স্পেনকে ‘একঘরে’ করার হুমকি ট্রাম্পের, বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

স্পেনকে ‘একঘরে’ করার হুমকি ট্রাম্পের, বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ইউরোপের প্রতি দীর্ঘদিনের অসন্তোষ আবারও প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৮ জুলাই) তিনি বিশেষ করে স্পেনকে লক্ষ্য করে কঠোর মন্তব্য করেছেন এবং দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও সফর বন্ধের আহ্বান জানান।

এদিন ট্রাম্প বলেন, আমি স্পেনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিন, এমনকি সেখানে ভ্রমণও। তিনি আরও দাবি করেন, তারা আশাহীন, খারাপ মানুষ।

তবে ট্রাম্পের এই হুমকি বাস্তবে কার্যকর হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অতীতেও তিনি চীন, ইরান, গ্রিনল্যান্ড ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিলেও পরে অনেক ক্ষেত্রেই সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য হওয়ায় স্পেনের বৈদেশিক বাণিজ্য ইইউর যৌথ বাণিজ্য নীতির আওতায় পরিচালিত হয়। ফলে শুধু স্পেনকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেয়া সহজ নয়। কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর মধ্যে সর্বশেষ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
যদিও ট্রাম্প ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স আরোপ করবে, তাদের ওপর তিনি ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারেন, যা ওই চুক্তির পরিপন্থী হতে পারে।

এ বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র ওলোফ গিল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের যৌথ বিবৃতিতে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশা করছে, যেমনটি ইইউ নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় কমিশন সব সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সব সদস্য রাষ্ট্রের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখবে।

ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুগেলের জ্যেষ্ঠ ফেলো জ্যাকব ফাঙ্ক কিরকেগার্ড বলেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই স্পেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন, তাহলে কার্যত তা পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ হবে এবং এর ফলে একটি বড় ধরনের বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হতে পারে।

তবে ট্রাম্পের এমন বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। কিরকেগার্ডের ভাষায়, এটি মূলত ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর একটি চেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু তিনি যে ধরনের আইনি পরিবর্তনের কথা বলছেন, তা বাস্তবায়নের মতো কোনো আইনি ভিত্তি তার আছে কি? আমার মতে, এর উত্তর খুব স্পষ্ট- না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন