টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর মসজিদুল কুবা মহিলা মাদ্রাসা ও হিফজখানায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই কন্যাশিশু। অন্যদিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও পাঁচলাইশে পৃথক ঘটনায় ২ শিশুর প্রাণহানি ঘটে।
ক্যাম্পের মাঝি সাব্বির মানবজমিনকে জানান, ভূমিধসের সময় হিফজখানার ভেতরে ৩০ জনের বেশি ছাত্রী অবস্থান করছিল। আকস্মিকভাবে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে ভবনের উপর পড়ে। স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ১৪ জনকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে চারজনের মৃত্যু হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মারা যান। আহত ছয়জন বর্তমানে ক্যাম্পের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া চারজন হলেন- রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। আহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে আসরা (৯), বেগম জান (১৫) ও ফারেসা বিবি (১২)-এর। অন্য হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিতের কাজ চলছে।
এর আগে, রোববার গভীর রাতে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়। কয়েকদিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় এই প্রাণহানির ঘটনায় বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড় ধসের ঝুঁকি আবারো সামনে চলে এসেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেওয়াল ধসের ঘটনায় দুই দিনে চারজনের প্রাণহানি হয়েছে। বুধবার সীতাকুণ্ড ও নগরের পাঁচলাইশে পৃথক পাহাড় ধসে ১০ মাস বয়সী এক শিশু ও ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে পাঁচলাইশের রহমাননগরে দেওয়াল ধসে এক যুবক এবং রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলিনগরের পাশে ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড়ের মাটির একটি অংশ ধসে একটি কাঁচা ঘরের উপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীর (১০ মাস) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সে ওই এলাকার বাগানবাড়ির বাসিন্দা মহিন উদ্দীনের ছেলে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি ধসে কাঁচা ঘরের উপর পড়ে। এতে ঘরে থাকা শিশুটির মৃত্যু হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একইদিন সকাল ৯টার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানার চশমা হিল এলাকার মেয়র গলির এয়াকুব আলী মসজিদের শেষ প্রান্তের ৩ নম্বর গলিতে পাহাড় ধসে সুমাইয়া আক্তার (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। সে স্থানীয় বাবুর কলোনির বাসিন্দা মো. ফারুকের মেয়ে। পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়া কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
