তারকাদের ওপর বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক আক্রমণ, ‘ফিফপ্রো’র চরম উদ্বেগ

তারকাদের ওপর বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক আক্রমণ, ‘ফিফপ্রো’র চরম উদ্বেগ

ফন্ট সাইজ:

মাঠের লড়াই যত জমে উঠছে, বিশ্বকাপে ফুটবলারদের ওপর বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক আক্রমণের মাত্রাও তত আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। টুর্নামেন্ট থেকে একের পর এক দলের বিদায়ের পর খেলোয়াড়দের ওপর অনলাইন এবং অফলাইনে এই হয়রানি ও হেনস্তা চরম রূপ ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের সুরক্ষায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সব পক্ষকে সম্মিলিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বৈশ্বিক খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন ‘ফিফপ্রো’।

শেষ ১৬-র রোমাঞ্চে প্রবেশ করার মুহূর্তে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফুটবলারদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিফপ্রো। নেদারল্যান্ডসের জাস্টিন ক্লাইভার্ট, কুইন্টেন টিম্বার এবং ক্রিসেনসিও সামারভিলের মতো তারকারা মরক্কোর বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে পেনাল্টি মিস করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়াবহ বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন।

বিবৃতিতে ফিফপ্রো স্পষ্ট ভাষায় বলে, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফুটবলাররা মাঠে এবং মাঠের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে ও অনলাইনে তীব্র আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন। এর বড় অংশই বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক। মাঠের বাইরে তাদের ভীতি প্রদর্শন ও শত্রুভাবাপন্ন আচরণের শিকার হতে হচ্ছে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পদ্ধতিগত রূপ ধারণ করছে, যা ফুটবল বা সমাজ- কোথাও মেনে নেয়া যায় না। খেলোয়াড়রা দেশের কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ কাঁধে নিয়ে লড়েন। কিন্তু তা কখনোই তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা বা ভালো থাকার মূল্যে হতে পারে না।’

ফিফপ্রো আরও মনে করিয়ে দেয় যে, জাতীয় দলও ফুটবলারদের জন্য একটি কর্মক্ষেত্র এবং সেখানে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। স্রেফ মনিটরিং বা রিপোর্ট করেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘অপরাধীদের জন্য অর্থপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই নেতিবাচক প্রবণতা রুখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণসহ সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।’

ফিফা জানিয়েছে, তাদের ‘সোশ্যাল মিডিয়া প্রোটেকশন সার্ভিস’ গ্রুপ পর্বেই অনলাইন অপব্যবহারের ঘটনা ১৩ গুণ বাড়তে দেখেছে, যার ১১ শতাংশই ছিল সরাসরি বর্ণবাদমূলক। ফিফপ্রো জানিয়েছে, ফুটবলারদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষায় তারা ফিফার সঙ্গে নতুন গঠিত ‘গ্লোবাল সোশ্যাল ডায়ালগ প্ল্যাটফর্ম’-এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন