সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। টানা তিন দিনের শুনানি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।
বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ড. শরীফ ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ কয়েকজনের করা রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান বাতিল ঘোষণা করেন।
২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৫টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল। হাইকোর্ট নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। একইসঙ্গে সংবিধানে সংযোজিত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ এবং গণভোট বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারাও বাতিল ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয়করণের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো—গণতন্ত্র ও জনগণের সার্বভৌমত্ব—ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। এর ফলে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করে।
রায়ে আরও বলা হয়, ৭ক অনুচ্ছেদের বিধান অস্পষ্ট এবং এটি ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে। ৭খ অনুচ্ছেদ ভবিষ্যৎ সংসদের সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সীমিত করেছে এবং বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতাও খর্ব করেছে। এছাড়া ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।
তবে হাইকোর্ট পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি। রায়ে বলা হয়, অবশিষ্ট বিধানগুলো ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে।
হাইকোর্টের এই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ তৈরি হলেও রিটকারীরা এতে সন্তুষ্ট না হয়ে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে আপিল করেন। সেই আপিলের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।
