নগদে বিদেশি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব ব্যারিস্টার আরমানের

ফন্ট সাইজ:

ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদে বিদেশি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্যারিস্টার আরমান সাংবাদিকদের জানান, প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারীরা বিদেশি এবং তিনি তাদের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে প্রাথমিক যোগাযোগ করছেন। বিনিয়োগকারীরা দেশে এলে মূল আলোচনা শুরু হবে বলেও জানান তিনি। তবে কোনো দেশের বিনিয়োগকারী বা কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তিনি কাজ করছেন-সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি। রাজনৈতিকভাবে আলোচিত এই সংসদ সদস্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগকারী’ থাকলে তবেই আরমানের আইন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করবো। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি চিঠিতে গ্রহণযোগ্য বিনিয়োগকারীর নামও উল্লেখ নেই।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর পরিচয়, সংশ্লিষ্ট খাতে অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ; এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে হবে। আর যদি দেশীয় বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসেন, সে ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীর নাম দেখিয়ে প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানান তিনি। গত বছরের ২৫ই আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গভর্নর ঘোষণা দেন, নগদকে ডাক অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে বেসরকারি খাতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজতে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে এবং তিন থেকে চার মাসের মধ্যে মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। নগদ পরিচালনায় ডাক বিভাগের সক্ষমতা সীমিত। ২০১৯ সালের ২৬শে মার্চ যাত্রা শুরু করা নগদ পরবর্তীতে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সও পায়। তবে বিগত সরকারের সময়ে নিয়ম ভেঙে বিশেষ সুবিধা দেয়ার অভিযোগও ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ২১শে আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক নগদের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরে উচ্চ আদালত সে সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করলে নগদের দায়িত্ব আবার ডাক অধিদপ্তরের হাতে ফিরে যায়।
এদিকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নগদের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন ব্যাংকের ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাবের বিপরীতে ১০১ কোটির বেশি রিয়েল মানির ঘাটতি, ৬৪৫ কোটির ই-মানি ঘাটতি ও অন্যান্য আর্থিক অনিয়ম।
গভর্নর আগেই বলেছিলেন, নগদকে পুনর্গঠনের জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক শক্তিশালী কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন। যেমন- ধাপে ধাপে শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগ করতে সক্ষম কোম্পানি। যাতে নগদকে একটি কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়। এ প্রেক্ষাপটে আরমানের প্রস্তাব কতোটা অগ্রসর হবে, তা নির্ভর করছে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের পরিচয় ও সক্ষমতার ওপর। এখন নজর থাকবে-আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও বিনিয়োগকারীর বিস্তারিত তথ্য কবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা পড়ে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন