অগ্নিঝরা দিনগুলিতে উলামায়ে কেরামের অবদান’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এবং ড. মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তালিমুল কুরআন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম এবং বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার মুফতি কাজী ইব্রাহীম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুসলিম জনতা ঐক্য পরিষদের আমির মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, ছারছিনা দরবার শরিফের ছোট হুজুর মাওলানা শাহ মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ, ড. সামিউল হক ফারুকী, ড. আ ন ম রশিদ আহমাদ মাদানী, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ উলামা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন এবং ঢাকা মহানগরী উত্তর উলামা কমিটির সভাপতি ড. মাওলানা মীম আতিকুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা শহীদুল্লাহ, মুফতি মহিউদ্দিন, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মুহাম্মাদ ইকবাল, ড. সাইফুল ইসলাম রফিক, মাওলানা লুৎফর রহমান, খালিদ সাইফুল্লাহ বখশী, মাওলানা হাবীবুল্লাহ রুমী, মাওলানা আতিকুর রহমান নোমানী, মুফতি মিজানুর রহমান, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আ ন ম হেলাল উদ্দিন, ড. মাওলানা মহিউদ্দীন, রফিকুল ইসলাম মিয়াজী, মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, মাওলানা শাহীন হোসাইন চাঁদপুরী, মাওলানা গোলাম আযমসহ দেশবরেণ্য উলামায়ে কেরাম।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানে উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন অবদান তুলে ধরেন। তারা বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পুরো সময়জুড়ে আলেমরা মসজিদের মিম্বর, মাহফিলের মঞ্চ এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশ থেকে তৎকালীন সরকারের অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য, বিবৃতি ও লেখনির মাধ্যমে জনগণকে জুলুমের বিরুদ্ধে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করেছেন। এছাড়া রাজপথে ছাত্র-জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়ে তারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
বক্তারা আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক আলেম হামলা, মামলা, কারাবরণ, অপপ্রচারসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর প্রবেশপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টিয়ারশেল ও গুলির মুখেও তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শহীদদের তালিকায় আলেম-উলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে তারা দাবি করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশপ্রেমিক আলেমদের এই অবদানের সাক্ষী দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা। তাই জুলাই-পরবর্তী গঠিত সরকারের নৈতিক দায়িত্ব রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আলেমদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া এবং দেশ গঠনের কাজে তাদের সম্পৃক্ত করা। একই সঙ্গে তারা সরকারের প্রতি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
