পুলিশ এনকাউন্টার নিয়ে সমালোচনার ঝড়

পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর কাণ্ড

পুলিশ এনকাউন্টার নিয়ে সমালোচনার ঝড়

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক কিশোরীর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর এখনো এলাকা থমথমে। এরই মধ্যে বারুইপুর কাণ্ডের অন্যতম এক অভিযুক্ত পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন। বারুইপুর কাণ্ডে ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে রোববার প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকারের প্রচলিত এনকাউন্টার তত্ত্বের অনুসরণে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের আমলেও এনকাউন্টার শুরু হলো। পুলিশের এই এনকাউন্টার নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিজেপি’র মতে, সরকার ‘উদাহরণ’ তৈরি করেছে। একে দৈববিচারের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিজেপি’র মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তৃণমূল’ এই ঘটনায় সরকারের প্রশংসাই করছে। ঋতব্রত গোষ্ঠীর নেত্রী তথা কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আইনে এনকাউন্টারের বিধান রয়েছে। কোনো অপরাধী যদি পালাতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে তখন তাকে এনকাউন্টার করা যায়। রাজ্য সরকার যা বলছে, তাতে আমরা ভরসা রাখছি। আমরা সব সময় চাই ধর্ষকদের চূড়ান্ত শাস্তি হোক।’’

সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য এই এনকাউন্টারকে ‘রূপকথার গল্পের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার কথায়, ‘‘এনকাউন্টার করা হবে, এটা আগে থেকে পরিকল্পনা করা ছিল। এটা সুপরিকল্পিত। যোগীর স্টাইলে মূল সাক্ষীকে মেরে ফেলা।’’ মমতাপন্থি তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী তথা কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে রাতের অন্ধকারে পুলিশি এনকাউন্টারে প্রভাসের মৃত্যুর ঘটনাকে উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে তুলনা করেন। মহুয়া বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন উত্তরপ্রদেশ মডেল চলছে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের কটাক্ষ, পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলরাজ শুরু হয়েছে। এনকাউন্টারের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্তে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারী আধিকারিক। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন পুলিশ অফিসারও। ঘটনার পুনঃনির্মাণ করার উদ্দেশ্যেই প্রভাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই তিনি পুলিশের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সকালে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ তাকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দোষীদের গ্রেপ্তারি এবং কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন এলাকাবাসী। ওই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে আটক হন প্রভাস। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ধর্ষণ-খুনের মামলায় সেটাই ছিল প্রথম গ্রেপ্তারি।

উল্লেখ্য, বারুইপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। পুলিশের ভূমিকাও আতশকাঁচের নিচে রয়েছে, তা জানিয়েছেন ডিজি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন