টানা ভারী বর্ষণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের জনজীবন। নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। সড়কে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে আজকে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার এইসএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে মৃত্যু হয়েছে একজনের।
সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ বুধবারও অব্যাহত থাকায় মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, কাতালগঞ্জ, বাদামতলী, মোহরা ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও যানবাহন বিকল হয়ে সড়কে আটকে পড়ায় দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। অনেককে জুতা হাতে নিয়ে বা প্যান্ট গুটিয়ে জলমগ্ন সড়ক পাড়ি দিতে দেখা গেছে। গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিছু এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ আরও ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় নালা-নর্দমা উপচে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতিও কমে গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
