আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে চোখধাঁধানো এক গোল করে ম্যাচ ২-২ সমতায় ফেরান কেপ ভার্দের সিডনি লোপেস কাবরাল। তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পয়নদের বিরুদ্ধে সেই জাদুকরী গোলের চেয়েও এখন ফুটবল বিশ্বে বেশি চর্চা হচ্ছে তার দুই মিনিট দীর্ঘ এক পাগলাটে উদযাপনের। শেষ ৩২-এর ম্যাচে সমতাসূচক গোলটি করার পর যেন হুশ হারিয়ে ফেলেন এই ডিফেন্ডার। ফিফার সব নিয়ম-কানুন আর প্রোটোকল ভেঙে গ্যালারির দিকে ছুটে যান তিনি। ঠিক যেন কালজয়ী ‘রকি’ চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যে সিলভেস্টার স্ট্যালনের তার প্রেমিকা ‘আদ্রিয়ান’কে ডাকার মতো আর্তনাদ!
কাবরাল গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে পাগলের মতো খুঁজছিলেন তার হবু স্ত্রী ও দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জেইলি দা ক্রুজকে। মাঠে রেফারি, লাইন্সম্যান থেকে শুরু করে নিরাপত্তাকর্মী- সবাই তাকে মাঠে ফেরার তাগিদ দিচ্ছিলেন। এমনকি অবাক হয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনার ফুটবলাররাও রেফারির কাছে কার্ডের দাবি তুলছিলেন না।
সবাই যেন এই রোমান্টিক মায়াজালে আটকে গিয়েছিলেন। প্রায় দুই মিনিট পর অবশেষে জেইলি সামনে আসেন এবং গ্যালারির গ্রিল টপকে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। এই অবিশ্বাস্য ঘটনার পর ইন্টারনেট দুনিয়ায় কাবরালের নামই হয়ে গেছে ‘দ্য লাস্ট রোমান্টিক’ বা ‘শেষ খাঁটি প্রেমিক’।
কে এই জেইলি দা ক্রুজ? নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেয়া কেপ ভার্দের এই ডিফেন্ডারের মন জয় করা জেইলি পেশায় একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তবে শুধু সোশ্যাল মিডিয়া নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতায়ও তিনি বেশ সমৃদ্ধ। জেইলি ‘কমিউনিকেশন অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্সেস’ (যোগাযোগ ও মানবসম্পদ) বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী।
ম্যাচ শেষে প্রেমিকের এমন ঐতিহাসিক গোল এবং মাঠের সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে জেইলি লিখেছেন, ‘আমি আমার জীবনে কখনোই এতটা গর্বিত বোধ করিনি।’ মাঠের এই দুই মিনিটের রোমান্স সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঝড় তুলেছে। এই ঘটনার পর রাতারাতি জেইলির ইনস্টাগ্রামের ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারে পৌঁছে গেছে। এবং তার প্রেমিক কাবরালের ফলোয়ার লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজারে।
ম্যাচ শেষে নিজের সেই পাগলাটে উদযাপন নিয়ে কাবরাল বলেন, ‘গোলটা করার পর আমি আসলে কী করছিলাম, নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বিশ্বমঞ্চে এমন একটা গোল করবো, তা কখনো ভাবিনি। আমাদের দলটা এর চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য ছিল। বিদায়টা কষ্টের... তবে আমরা চার বছর পর আবার ফিরে আসব।’
