ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মাত্র কয়েক দিন আগে জাতীয় দলকে হোটেল বদল করতে হওয়ায় নরওয়েতে সমালোচনার মুখে পড়েছে ফিফা।
সোমবার বিকেলে মায়ামিতে পৌঁছায় নরওয়ে দল। সেখান থেকে পুলিশের নিরাপত্তা বহরের সহায়তায় তাদের ফোর্ট লডারডেলের দ্য ডালমার হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে ফিফার ব্যবস্থা করা ওই হোটেলে মাত্র এক রাত কাটানোর পরই নরওয়ে দল সেখান থেকে প্রায় তিন মাইল দূরের ফোর সিজনস ফোর্ট লডারডেল হোটেলে চলে যায়।
নরওয়ের সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে (NRK)-এর তথ্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জন্য প্রথমে বরাদ্দ করা কয়েকটি কক্ষে সিগারেটের গন্ধ ছিল, কিছু কক্ষে ছত্রাকের উপস্থিতি পাওয়া যায় এবং কয়েকটি কক্ষ ঠিকমতো পরিষ্কারও করা হয়নি।
তবে নরওয়ের প্রধান কোচ স্টালে সোলবাক্কেন বলেছেন, কক্ষগুলোর সমস্যাগুলো দ্রুতই সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি স্বীকার করেছেন, হোটেলটির অবস্থানও একটি বড় সমস্যা ছিল। কারণ এটি একটি ছয় লেনের মহাসড়ক ও বিশাল নির্মাণকাজের স্থানের পাশে অবস্থিত। এছাড়া নিকটতম সৈকতে হেঁটে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে।
নরওয়ের জন্য দ্য ডালমার হোটেল নির্ধারণ করা ফিফার ভুল ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে টিভি২-এর বিশ্বকাপ বিশ্লেষক ইয়েসপার মাথিসেন নেটাভিসেনকে বলেন, “হ্যাঁ, ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “স্টালে সোলবাক্কেন যেমন বলেছেন, ওই হোটেলে থাকা অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু এখন তারা নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। তাই তারা যে সর্বোত্তম পরিবেশে থাকতে চাইবে এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিতে চাইবে, সেটি পুরোপুরি স্বাভাবিক।”
মাথিসেনের মতে, “ওই পরিবেশে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার ঝুঁকি ছিল, আর সংক্রমণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
মাথিসেন আরও বলেন, “তারা খুব দ্রুতই নতুন একটি হোটেলের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। ভালো বিষয় হলো, সেখানে কক্ষ খালি ছিল এবং তারা তুলনামূলক ভালো, পরিচ্ছন্ন ও শান্ত পরিবেশের একটি হোটেল খুঁজে পেয়েছে।
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা এই পরিবর্তনটি অনেক আগেই করতে পেরেছে। ম্যাচের এখনও কয়েক দিন বাকি। যদি ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো, তাহলে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারত। কিন্তু এখন মাঠে খেলোয়াড়দের ক্লান্ত বা বিরক্ত মনে হচ্ছে না। সবকিছুই সঠিক পথে আছে বলেই মনে হচ্ছে।”
তবে নরওয়েতে এ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও জাতীয় দলের বিশ্বকাপ প্রতিনিধি দলের প্রধান ট্রুলস ডেহলি ফিফার দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।
টিভি২-কে তিনি বলেন, “প্রথম যে হোটেলে আমরা ছিলাম, সেখানে কিছু বিষয় ছিল, যেগুলো আমরা ভিন্ন রকম আশা করেছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “শেষ পর্যন্ত আমরা পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আমরা এখন টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ সপ্তাহে আছি এবং এখানে পুরো এক সপ্তাহ থাকতে হবে। আর যে ম্যাচটি খেলতে যাচ্ছি, সেটি আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।”
“আমরা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার (বেড সোর) ঝুঁকি এড়াতে পেরেছি এবং এই সময়ের মধ্যে এমন কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। সে কারণেই আমরা হোটেল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ডেহলি যোগ করেন, “ফিফা আমাদের পরিস্থিতিটি ভালোভাবে বুঝেছে। তারা দ্রুত সহযোগিতা করেছে এবং তাদের পুরো ব্যবস্থাপনাও নতুন হোটেলে স্থানান্তর করেছে।”
ডেহলি বলেন, “ফিফা আমাদের জন্য ৫০টি কক্ষের খরচ বহন করছে। তারা আমাদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের ব্যবস্থাও করছে। এই হোটেলের খরচ কিছুটা বেশি হওয়ায় আমাদের সামান্য অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে। তবে পুরো পরিস্থিতি যেভাবে সামলানো হয়েছে, তাতে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”
নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্দ বলেন, “কিছু বিষয় আরও ভালো হতে পারত। তাই আমরা পরিবর্তন করেছি, যাতে বড় ম্যাচের আগে নিজেদের প্রস্তুতিকে যতটা সম্ভব নিখুঁত করা যায়।”
গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনা দলও মায়ামিতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে দ্য ডালমার হোটেলেই অবস্থান করেছিল। তবে তাদের পক্ষ থেকে অবস্থানকালীন কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে (বৃটিশ সময় রাত ১০টা) মায়ামি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে নরওয়ে।
সূত্র- মেট্রো
