ভাইকিং আধিপত্য ভাঙার মিশনে ব্রাজিল

ভাইকিং আধিপত্য ভাঙার মিশনে ব্রাজিল

ফন্ট সাইজ:

দুইয়ের বেশি ম্যাচ খেলেও ব্রাজিল হারাতে পারেনিÑ এমন দল কয়টি আছে? পরিসংখ্যান ঘাঁটলে একটাই উত্তর মিলবে- নরওয়ে। ভাইকিংদের বিপক্ষে চার দেখাতেও জয়হীন সেলেসাওরা! ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দেখা হয় তাদের, সেবার স্টাদ ভেলোদ্রোমে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল নরওয়ে।

উড়ন্ত ফর্মে থাকা বেবেতো-রোনালদোদের মাটিতে নামিয়ে এনে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটনের জন্ম দিয়েছিল তারা। তাদের বিপক্ষেই যখন আজ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই, প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই উঠছেÑ মেটলাইফে ব্রাজিল পারবে তো এবার? আরলিং হালান্দের মতো গোলমেশিনকে নিয়ে এই নরওয়ে কিন্তু আরও ভয়ঙ্কর। আর নরওয়ে কোচ স্টালে সোলবাকেন তো মজাচ্ছলে হুমকিই দিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ করা এক পোস্টে দেখা গেছে ড্রেসিংরুমে সোলবাকেন বলছেন, ‘কার্লো আনচেলত্তি, আমরা আসছি।’ ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় নরওয়ে। ২৮ বছর পর ভাইকিংসদের বিশ্বমঞ্চে ফিরিয়েছেন আরলিং হালান্দ-মার্টিন ওডেগার্ডরা। রাউন্ড অব ৩২-তে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারানোর পর নরওয়ের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। হালান্দ নিজেও কাটাচ্ছেন সুসময়। চলতি আসরে তিন ম্যাচেই করে ফেলেছেন পাঁচ গোল। আসরে নরওয়ের করা অর্ধেক গোলই তার। তবে সেলেসাও তারকা এনড্রিক মোটেও ভীত নন। চার অ্যাটাকার ও দুই মিডফিল্ডারের আক্রমণাত্মক ছকেই খেলার আভাস দিলেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড বলেন, ‘তিনি (কোচ কার্লো আনচেলত্তি) ভয় পান না। যেটা ঠিক মনে করেন সেটাই করেন। শেষ পর্যন্ত সফলও হন। মনে হয় যেন ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ দিচ্ছেন। আমরা সবাই কোচের পরিকল্পনা অনুসরণ করছি। আমার মনে হয় এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে।’ আর নরওয়ে কোচ স্টালে সোলবাক্কেন এর আগে করা এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলকেই ‘ফেভারিট’ বলেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল অবশ্যই ফেভারিট। তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বকাপ জয়েরও অন্যতম দাবিদারা ওরা। কিন্তু ভাগ্য আমাদেরকে ওদের মুখোমুখি করেছে । এখন নিজেদের সেরাটাই খেলতে হবে।’ আর হেক্সা মিশনে থাকা ব্রাজিল কঠিন এক পরীক্ষায় উতরে এসেছে তৃতীয় রাউন্ডে। জাপানের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। শেষতক গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির যোগ করা সময়ের গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় সেলেসাওদের। এনড্রিকের আত্মবিশ্বাসী বার্তা, ‘আমরা আবারও যদি পিছিয়ে পড়ি তাহলে গত ম্যাচে যা করেছিলাম তাই করবো। আমাদের শান্ত থেকে একতাবদ্ধভাবে জয় খুঁজতে হবে। আমরা জানি এটা নকআউট, আমাদের এখন খুনির ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।’ চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরলেও নরওয়ে ম্যাচে থাকছেন না রাফিনহা। এছাড়া লুকাস পাকেতার খেলাও অনিশ্চিত। পাকেতা খেলতে না পারলে তার জায়গা নিতে পারেন দানিলো সান্তোস। জাপানের বিপক্ষে চোট পেয়েছিলেন মিডফিল্ডার কাসেমিরোও। তার ফিটনেস দুশ্চিন্তায় ফেলেছে ব্রাজিলকে। যদিও তার খেলা নিয়ে খুব একটা সমস্যা হবে না বলেই জানা গেছে। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কুনহার সঙ্গে রায়ান জুুটি বাঁধবেন। এনড্রিক সম্ভবত এই ম্যাচেও বদলি হিসেবে নামতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, চোটের কারণে ব্রাজিলের বিপক্ষে সম্ভবত রাইট-ব্যাক জুলিয়ান রাইয়ারসনকে পাচ্ছে না নরওয়ে। সেনেগালের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে মাত্র ১৩ মিনিট খেলে মাঠ ছেড়ে যান তিনি। মিস করেছেন ফ্রান্স ও আইভরি কোস্ট ম্যাচও। ফলে রাইট-ব্যাকে আবারও শুরু থেকে দেখা যেতে পারে মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসেনকে। তার সঙ্গে রক্ষণভাগে থাকবেন ক্রিস্টোফার আয়ের, টরবিয়র্ন হেগেম ও ডেভিড মোলার উলফে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের দায়িত্বে থাকবেন সান্ডার বের্গে। তার সঙ্গে অ্যাটাকি মিডে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও প্যাট্রিক বের্গ। আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন হালান্ড। তাকে দুই প্রান্ত থেকে সহায়তা করবেন আলেকজান্ডার সোরলথ ও আন্তোনিও নুসা। আর গোলবারের নিচে যথারীতি অভিজ্ঞ ওরইয়ান নিলান্ড। ইউরোপের দেশটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে তার হাতেই ভরসা রাখছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন