ইন্দোনেশিয়ার যোগ্যাকার্তায় অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রামবানান মন্দির কমপ্লেক্স সংস্কার কাজ শেষ হলে এর উদ্বোধনে আবারও ইন্দোনেশিয়া সফরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার (৮ জুলাই) ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে প্রামবানান মন্দির প্রাঙ্গণে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে মোদি এ প্রতিশ্রুতি দেন। মোদি বলেন, আজ আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট প্রাবোও আমাকে প্রতিশ্রুতি দিতে বলেছেন যে, ২০২৯ সালের আগেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এবং সংস্কার শেষে মন্দির কমপ্লেক্সের উদ্বোধনে আমি আবার ইন্দোনেশিয়ায় ফিরব। উপস্থিত সবার সামনে আমি সেই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। তিনি জানান, দুই দেশ ২০২৯ সালের আগেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সংস্কার শেষ হলে তা জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি আশা প্রকাশ করেন, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এই স্থানের সংস্কার শেষ হলে ভারত থেকে আরও বেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী সেখানে ভ্রমণ করবেন। সংস্কার প্রকল্পের পরিকল্পনার কৃতিত্ব ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে দিয়ে মোদি বলেন, সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতার কারণে পরিকল্পনা প্রণয়নে তার দক্ষতা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা দেখেই তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই সংস্কার কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ১ হাজার ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হিন্দু মন্দিরটি সংরক্ষণ করায় ইন্দোনেশিয়ার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোদি। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনা সংরক্ষণে ইন্দোনেশিয়া সরকারের ভূমিকাও তিনি প্রশংসা করেন। সফরজুড়ে আন্তরিক আতিথেয়তা এবং ব্যক্তিগতভাবে সবকিছু তদারকি করার জন্য প্রেসিডেন্ট প্রাবোওরও ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে প্রাবোও ও মোদি আকাশপথ ও স্থলপথে প্রামবানান মন্দির কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরে তারা যৌথভাবে ‘ইন্দোনেশিয়া-ভারত যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্প’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী ফাদলি জোন জানান, এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকা ‘পেরওয়ারা’ নামে পরিচিত ছোট ছোট মন্দিরসদৃশ স্থাপনাগুলোর পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করা হবে।
