জুলাই সনদ নিয়ে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে

জুলাই সনদ নিয়ে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে

ফন্ট সাইজ:

জুলাই সনদকে অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলে বিএনপি জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তারা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন জুলাই চার্টার একটা অন্তহীন প্রতারণার দলিল। আর এই সংসদে দাঁড়িয়ে তারা আবার প্রমাণ করলেন তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছেন। গতকাল রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের দায়বদ্ধতা’ শিরোনামে সেমিনার আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে জামায়াতসহ ১১ দলকে হারানো হয়েছে। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিচয় ছিল নিরপেক্ষ ও দলনিরপেক্ষ। কিন্তু তারাও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। পরে বিষয়টি স্বীকারও করা হয়েছে।

বিএনপি নিজেদের দেয়া কথা না রেখে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করে জামায়াত আমীর বলেন, আমরা বিস্মিত হলাম, জাতীয় সংসদের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রতারণার আত্মস্বীকৃত সাক্ষী পাওয়া যায়। ভালো হয়েছে জাতি চিনে ফেলছে, এখন আর অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই। ওখানে যা বলা হয়, কার্যত তা লেখা হয়ে যায়, ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়, যদি এটা এক্সপাঞ্জ না হয়ে থাকে। যেহেতু এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হয় নাই, কাজেই এই আত্মস্বীকৃতিও রেকর্ড হয়ে থাকলো।

রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের সুবিধামতো অবস্থান পরিবর্তন করে, তাহলে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে বলেও জানান জামায়াত আমীর।

নির্বাচনে ‘ষড়যন্ত্র’ করে ১১ দলীয় ঐক্যকে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিরোধী দলের নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল সেদিন রিভোল্ট (বিদ্রোহ) করলে বা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে, এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো, তা কেউ জানে না। তাই ১১ দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন হবে জানিয়ে বিরোধী দলের নেতা বলেন, আমরা সংসদের ভেতরে চিৎকার দেবো। রাজপথে সমানতালে আমাদের আন্দোলন চলছে, আরও বেগবান হবে। দিনের পর দিন ঝড়-বৃষ্টি সবকিছু উপেক্ষা করে এ পর্যন্ত আন্দোলন বাস্তবায়ন হয়েছে। লোহা গরম হয়ে লাল হতে একটু সময় লাগে। কিন্তু লাল যখন হবে, তখন জনগণ হাতে মুগুর নিয়ে ঠিকমতোই পেটাবে।

বিএনপি’র প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। নির্বাচন করেছি, সরকার পরিচালনা করেছি, রাজনীতি করেছি। কিন্তু এখন আমাদের কোনো কোনো বন্ধুর ভাষা ও বক্তব্যে মনে হয়, তারা জীবনে আমাদেরকে কোনোদিন দেখেন নাই। ভুলে গেছেন এত তাড়াতাড়ি? স্মরণ হতে সময় লাগবে না, একটা ঝাঁকুনিই যথেষ্ট।

গণভোটের রায় নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা এই বার্তাটিই দিতে চাই যে, জাতির রায়ের অপমান সহ্য করবেন না। জাতির রায়কে সম্মানিত করার জন্য আমাদের লড়াই চলছে। আমরা জাতিকে সঙ্গে নিয়েই বিজয়ী হবো। বাংলাদেশের জন্য বিজয়ী হবো।

জুলাই যোদ্ধাদের অপমান করার দুঃসাহস কেউ যাতে না দেখায়, সে ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেন জামায়াতের আমীর। তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে, আপনারা সংযত হন। সংযত না হলে জনগণের উত্তাল ঢেউ আর জোয়ারে সমস্ত জঞ্জাল ভেসে যাবে। আইন আমরা হাতে তুলে নেয়ার পক্ষে নই। কিন্তু আমরা তাও বলবো যে কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে জুলাইকে অপমান করার দুঃসাহস আর দেখাবেন না। যদি দেখান, মনে রাখবেন, এই যুবসমাজ, এই জনতা এখনো ঘুমিয়ে যায়নি।

সেমিনার সঞ্চালনায় ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। প্রবন্ধ পাঠ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকউটর তাজুল ইসলাম। এ ছাড়াও সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ১১ দল আপনার শত্রু নয়। আমরা আপনার ও দেশের কল্যাণ চাই। আপনার চারদিক শত্রু দ্বারা বেষ্টিত। আপনি ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন করবেন না। আর দেশের মঙ্গল ও আপনার কল্যাণের জন্য সংস্কারের বিষয়গুলো মেনে নিন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন